পদ্মা সেতু তহবিলে সাড়া নেই

padmaআবু কাওসার: এ যেন হঠাৎ আলোর ঝলকানি। দেশব্যাপী আকস্মিক সাড়া ফেলেছিল যে সিদ্ধান্ত, তাই এখন অসার। ঘটনাটি দুই বছর আগের। পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংক টাকা দেয়নি বলে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকেনি সরকার। প্রয়োজনে জনগণের কাছ থেকে চাঁদা তুলে দেশবাসীর স্বপ্ন পূরণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

এ যেন হঠাৎ আলোর ঝলকানি। দেশব্যাপী আকস্মিক সাড়া ফেলেছিল যে সিদ্ধান্ত, তাই এখন অসার। ঘটনাটি দুই বছর আগের। পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংক টাকা দেয়নি বলে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকেনি সরকার। প্রয়োজনে জনগণের কাছ থেকে চাঁদা তুলে দেশবাসীর স্বপ্ন পূরণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো নির্মাণে সরকারের এমন দৃঢ় অঙ্গীকারের পরিপ্রেক্ষিতে তখন গঠন করা হয়েছিল তহবিল। পদ্মা সেতু নির্মাণে গঠিত সেই ‘তহবিলে’ এখন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। জানা গেছে, এ তহবিলে জমা পড়েছে মাত্র ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এই টাকা জমা পড়ে তহবিল গঠনের শুরুতেই। এর পর আর এগিয়ে আসেনি কেউই। সূত্র জানায়, জমাকৃত টাকার মধ্যে ৪৪ হাজার ২২৪ টাকা স্থানীয় মুদ্রায়, অবশিষ্ট বিদেশি মুদ্রায়।পদ্মা সেতু তহবিলে সাড়া নেই

বিশ্বব্যাংককে ‘না’ করে দেওয়ার পর নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। জনগণের কাছ থেকে সহায়তা পেতে ২০১২ সালে তহবিল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। স্বেচ্ছায় অনুদান হিসেবে ওই তহবিলে টাকা দেওয়ার আহ্বান ছিল। এ বিষয়ে আলাদা একটি নীতিমালাও হয়। যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী সমকালকে বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে গঠিত তহবিলে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। এটি অবশ্য এখনও চালু আছে।এদিকে পদ্মার তহবিল পরিচালনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, এই তহবিলের অর্থ কীভাবে ব্যবহার হবে সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পরিচালনার দায়িত্ব সেতু বিভাগের কাজ। সেতু বিভাগ বলেছে, এ ধরনের তহবিল চালু আছে কি-না সে বিষয়টি তাদের জানা নেই।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রণজিৎ কুমার চক্রবর্তী সমকালকে বলেন, পদ্মা সেতু তহবিলের সংগৃহীত টাকা কীভাবে খরচ করা হবে_ সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী তহবিল পরিচালনার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেতু বিভাগকে। পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুল ইমলাম এই তহবিলের বিষয়ে কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ দেওয়া আছে। সেখান থেকে প্রকল্প ব্যয় করা হয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখায় পদ্মা সেতুর তহবিলে টাকা জমা নেওয়া হয়। শাখা ব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আবুল হাসেম সমকালকে বলেন, এই শাখায় গত এক বছরে এক টাকাও জমা পড়েনি।পদ্মা প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০০ কোটি ডলার বা ২৪ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের শতকরা ৮০ ভাগ খরচ মেটানো হবে বৈদেশিক মুদ্রায় তথা ডলারে। আগামী জুনে সেতুর মূল কাজ শুরু হওয়ার কথা। এর আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করবে সরকার।

সমকাল