রোববার গজারিয়ায় আতঙ্কের নির্বাচন, ভোটাররা শঙ্কিত

upzilalogoআগামীকাল রোববার উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার সর্বত্রই আতঙ্ক বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই দলে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় এবং গত ২দিনসহ কয়েকবার সহিংস ঘটনা ঘটায় এ উপজেলার ৬৫টি ভোট কেন্দ্রই অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ। নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র দখলসহ ব্যাপক রক্তপাতের আশঙ্কায় এখানকার ভোটাররা এখন আতঙ্কিত। নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারবেন কিনা-এ নিয়েও এখানকার ভোটাররা উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় রয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, ভোটের দিন সকাল ১০টার আগেই মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচনের মতো গজারিয়ার সব ভোট কেন্দ্র দখল হয়ে যাবে। কেননা গত ২৭শে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ সদরের সবক’টি (১০৬টি) ভোট কেন্দ্র সকাল ১০টার মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুজ্জামানের পক্ষে দখল হয়ে গিয়েছিল। সহিংসতার আশঙ্কায় এবং একের পর অন্য জনে দিয়ে ফেলায় ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে আর আসেনি।

এদিকে, গজারিয়া উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের দুই প্রার্থী রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা ও আমিরুল ইসলাম সমর্থকদের মধ্যে শনিবার ও শুক্রবারসহ ৫দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শেখ লুৎফর রহমানের সমর্থন নিয়ে চেয়ারম্যান পদে আমিরুল ইসলাম ও স্থানীয় সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাসের সমর্থন নিয়ে রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা দু’প্রার্থীই আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দাবি করছেন।

অপরদিকে, জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাইয়ের সমর্থন নিয়ে চেয়ারম্যানপদে জেলা বিএনপির যুগ্ন-সম্পাদক মজিবুর রহমান ও গজারিয়া উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের সমর্থন নিয়ে গজারিয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল মান্নান মনা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান পদে এ উপজেলায় বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দল দু’টি পড়েছে বাড়তি সমস্যায়। দু’দল সর্ব শক্তি নিয়োগ করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছেন। তবে, সরকারি দলের দুই প্রার্থীকে ঘিরে সেখানে ভোটারদের মধ্যে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দু’জনই মরিয়া যে কোন মূল্যে জয় তাদেরই পেতে হবে। তারা দু’জন এখন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে বহিরাগত ক্যাডারে ছেয়ে গেছে গজারিয়া। সরকারি দলের কতিপয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ক্যাডার ও অস্ত্র ভাড়া করে আনার অভিযোগ উঠেছে। ওইসব অস্ত্রধারী ক্যাডাররা গত ৩দিন ধরে গজারিয়ার অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন বলে একাধিক প্রার্থীর অভিযোগ।

এদিকে, শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার গজারিয়া উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের প্রধান ফটকে জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বীর প্রতীক (৬০) ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান দেওয়ান (৫৫)কে কুপিয়ে জখম করা হলে তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ সময় তাদের প্রাইভেটকারও ভাঙচুর করা হয়। আহত ওই ২শীর্ষ নেতা চেয়ারম্যান প্রার্থী আমিরুল ইসলাম সমর্থক। এ ঘটনায় দুপুর ১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান প্রার্থী আমিরুল ইসলাম সমর্থকরা ভাটেরচর এলাকায় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এর আগে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত গজারিয়া উপজেলা গজারিয়া ইউনিয়নের সোনালী মার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের কাছে ওই ২ চেয়ারম্যান প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। সংঘর্ষকালে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের চেয়ার ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আমিরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের অপর প্রার্থী স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস সমর্থিত রেফায়েত উল্লাহ খান তোতার পক্ষে কাজ করতে নারায়নগঞ্জের এমপি শামীম ওসমান ও নারায়নগঞ্জের ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর (সিদ্ধিরগঞ্জ) নূর হোসেনের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী মোটর সাইকেল নিয়ে গজারিয়া চষে বেড়াচ্ছে। ওইসব ক্যাডাররা নির্বাচনের দিন তোতার পক্ষে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছেন। এদের সঙ্গে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন-অর রশীদও রয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা বলেন, আমি শান্তির রাজনীতি করি। শান্তিপূর্ণভাবে চলতে পছন্দ করি বিধায় গজারিয়াবাসী আমাকে চেয়ারম্যান বানিয়েছে, এবারও বানাবে ইনশাআল্লাহ। তিনি আরো বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী আমিরুল ইসলাম ক্যাডার বাহিনী দিয়ে একের পর এক আমার সমর্থকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। বাইরে থেকে লোক ভাড়া করে গজারিয়ার শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশের ব্যাঘাত সুস্টি করছে।

এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস বলেন, আমি গজারিয়ায় একদিনের জন্যও যাইনি। দলীয় প্রতিপক্ষরা নানা রকম কথাবার্তা ছড়ালে আমার করার কিছুই নেই। আমি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই।

সূত্র মতে, ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গজারিয়া উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার ১০৩টি। এরমধ্যে পুরুষ ৫৩ হাজার ২৩ জন ও মহিলা ৫৩ হাজার ৮০জন। মোট ভোট কেন্দ্র ৪৫টি।

গজারিয়া উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন- বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা (দোয়াত কলম), গজারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম (মোটর সাইকেল), ইমামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইমামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মুনছুর অহম্মেদ জিন্নাহ (টেলিফোন), গজারিয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি ও বাউশিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান দেওয়ান মনা (ঘোড়া), মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক মুহা মজিবুর রহমান (আনারস) ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আলহাজ কলিমউল্লাহ (কাপ পিরিচ)।

এছাড়া, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাংবাদিক মোস্তফা সারোয়ার বিপ্লব (উড়োজাহাজ), বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এছাক আলী (চশমা), বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আসাদুজ্জামান জামান (তালা) রয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সমর্থিত মুক্তা বেগম (সেলাই মেশিন), সুরাইয়া সরকার (ফুটবল) ও বিএনপি সমর্থিত কলিমউল্লাহ কলেজের অধ্যাপিকা ফরিদা ইয়াসমিন (কলম) লড়ছেন।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা