১০০ শয্যার হাসপাতালে ৩৩ শয্যার জনবল

mghমুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য
মুন্সীগঞ্জের ১০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এখন কিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের দৌরাত্ম্য চলছে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ও জেলা বিএমএর এক নেতা। সম্প্রতি হাসপাতালের ভেতরে বহিরাগত কোনো কিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল প্রবেশ করা নিষেধ করে দিয়েছিলেন জেলার সিভিল সার্জন। এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই আবার আগের অবস্থা ফিরে এসেছে। এখন হাসপাতালের ভেতরের প্রতিটি ডাক্তারের রুমে দেখা যায় দালালদের। আর খোদ কিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকেরাও কখনো কখনো দালালের ভূমিকা পালন করেন। প্রধান ফটক থেকে শুরু করে ইনডোর ও আউটডোরে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব দালালের জন্য রোগী ও রোগীর লোকজনের ভেতরে প্রবেশ মুশকিল হয়ে পড়ে।

গত ১৩ মার্চ সকালে জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীর চেয়ে দালালই বেশি। দালালদের কাছে প্রতারিত ভুক্তভোগী ৮০ বছরের বৃদ্ধ জাহানারা বেগম বলেন, পাঁচ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ডাক্তার দেখিয়ে শেষ করতে না করতেই বোরখা পরা এক মেয়ে আমাকে টেনে নিয়ে গেল হাসপাতালের সামনে মেডিল্যাব নামে এক রক্ত পরীা সেন্টারে। সেখানে আমার সাথে কোনো কথা না বলেই রক্ত-প্রস্রাব নিয়ে একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়ে দুই হাজার টাকা হয়েছে বলে সব টাকা রেখে দিলো। সাথের সব টাকা ওই ডায়াগনস্টিক মালিক নিয়ে নেয়ায় তার ওষুধ কেনার আর কোনো টাকা ছিল না। এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে এ হাসপাতালে।

জেনারেল হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনেই গড়ে উঠেছে ১০-১২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট কিনিক। এসব সেন্টারের মালিক হাসপাতালের আউটডোরের কয়েকজন ডাক্তারকে ম্যানেজ করে দিব্বি ব্যবসায় করে যাচ্ছেন।

সরেজমিন পরিদর্শনে আরো জানা গেছে, জেনারেল হাসপাতালটিতে অনেক ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ছয় মাস ধরে অর্থোপেডিকস বিভাগে ডাক্তার নেই। চু বিভাগে ডাক্তার নেই চার মাস। মেডিসিন বিভাগ ডাক্তারশূন্য প্রায় আট বছর। শিশু কনসালট্যান্ট ডা: আশরাফুলই দেখেন মেডিসিন বিভাগ ও ইনডোরের রোগীদের। এমনকি আল্ট্রাসনোগ্রাফির ডাক্তারও নেই চার মাস ধরে। বহির্বিভাগের প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার নেই বলে রোগীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

টঙ্গীবাড়ি উপজেলার চরবেশনাল থেকে আসা রোগী মতিয়া বেগম জানালেন, চিকিৎসার দরকার তাই ভর্তি হয়ে নিচে শুয়ে আছি। এখানে অনেক অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক রোগীকে স্বজনেরা হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান বেসরকারি কিনিকে।

হাসপাতালের কেবিন ও জেনারেল বেডের টয়লেট সবই অপরিষ্কার। পানির কল নষ্ট থাকায় আরো বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় রোগীদের। চাপকল দু’টি প্রায়ই নষ্ট থাকে, ফলে রোগীরা খাবারের পানিও ঠিকমতো পায় না। হাসপাতালের বেডগুলোর বেশির ভাগ ভাঙা। যেসব বেড কোনো রকম ঠিক আছে, তার আবার বিছানা নেই। এতে রোগীদের অসুবিধা হয় বিধায় ফোরে থাকতে হয় নিজস্ব বিছানা পেতে। জনবলের অভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নও হয় না সঠিকভাবে। ওয়ার্ডের সব লাইট জ্বলে না, বেশির ভাগ ফ্যান নষ্ট। এতে হাসপাতালের ভেতরে অন্ধকার থাকে। কোনো গার্ড বা পাহারাদার নেই।

নতুন সিভিল সার্জন আসার পর গাইনি বিভাগ খানিকটা উন্নত হলেও কোনো আউটডোর-ইনডোরে উন্নতি হয়নি। কিনিকের দালালেরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাসপাতালে এসে থেকে রোগী টানাহেঁচড়া করে।

এসব ব্যাপারে সিভিল সার্জন শরিফুল আলম বলেন, জেনারেল হাসপাতালে এখন রোগীর চেয়ে দালাল বেশি। হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল দালালদের ভেতরে ঢুকতে না দিতে। তারা ব্যর্থ। তাই এখন আনসার-পুলিশ দিয়ে দালালমুক্ত করা হবে। আশা রাখি দুই এক দিনের মধ্যে হাসপাতালে আর ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোনো দালাল থাকবে না। কোনো দালালকে যেন ডাক্তার-নার্সরা আশ্রয়-প্রশ্রয় না দেয় সে ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নয়াদিগন্ত