মুন্সীগঞ্জের খালগুলো ভূমি দস্যুদের দখলে!

khalকর্তৃপক্ষের উদাসীনতা আর ঘুষ দূর্নীতির ফলে মুন্সীগঞ্জের খালগুলো এখন ক্ষমতাসীন আর ভূমি দস্যুদের দখলে চলে গেছে। দিনের পর দিন এক এক করে খালগুলো দখল চললেও কেউ কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

অনেকে সরকারী লিজ নিয়ে, অনেকে জোরপূর্বক, কেউ আবার ক্ষমতার জোরে দখল করে নিয়েছে শহরের পানি নিষ্কাষনের প্রধানতম মাধ্যম শহরের খালগুলো। বেশ কয়েকবছর আগেও এসব খালগুলো দিয়ে শহরের পানি ও ময়লা নদীতে গিয়ে পড়তো। কিন্তু এখন কোথাও কোথাও খালের চিহৃ দেখা গেলেও বেশীরভাগ খালগুলো দখল হয়ে গেছে।

শহরের কোর্ট চত্ত্বর থেকে কাটাখালী, উত্তর ইসলামপুর থেকে শুরু করে খালইষ্ট হয়ে মুন্সীরহাটে যোগ হয়েছে যে খাল, কলেজপাড়া থেকে মুন্সীরহাট, কোর্টগাওয়ের খাল-সবখালকে ঘিরেই চলছে দখলের মহোৎসব।

উত্তর ইসলামপুর খালের মাঝখানে মসজিদ নির্মাণ করে কৌশলে খালটি দখলে নিয়েছে স্থানীয় শিল্পপতিরা। লীজের নামে খাল দখল করে সেখানে ভরাট করে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। সংরক্ষিত করে দেয়া হয়েছে জায়গাটি।

কোর্ট চত্ত্বর থেকে কাটাখালী খাল দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ হয়েছে প্রশাসনের সামনে। কেউ লিজ নিয়েছে,কেউ বলছে নিজস্ব জায়গা। কয়েকবছর আগেও সেখানে খাল দিয়ে স্বচ্ছ পানি প্রবাহিত হতে দেখা গেছে।

কলেজপাড়া থেকে কাটাখালী যে খালটি গিয়েছে সেটা দখল হয়েছে সবচেয়ে বেশী। মুন্সীরহাট যেতে সর্বত্রই চোখে পড়বে এমনি খাল ভরাটের মহোৎসব। যে যার মতো পেরেছে খাল দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করেছে। কোনো কিছুর তোয়াক্কা করেনি।

সর্বশেষ মুন্সীর হাটের মুখে বহুতল ভবনের জনৈক মালিক তার বাড়ী সামনের রাস্তা তৈরী করতে গিয়ে বালু দিয়ে ভরাট করেছে খালের মুখটি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের টনক নড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এভাবে দিনের পর দিন মুন্সীগঞ্জের পয়ঃনিষ্কাষনের ও পানি নিষ্কাষনের মুখগুলো বন্ধ করে দিয়েছে ভূমিদস্যুরা।

ফলে বর্ষায় একটু বৃষ্টি হলেই শহর তলিয়ে যাচ্ছে। ময়লা আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে বাড়িঘর,রাস্তাঘাট। বন্যায় ডুবে যায় শহর। চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শহরবাসীকে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের উদাসীনতা আর দূর্নীতিকে দায়ী করেছেন ভূক্তভোগীরা। বেশ কয়েকজন শহরবাসীর অভিমত,এসব খাল বাঁচিয়ে রাখলে শহরটা সুন্দর থাকতো। পয়ঃনিষ্কাষন ও পানি নিষ্কাষনের সমস্যা হতো না।

তারা জানান, এখন একটু বৃষ্টি হলেই শহর পানিতে ডুবে যায়। বন্যা হলেতো কথাই নেই। এসব খাল উদ্ধারে এখনই পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। তা না হলে কদিন পর খালের কোনো চিহৃ থাকবে না।

পরিবেশবাদীরা খুব ক্ষেপে আছেন। তাদের বক্তব্য হলো-ক্ষমতাসীন ভূমি দস্যুদের নজর এখন শহরের খালগুলো গ্রাস করা। ইতিমধ্যে তারা অনেকটা সফল হয়েছেন। তাদের দেখাদেখি অনেকেই নিজের বাড়ির সামনের খালটুকুও নিজের মনে করে ভরাট করে নিয়েছেন।

সরকারি খাল এভাবে দখল করে বিশাল বাড়িঘর ও অট্টালিকা নির্মাণ করছেন। কেউ আবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছেন। এভাবে খালের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। যেকোনো বিপর্যয় এখন সহজভাবে গ্রাস করবে শহরবাসীদের।

তাদের অভিযোগ, ভূমি অফিসের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা আর কর্মচারীদের যোগসাজসে এসব কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আর দুর্বৃত্তরা। এসব অপকর্ম করে তহশীলদাররা দিন দিন আগুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছেন। শহরে নির্মাণ করছে বিশাল অট্টালিকা। কাগজের জালিয়াতি করে মানুষকে ঠকিয়ে তারা নিজেদের আখের গোছাচ্ছেন অনেকটা প্রকাশ্যেই। তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার কেউ নেই। দিনে দিনে দুর্নীতিবাজরা শক্তিশালী হচ্ছে। হয়রানিতে সর্বস্ব হারাচ্ছে অসহায় দরিদ্র মানুষ।

তবে বিষয়টি নিয়ে দখলদারদের সোজা উত্তর- কেউ বলছেন আমাদের বাপ দাদার সম্পত্তিতেই আমরা বাড়িঘর নির্মাণ করেছি। বালু ভরাট করেছি। কেউ আবার বলছেন সরকারি নিয়মনীতি মেনেই আমরা লীজ নিয়ে জায়গা দখলে আছি।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদল জানিয়েছেন, বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খাল দখলের বিষয়টি বিস্তারিত আমাকে কেউ অবহিত করেনি। এখন যেহেতু অবগত হয়েছি। আমি অবশ্যই ১৬ মার্চ সরেজমিনে এসব এলাকা ঘুরে দেখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেব। তাদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

নতুন বার্তা