সরকারি হরগঙ্গা কলেজে আবাসন সংকট চরমে

hcমুন্সীগঞ্জের সরকারি হরগঙ্গা কলেজের শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে এ সমস্যা চলতে থাকলেও দেখার কেউ নেই। যে যার মতো দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। কেউ শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার সংকট নিয়ে কথা বলছে না। এমন কি কোনো রকম ভাবনা আছে বলেও জানা নেই।

এদিকে, কয়েক বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে পুরনো হোস্টেলটি। বিপদজনক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও ভাঙ্গার কোনো লক্ষণ নেই। হোস্টেলটিতে কেউ না থাকলেও রাস্তা ও কলেজের পাশে অবস্থানের কারণে যেকোন সময় বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে ধারণা কলেজের একাধিক শিক্ষক ও সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের।

এ ব্যাপারে উদাসীন কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাদের একটাই কথা বারবার চিঠি দিলেও ভাঙ্গার অনুমতি মিলছে না। কি কারণে মিলছে না তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। অনেকেই এ বিষয়টির প্রতি ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
hc
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী এ কলেজটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা ভর্তি হচ্ছে। অনার্স ভর্তি হওয়া বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীই মুন্সীগঞ্জের বাহিরের জেলাগুলো থেকে আগত। মুন্সীগঞ্জ জেলার পাশ্ববর্তী কুমিল্লা, চাঁদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ জেলার ছাত্রছাত্রীরা এখানে পড়াশোনা করছে। এছাড়া রয়েছে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার বিশেষ করে লালমনিরহাট,কুড়িগ্রামের বেশকিছু ছাত্র-ছাত্রী।

অথচ একটি মাত্র ছাত্রদের ও একটি মাত্র মেয়েদের হোস্টেল ছাড়া তাদের থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক ছাত্র-ছাত্রীরাই কলেজের পাশ্ববর্তী পাড়া মহল্লায় মেস ভাড়া করে থাকছে। মেয়েদের তাপসী রাবেয়া হলে সিট বরাদ্ধ রয়েছে ১শ’ জনের এবং ছেলেদের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসন ব্যবস্থাও একই ১শ’ জনের। ফলে দু’টি হোস্টেলে মাত্র ২শ’ ছাত্রছাত্রীর আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে।

সূত্র আরও জানায়,সরকারী হরগঙ্গা কলেজে ১৫ টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু আছে। চালু আছে ডিগ্রী পাস কোর্স। সর্বশেষ হিসাব মতে এ কলেজে প্রায় সাড়ে আট হাজার ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছে। এ পরিসংখ্যান থেকেই বুঝা যায় এখানে ছেলেমেয়েদের আরও কয়েকটি হোস্টেলের কত প্রয়োজন।

আবাসন সংকট নিয়ে আমাদের কথা হয়েছে কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে। তারা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। হিসাব বিজ্ঞানের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র জুয়েল রানা বলেন, আবাসন সমস্যার জন্য অনেক দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের। যে ভবন আছে তাতে কষ্ট করে থাকতে হচ্ছে। এক রুমে ৪-৫ জন করে থাকতে হয়। পর্যাপ্ত সীট না থাকায় মেসে থাকতে হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের। এতে করে পড়াশোনার খরচের বাহিরে বাড়তি খরচ হচ্ছে। পরিবারের ওপর চাপ পড়ছে। আবাসন সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এছাড়া আরও কথা হয়েছে ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৩ বর্ষের রিফাত হোসেন, সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়নের দেওয়ান কান্দি থেকে আসা রাশেদের সঙ্গে। কথা তাদের একটাই আবাসন সমস্যা সমাধানে নতুন হোস্টেল প্রয়োজন।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু ছাত্রের অভিযোগ পুরনো হোস্টেলটি আমাদের সরকারী হরগঙ্গা কলেজের জন্য অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনে সন্ধ্যা হলেই শুরু হয়ে যায় নেশার আড্ডা। চলে ছিনতাইকারীদের নানা রকমের অপকর্ম। কিন্ত তারা রাজনৈতিক শেল্টারে থাকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। বললে তাদের কঠোর শাস্তির সম্মুখিন হতে হয়। তাছাড়া কিছু বহিরাগত বখাটে মাস্তানদের হাত থেকে হোস্টেলের ছাত্ররাও রেহাই পাচ্ছে না। তারা বিভিন্ন সময় হোস্টেলে ঢুকে টাকা পয়সা জামা কাপড় মোবাইল চুরি করে, জোর করে নিয়ে যায়। ছাত্ররা কোনো প্রতিকার পায় না। সম্প্রতি তাদের রুখতে ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন এক ছাত্রনেতা।

তবে,কলেজের অধ্যক্ষ,উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এ বিষয়ে কোনো রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায় না,তাদের কোনো রকম মাথা ব্যথা নেই বলে জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহিদুল কবির জানান,পুরনো হোস্টেলটি পরিত্যক্ষ ঘোষণা করা হয় ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী। তারপর থেকে এটি ভাঙ্গার জন্য বহুবার চিঠি চালাচালি হয়েছে। সর্বশেষ গত ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

নতুন বার্তা