খোকা সভাপতি সোহেল সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন!

bnpঢাকা মহানগর বিএনপি
সাদেক হোসেন খোকা ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নেতৃত্বে শিগগিরই ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি আসছে। কেন্দ্রীয় রাজনীতির চালিকাশক্তি মহানগর কমিটিকে গতিশীল করতে প্রবীণ আর নবীনের সমন্বয়ে পুনর্গঠনের দিকে এগুচ্ছে দলের হাইকমান্ড। মহানগর বিএনপির উত্তর-দক্ষিণ দুটি কমিটি গঠনের কনসেপ্ট থেকেও সরে এসেছে দলটি।

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যোগ্য অনেক নেতা থাকলেও বিশেষ কতকগুলো বিষয় বিবেচনায় সাদেক হোসেন খোকাকে কা-ারি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও তার খ্যাতি রয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের মতো একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতার দিকটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে দলের নীতি-নির্ধারণী মহল।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে গড়ে ওঠা আন্দোলনে ঢাকা মহানগর নেতৃত্বের ব্যর্থতার বিষয়টিও কমিটি গঠনে গুরুত্ব পায়। কিন্তু আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে কারান্তরীণ থাকায় তেমন তোপের মুখে পড়তে হয়নি সাদেক হোসেন খোকাকে।

গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর ঘোষণা দিয়ে বিএনপি লাগাতার কর্মসূচি দিলেও খোকার নেতৃত্বাধীন মহানগর শাখা নিয়ে দলের ভেতরে প্রশ্ন ওঠে। দলের নীতি-নির্ধারণী ফোরামের একাধিক নেতাও প্রকাশ্যে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন।

প্রসঙ্গত, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে বিএনপির ডাকে সারা দেশের নেতাকর্মীরা রাজপথে নামলেও ঢাকা মহানগরীর কোনো নেতাকে দেখা যায়নি। মহানগর নেতৃত্বের এই রহস্যজনক ভূমিকায় দলের হাইকমান্ডসহ সর্বস্তরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ফেব্র“য়ারির মাঝামাঝি সাদেক হোসেন খোকার অনুপস্থিতিতে মহানগর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ব্যর্থতার দায়ে মহানগর নেতাদের ভর্ৎসনা করেন। ওই সভায় এবং গত ৯ মার্চ দলের স্থায়ী কমিটির সভায় বর্তমান নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে মহানগর কমিটিকে ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, গত ৯ মার্চ বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামের সভায় ‘দ্রুত’ ঢাকা মহানগর কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তের পরই সাদেক হোসেন খোকার অনুসারীদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। জোটের একাধিক শীর্ষ নেতাও খোকার লবিংয়ে যোগ দেন। তারা মহানগরীর কা-ারি হিসেবে খোকাকে পেতে বেশি আগ্রহী। তাই দলের হাইকমান্ডকে রাজি করানোর চেষ্টার ত্রুটি করেননি। নেতাকর্মীদের চোখে মহানগর নেতৃত্বের ব্যর্থতার পাল্লা অনেক বেশি ভারি হওয়ায় হাইকমান্ড তাদের বক্তব্যে প্রথমে কর্ণপাত করেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নির্ভরযোগ্য এক নেতা জানান, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে সদ্য যোগদানকারী এক প্রবীণ নেতার বিভিন্ন যুক্তি মেনে নিয়ে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঢাকা মহানগরীর কা-ারি হিসেবে সাদেক হোসেন খোকাকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নানা বিতর্ক থাকলেও শিগগিরই মহানগরীর আন্দোলনের নেতৃত্ব তার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের এ সূত্র নিশ্চিত করে।

এ ছাড়া তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হচ্ছে। ছাত্র রাজনীতি থেকে বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে এগিয়ে আসা এই নেতা দলের হাইকমান্ডের নেক নজরে রয়েছেন।

চেয়ারপারসনের কার্যালয় সূত্র জানায়, সংগঠনকে গতিশীল এবং সাংগঠনিক কর্মকা- জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে ঢাকা মহানগরীতে উত্তর-দক্ষিণ নামে দুটি কমিটি গঠনে দলে প্রাথমিক আলোচনা হয়। এ বিষয়ে দলের বিভিন্ন ফোরামে অনেক আলাপ-আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত খোকা-সোহেলের নেতৃত্বে একক কমিটি গঠন করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাচন এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কারামুক্তির পরই মহানগরীর কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর ঢাকা মহানগর বিএনপির সভাপতি লে. জে. (অব.) মীর শওকত আলীকে সরিয়ে সাদেক হোসেন খোকাকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মাঝে কয়েক মাস ছাড়া বাকি প্রায় সাড়ে ১৭ বছর মহানগরীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।

আমাদের সময়