অবৈধভাবে রাতে চলছে সিবোট, ঘটছে দুর্ঘটনা

mawaমাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌপথ
মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌপথে রাতে সিবোটে যাত্রী পারাপার নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। সর্বশেষ গত সোমবার সন্ধ্যায় পদ্মায় মাঝনদীতে দুটি সিবোটের মুখোমুখি সংঘর্ষে মনিরুল ইসলাম (৫২) নামের এক যাত্রী নিখোঁজ হন। আহত হন এক পুলিশ কনস্টেবলসহ ১৫ যাত্রী।

মনিরুল ঢাকার মেরিন ফুয়েল সার্ভিসের ব্যবস্থাপক। তাঁর খোঁজে স্বজনেরা গতকাল মঙ্গলবার সারা দিন ট্রলার নিয়ে পদ্মায় ঘুরলেও পাননি। এদিকে দুর্ঘটনায় আহত যাত্রীদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মেরিন ফুয়েল সার্ভিস কোম্পানির পরিচালক মো. শাহজাহান বলেন, ‘মনিরুল ইসলাম তেল নিয়ে কাওড়াকান্দি গিয়েছিলেন। রাতে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।’

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে মাওয়াঘাট থেকে ১২ জন যাত্রী নিয়ে একটি সিবোট কাওড়াকান্দি ঘাটের দিকে রওনা হয়। অন্যদিকে ১৮ জন যাত্রী নিয়ে কাওড়াকান্দিঘাট থেকে অপর একটি সিবোট মাওয়াঘাটের দিকে যাওয়ার সময় দুটি সিবোটের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় ওই স্থান দিয়ে যাওয়ার পথে মালবাহী একটি ট্রলার ও মাওয়াঘাট থেকে আরও দুটি সিবোট গিয়ে যাত্রীদের উদ্ধার করে। কিন্তু যাত্রী মনিরুল নিখোঁজ থাকেন।

মাওয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই খালিদ জানান, একজন যাত্রী নিখোঁজ আছেন। বাকি সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, এক সপ্তাহ আগেও রাতে চলাচলের সময় একটি ফেরির সঙ্গে একটি সিবোটের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তখন অন্তত সাতজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়। এর আগেও রাতে পদ্মা পারাপারের সময় একাধিক সিবোট দুর্ঘটনার কবলে পড়ে একাধিক যাত্রী মারা গেছে। এ কারণে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) রাতে পদ্মায় সিবোট চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু ওই নিষেধ কেউ মানছে না।

বিআইডব্লিউটিএ মাওয়াঘাটের বন্দর কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, রাতে সিবোট চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি দেখার দায়িত্ব পুলিশের। পুলিশ এখানে সঠিক ভূমিকা রাখছে না।

এ ব্যাপারে লৌহজং থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, যাত্রীদের চাপের কারণেই অনেক সময় রাতে বাধ্য হয়ে সিবোট চলতে দেওয়া হয়। এই সংখ্যা অনেক কম।

প্রথম আলো