গজারিয়ায় ভোটযুদ্ধ হবে সেয়ানে সেয়ানে

upzilalogoসহিংসতার আশঙ্কা
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন নিয়ে প্রার্থীরা মহাব্যস্ত। ভোটারদের কাঠগড়ায় ৬ চেয়ারম্যান, ৩ ভাইস চেয়ারম্যান ও ৩ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর কৌশলের যেন নেই শেষ। এখানে ভোটযুদ্ধ হবে সেয়ানে সেয়ানে। এ ছাড়া সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মেঘনা তীরের এই উপজেলার অধিকাংশ কেন্দ্রই অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দল দুটি পড়েছে বাড়তি সমস্যায়। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মান্নান দেওয়ান মনা জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কর্মকা-ে বাধা দেয়ার অভিযোগ এনে গজারিয়া থানায় জিডি করেছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আমিরুল ইসলাম তার নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেছে, কর্মীদের মারপিট করেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আমিরুল ইসলাম পাল্টা অভিযোগ করছেন বিদ্রোহী প্রার্থী রেফায়েত উল্লাহ খান তোতার বিরুদ্ধে। আবার অনেক প্রার্থী পেশীশক্তির সমাবেশ ঘটাতেও ব্যস্ত বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন পাল্টাপাল্টি এন্তার অভিযোগ। তবে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও এডিসি সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী বলেছেন, এসব কারণে গজারিয়া উপজেলায় বাড়তি নিরাপত্তা বেষ্টনি তৈরি করা হচ্ছে।

সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার ছাড়াও বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ইন্সপেক্টর হামিদুর রহমান পিপিএম জানান, গজারিয়া উপজেলার ৪৫ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৩ কেন্দ্রকেই অতি ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ১২ কেন্দ্র সাধারণ। সেই হিসেবে ২৪৩ পুলিশ সদস্য থাকার কথা। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আরও অতিরিক্ত ১১০ পুলিশ দিয়ে ৩৫৩ পুলিশ নিরাপত্তায় কাজ করবে। যাতে সহিংসতা ছাড়াই নির্বিঘœভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় দলের নেতাকর্মীরা প্রাণান্তকর চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিভিন্নস্থানে প্রচারে বাধা, সহিংসতা, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলাসহ নানা অভিযোগের পরও রাস্তায় সাঁটানো সারি সারি পোস্টার, ব্যানার, মাইকিং এবং জনসংযোগ যেন অন্য সব নির্বাচনকে ছাপিয়ে গেছে। চলছে যেন নির্বাচন উৎসব। ২৩ মার্চ ভোটগ্রহণ হবে এখানে। তাই শেষ মুহূর্তে প্রার্থীদের মরণপণ চেষ্টা। সব মিলিয়ে যেন নির্বাচন জ্বরে আক্রান্ত এই জনপদ। চায়ের দোকানসহ সবখানেই নির্বাচনী আলাপ। জমজমাট নির্বাচনী পরিবেশে কদর বেড়েছে ভোটারদের।

তাই সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধিদের কাছে প্রত্যাশাও তুলে ধরতে পারছেন তারা। নদী ভাঙ্গা, গ্যাস সংযোগ এবং জেলা শহর মুন্সীগঞ্জের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগে মেঘনায় ফেরি সাভিস, শিক্ষার মান উন্নয়নসহ নানা দাবি ভোটারদের। আওয়ামী লীগ প্রার্থী গজারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, বিএনপি প্রার্থী মজিবুর রহমান, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মান্নান দেওয়ান মনা (ঘোড়া), ইমামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইমামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মুনছুর অহম্মেদ জিন্নাহ (টেলিফোন) এবং জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আলহাজ মোঃ কলিমুল্লাহর (কাপ-পিরিচ) মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।

তারপরও প্রাচারে দলীয় প্রভাব বেশি থাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা রবিবার দলীয় প্রার্থী আমিরুল ইসলামের পক্ষে ভাটেরচর হাই স্কুল বালুয়াকান্দির আড়ালিয়া, হোসেন্দী ও ভবেরচরের ভিটিকান্দিতে পৃথক ৪টি নির্বাচনী সভা করেছেন। একই প্রার্থীর পক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ মোঃ মহিউদ্দিন জনসংযোগ করছেন।

অন্যদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাই নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপি প্রার্থী মোঃ মজিবুর রহমানের পক্ষে ভোটারদের মন জয়ে কাজ করছেন। এ ছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী মোস্তফা সারোয়ার বিপ্লব (উড়োজাহাজ), বিএনপির প্রার্থী এছহাক আলী চেয়ারম্যান (চশমা), বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আসাদুজ্জামান (তালা) এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী মুক্তা বেগম (সেলাই মেশিন) ও বিএনপির একক প্রার্থী সুরাইয়া সরকার (ফুটবল) এবং স্বতন্ত্র্য প্রার্থী ফরিদা ইয়াসমিন (কলস) ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন।

জনকন্ঠ