মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ-মেঘনা নৌরুটে বেপোরোয়া ডাকাতদল

chorrrrমুন্সীগঞ্জের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গাফিলতির কারণে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ-মেঘনা নৌরুট। এ নৌরুটের ধলেশ্বরী-শিতলক্ষা মোহনা মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় সীমানার দোহাই দিয়ে দায়িত্বে অবহেলা করছে দুই জেলার পুলিশ প্রশাসন। সে সুযোগে নৌ-ডাকাত ও দুর্বৃত্তদের অভয়ারন্যে পরিনত হয়ে পড়েছে এ নৌরুট।

এ কারণে এ নৌরুটে চলাচলরত যাত্রীবাহী লঞ্চ ও ট্রলারে হর হামেশাই ঘটছে ডাকাতিসহ নানা দূর্ঘটনা। মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ নৌরুটের দূরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটার। দুটি জেলার সীমান্ত এলাকায় হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলার চরহোগলা, সম্ভুপুরা, মদনগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলার নৌরুট মুক্তারপুর নৌ- পুলিশ ফাঁড়ি এবং নারায়ণগঞ্জ পাগলার কোস্টগার্ড সদস্যদের নিয়ন্ত্রনে। সড়ক পথে যানজটের কারণে এই জেলার মানুষ নৌপথে নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকা যাতায়াত করেন। প্রতি রাতেই ব্যবসায়ী ও চাকরিরত যাত্রীরা কাজ শেষে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ লঞ্চে করে নৌ-পথে বাড়ি ফিরেন।

স¤প্রতি ওই নৌরুটে রাতের আধারে মুন্সীগঞ্জের সীমানায় আবাস্থিত শাহ সিমেন্ট ফ্যাক্টরির সামনে এমভি রিগ্যান নামের যাত্রীবাহী লঞ্চে হামলা চালায় শষস্ত্র ডাকাত দলের দুটি ট্রলার। তারা দেশীয় ধারোলো অস্ত্রেসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে লঞ্চ যাত্রীদের জিম্মি করে হাতিয়ে নেয় নগদ প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ও বিপুল পরিমান মোবাইল সেট, স্বর্ণালংকারসহ সর্বস্ব। এ ঘটনার সময় আত্মরক্ষার জন্য লঞ্চ থেকে নদীতে লাফিয়ে পড়ে লঞ্চের তিন যাত্রী তাদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ শহরের মালপাড়ার বাসিন্দা আইনজীবী সুমন চন্দ্র দাস নিখোঁজ থাকেন। পুলিশের তৎপরতা না থাকায় ঘটনার চার দিন পাড় হয়ে গেলেও সুমনের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ থানার পুলিশকে অবগত করা হলেও সীমানারা দোহাই দিয়ে দুই থানার পুলিশ একে অন্যের ওপর দায় চাঁপিয়ে যায়। এরিয়ে যায় লঞ্চ ডাকাতির ঘটনা থেকে। নিখোঁজ সুমনের স্বজনরা থানায় মামলা দায়ের করতে চাইলে মামলা নেয়নি নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানা ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানার কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, এ লঞ্চ ডাকাতির ঘটনার কিছুদিন পরই মেঘনায় ডাকাত-পুলিশ সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্য নিহত সহ ৪ পুলিশ আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ জায়গা নির্ধারণ না করে গজারিয়া থানায় ডাকাতি মামলা ঢুকে দিলো। অথচ অনুসন্ধানে জানা গেছে যে জায়গাটিতে পুলিশ-ডাকাতের সংঘর্ষ হয়েছিল সেই সিমানাটি ছিল নারায়নগঞ্জের সোাঁনারগাঁও এলাকায়। তবে পুলিশ কেন সোনারগাঁও থানায় মামলা না করে তরিঘরি করে সিমানা নির্ধারণ না করে গজারিয়া থানায় ডাকাতদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করলো কোন প্রকার সিমানা নির্ধারণ করে এমনটাই প্রশ্ন নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ নৌরুটে লঞ্চ-ডাকাতিতে ডাকাতদের হামলায় নিহত এড. সুমনের পরিবারের। সুমনের পরিবারের আরো অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ হলে তার জন্য এক নিয়ম-আইন। আর সাধারণ লোকদের হলে তার জন্য পুলিশের মনগড়া আইন-অজুহাত।

মানুষ আর পুলিশের মধ্যে এমন বিমাতা-সুলভ আচরণ ও বৈষম্যের বিষয়টি জানতে এ প্রতিবেদক সোমবার একাধীকবার জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানকে সেল ফোনে যোগাযোগ করলে সে মিটিংয়ে ব্যাস্ত আছেন বলে ফোনটি কেটে দেন।

এবিনিউজ