টঙ্গীবাড়িতে হাম-রুবেলার আত্মসাৎকৃত টাকা বিতরণ শুরু

oniom1ফলোআপ
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে হাম-রুবেলার ক্যাম্পেইনের আত্মসাৎ করা টাকা মাঠ কর্মীদের মধ্যে বিতরণ করা শুরু হয়েছে। গতকাল টঙ্গীবাড়ি উপজেলা পবিবার পরিকল্পনা অফিসের ক্যাম্পেইনের ৩৬টি ওয়ার্ডের ৫২জনকে টিফিন বাবদ ৫০ টাকা হারে ৩০হাজার ৬শ’ টাকা প্রদান করেছেন অভিযুক্ত টঙ্গীবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দে। তাদের ৩২হাজার ৪শ’ টাকা প্রদান করার কথা থাকলেও এ টাকা থেকেও সরকারি অডিটের নামে শতকরা ৫ভাগ কেটে রেখে দেয়া হয়েছে।

তবে, টিমের ১০৮ জন স্বেচ্ছাসেবককের বিল-ভাতা দেওয়া হয়নি। সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে প্রচারণা (মাইকিং) বাবদ প্রতি ওয়ার্ডের বরাদ্দকৃত টাকা। গত মঙ্গলবার দৈনিক মাবজমিনে ‘টঙ্গীবাড়িতে হাম-রুবেলার ক্যাম্পেইনের আত্মসাৎ, কর্মীদের ক্ষোভ’ ও ১০ মার্চ মুন্সীগঞ্জ বার্তা ডট কম-এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পকেটে হাম-রুবেলার বরাদ্দকৃত টাকা’-শিরোনামে সংবাদ পরিবেশন হলে প্রশাসনের টনক নড়ে। টক অব দ্যা মুন্সীগঞ্জে পরিণত হয় মুন্সীগঞ্জ সদর ও টঙ্গীবাড়ি উপজেলা এলাকা। নড়েচড়ে বসেন মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন। যদিও গত সোমবার মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দে মানবজমিন ও মুন্সীগঞ্জ বার্তা ডট কমকে দেয়া বক্তব্যে বলেছিলেন, ক্যাম্পেইনের সবাই টাকা পেয়েছেন। কিন্ত মাবজমিনে সংবাদ প্রকাশের পর ঘটলো তার উল্টোটা। বুধবার ক্যাম্পেইনের কর্মীদের নামে বরাদ্দকৃত টাকা তারা দেয়া শুরু করেছেন। এ দুর্নীতি-অনিয়ম চক্রের সঙ্গে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সহকারি ইয়াদ আলীও জড়িত বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। এদিকে, টাকা আত্মসাতের দায়মুক্তি পেতে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা প্রদীপ কুমার দে ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সহকারি ইয়াদ আলীসহ সংশ্লিষ্টরা নানা পরিকল্পনা ও পথ খুঁজছেন বলে মাঠকর্মীরা ভুক্তভোগী একাধিক জানিয়েছেন।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা মাঠ কর্মচারি সমিতির সহ-সভাপতি ও পরিদর্শক বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর গতকাল বুধবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দে তাদের ডেকে নিয়ে এ ঘটনার জন্য ক্ষমা ও দু:খ প্রকাশ করেন। এ সময় উপজেলা পবিবার পরিকল্পনা অফিসের ক্যাম্পেইনের ৩৬টি ওয়ার্ডের ৫২জনকে টিফিন বাবদ ৫০ টাকা হারে ৩২হাজার ৪শ’ টাকা প্রদান করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দে। তবে, তাদের অধীনে স্বেচ্ছাসেবক ১০৮ জনের টিফিন ভাতা দেয়া হয়নি। এ সময় সেখানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সহকারি ইয়াদ আলী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন, পবিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রফিকউদ্দিন গাজী, আমির হোসেন, হুমায়ুনসহ ১২ জন পরিদর্শক। বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন আরো বলেন, আমাদের ৫২ জন কর্মীকে ৩২হাজার ৪শ’ টাকা প্রদান করার কথা থাকলেও এ টাকা থেকে সরকারি অডিটের নামে শতকরা ৫ভাগ কেটে রেখে দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৫ শে জানুয়ারি থেকে ১৩ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৮ দিন ব্যাপী হাম-রুবেলার ক্যাম্পেইনের চলে। স্থায়ী এ কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী প্রথম সারির তদারককারী (স্বাস্থ্য পরিদর্শক), পরিবার কল্যাণ সহকারিরা হাড় ভাঙ্গা খাটুনি শেষে প্রাপ্য টিফিন ভাতা এবং যাতায়াত ভাতার পুরোটা না পাওয়ায় তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার ৩৬ টি ওয়ার্ডে ২৭৮টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৭ জন শিশুকে টিকা দানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতিটি কেন্দ্রে টিকাদানকারী হিসেবে ১জন স্বাস্থ্য সহকারি, ১জন পরিবার-পরিকল্পনা কর্মী ও ৩জন স্বেচ্ছাসেবকসহ ৫ জনের দল গঠন করা হয়।

এদের প্রত্যেকের জন্য টিফিন বাবদ ৫০টাকা করে বরাদ্দ থাকলেও ১৮দিনে ২১৬জন কর্মীর ১লাখ ৯৪ হাজার ৪শ’ টাকা দেয়া হয়নি। প্রচারণা বাবদ প্রতি ওয়ার্ডে ১হাজার থাকা বরাদ্দ থাকলেও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারি (পিয়ন) দিয়ে মাত্র ১দিন প্রচারণা চালানো হয়েছে। তাও আবার প্রতিটি ওয়ার্ডে করা হয়নি। যাতায়াত বাবদ প্রতিজনের জন্য ১৮শ’টাকা বরাদ্দ থাকলেও সরকারি অডিটের অজুহাতে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১শ’ টাকা করে টাকা কেটে রাখা হয়। প্রথম সারির তদারককারী (স্বাস্থ্য পরিদর্শক) ও পরিবার কল্যাণ সহকারিদের প্রত্যেকের জন্য ২হাজার ৭শ’ টাকা বরাদ্দ থাকলেও দেয়া ২হাজার ৫৩৫ টাকা।

এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সহকারি ইয়াদ আলী জানান, স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত টাকা মাঠকর্মীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। কিছু কর্মী না পাওয়ায় তা গতকাল বুধবার পরিশোধ করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, পিপিআর (পাবলিক প্রকিউরম্যান্ট রুল) অনুযায়ী অডিটের জন্য ১শ’ টাকা করে টাকা কেটে রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন ডা. কাজী শরীফুল আলম আলম বলেন, বরাদ্দকৃত টাকা আমি থানা ভিক্তিক ভাগ করে দিয়েছি। এখন ওটার বিতরণ করার দায়িত্ব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতার। কোন রকম অনিয়ম-দুর্নীতি হয়ে থাকলে এর দায়-দায়িত্ব এখন তাকেই নিতে হবে।

টঙ্গীবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা প্রদীপ কুমার দে’র মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা