আলু চাষে লাভের মুখ দেখছে কৃষক

potato34রাজধানীর উপকন্ঠ মুন্সীগঞ্জে পাইকারী বাজারে এক লাফে চলতি মাসের শুরু থেকে জেলার ৬ টি উপজেলার ৬৭ টি ইউনিয়ন জুড়ে জমিনে আলু তোলার ধুম পড়ে। শুরুতে উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দাম ছিল।

আলু উত্তোলন মৌসুমের শুরুতে মন প্রতি বিক্রি দর ছিল ২’শ ৩০ টাকা থেকে ২’শ ৪০ টাকা। দাম বেড়ে বর্তামে প্রতি মন আলু বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৩’শ টাকা থেকে ৪’শ টাকা।

লাভের মুখ দেখায় কৃষকের আলু তোলা মৌসুম এখন উৎসবে রুপ নিয়েছে। জেলার ৫০ হাজার কৃষকের ঘরে এখন বইছে আনন্দ বন্যা। জমিনে পুরুষের পাশাপাশি নারী কৃষক সমানতালে আলু তোলায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

সরেজমিনে সদর উপজেলার চরকেওয়ার ও আধারা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে- ঘরে-বাইরে আলু শুধুই আলু। বস্তাভর্তি ও স্তুপাকার করে জমিতে রাখা সারি সারি আলু।
potato34
সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের তাঁতীকান্দি গ্রামের মোক্তার মাহমুদ জানান, ১ কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ পড়েছে সর্ব-সাকুল্যে ৬-৭ টাকা।

আলু তোলার মৌসুমের শুরুতে পাইকারী বাজারে ১ কেজি আলুর বিক্রি দাম ছিল ৫-৬ টাকা। গত কয়েক দিনে দাম বেড়ে ৯-১০ টাকায় ১ কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে।

এবার বাম্পার ফলন
জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক মো: হাবিবুর রহমান জানান, জেলার টঙ্গিবাড়ী, গজারিয়া, লৌহজং, সিরাজদীখান, শ্রীনগর ও সদর উপজেলায় এবার ৩৭ হাজার ৭’শ ৬৫ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে।

এ থেকে ৬ লাখ ৯২ হাজার ২৫ মেট্রিক টন আলু ফলন হয়েছে। ৩৫ হাজার ২’শ ১ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল।

তিনি আরো জানান, জেলার ৭৫ টি কোল্ড ষ্টোরেজের মধ্যে সচল রয়েছে ৬৭ টি। ৪ লাখ ৭৯ হাজার মেট্রিক টন আলু কোল্ড ষ্টোরেজ গুলোতে সংরক্ষন করার ধারন ক্ষমতা রয়েছে।

প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষনের জন্য কৃষক বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছে। ঘরে-ঘরের বাইরে বাঁশের মাঁচাসহ বিভিন্ন বিকল্প পদ্ধতিতে কৃষক ওই আলু সংরক্ষন করবে।

দাম বাঁড়ায় কৃষক খুশি
“আলুর দাম বেড়েছে, তাই বেশ ভালো লাগছে। বলতে পারেন ভীষন খুশি। এখন লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছি”-কথা গুলো বলেন টঙ্গিবাড়ীর দীপুর গ্রামের কৃষক ছালেম বেপারী।
potato35
তিনি জানান, আলু তোলার শুরুতে উৎপাদন খরচের চেয়ে ২-১ টাকা কমে ১ কেজি আলু বিক্রি করতে হয়েছে। কয়েক দিন যাবত আলুর দাম বেড়েছে। এখন উৎপাদন খরচের চেয়ে ২-১ টাকা লাভে কেজিতে আলু বিক্রি করছেন।

সদরের আধারার কৃষক আক্তার মাহমুদ দাবী করেন- আলুর বিকল্প ব্যবহার খুঁজে বের করতে হবে। দেশের বাইরে রফতানির বাজার প্রসারিত করতে হবে।

ভাতের বিকল্প হিসেবে আলুর ব্যবহার করা গেলে আলু উৎপাদনে কৃষকের লোকসানের আশংকা থাকবে না।

যমুনা নিউজ