বাংলার স্বাধিকার ও স্বাধীনতা অব্যক্ত কিছু কথা

shellyড. মীজানূর রহমান শেলী
আজকে যখন গণতন্ত্রের হাল অবস্থা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিপুল বিতর্ক ও সংশয় সৃষ্টি হয়েছে, তখন বারবার মনে পড়ে যে এই গণতন্ত্রই ছিল বাংলাদেশের বাঙালির স্বাধিকার ও মুক্তি আন্দোলনের মূল ও চূড়ান্ত লক্ষ্য। ১৯৭১ সালের মুক্তিসংগ্রামের আগের পাকিস্তান ছিল মূলত একটি গণতন্ত্রবিহীন রাষ্ট্র। ১৯৫৮ সাল থেকেই সেখানে দফায় দফায় সামরিক শাসন চলছিল। মাঝেমধ্যে যে সাংবিধানিক বা বেসামরিক সরকার দৃশ্যত প্রতিষ্ঠিত হয় তা-ও ছিল ছদ্মবেশে সেনা সমর্থিত একনায়কতন্ত্র। সন্দেহ নেই যে এ ব্যবস্থায় জনসাধারণ ও সংখ্যাগুরুর স্বাধিকার অক্ষুণ্ন থাকতে পারে না। ১৯৭১ সালের আগে বাংলাদেশ ছিল বস্তুত তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানভিত্তিক শাসকচক্রের অধীন এক অন্তর্লীন উপনিবেশ।

বাংলার স্বাধিকার ও স্বাধীনতা অব্যক্ত কিছু কথা

সবাই জানে যে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানে বাঙালি ছিল তার ন্যায্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। বাংলাদেশের বাঙালির স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম তাই রাষ্ট্রীয় জীবনের সব ক্ষেত্রেই সূচিত ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এই আন্দোলনের রূপ, গতি ও প্রকৃতি ছিল সুস্পষ্ট, এর ইতিহাসও উজ্জ্বল লিপিতে লেখা। এসব অঙ্গনের কুশীলবদের কথাও পরিষ্কারভাবে বলা ও লেখা হয়েছে। কিন্তু সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনে পাকিস্তান রাষ্ট্রে বাঙালির প্রতিনিধিত্ব ছিল জনসংখ্যার অনুপাতে অনেক কম। সেনাবাহিনীতে সাকল্যে ১০ শতাংশের বেশি বাঙালির স্থান ছিল না, সামরিক অফিসারদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল আরো নগণ্য। বেসামরিক প্রশাসনের অবস্থাটা ছিল ভিন্ন। এ ক্ষেত্রে প্রায় ২৫ বা ৩০ শতাংশ বাঙালি কর্মকর্তা ও কর্মচারী কেন্দ্রীয় সরকারে নিয়োজিত ছিলেন। সচিবসহ অন্যান্য উচ্চপদে সেন্ট্রাল সুপিরিয়র সার্ভিস (সিএসএস) প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হয়ে যে কিছুসংখ্যক বাঙালি প্রশাসনে স্থান পেয়েছিলেন, তাঁরা ছাড়া উঁচু পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন খুবই স্বল্পসংখ্যক বাঙালি। মনে রাখা দরকার, একনায়কশাসিত কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থায় রাজনৈতিক নেতারা নন, প্রশাসনিক কর্মকর্তারাই নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ভূমিকা রাখেন। এ অবস্থায় তৎকালীন পাকিস্তানের শতকরা ৫৪ জন নাগরিকের অংশ হয়েও বাঙালি প্রশাসনে মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ অংশ নিয়ে যে দুর্বল অবস্থানে থাকবে তা তো স্বাভাবিক। এ অবস্থায় ন্যায্য অধিকার ও ন্যায়পর সমতা অর্জন করতে হলে গণতন্ত্রের অভিযাত্রাকে জোরদার করা ছাড়া উপায় থাকে না। ১৯৭১ সাল ও তার আগে বাংলাদেশের বাঙালি তাই করেছিল। এরই সফল পরিণতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। কিন্তু প্রশাসনিক ক্ষেত্রে যে নীরব সংগ্রাম চলছিল, তা সুস্পষ্টভাবে চোখে পড়ে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে যখন তৎকালীন পূর্ব বাংলা অসহযোগ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বাঙালি সিএসপি অফিসার সমিতি সে সময় দারুণ সাহসভরে ওই আন্দোলনের সমর্থনে প্রকাশ্যে প্রস্তাব রাখে। স্বভাবনীরব আমলাদের পক্ষে ব্যাপারটি বিপুল সাহসের কাজ ছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিসংগ্রামে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাঙালি বেসামরিক ও সামরিক অফিসার যুদ্ধে যোগ দেন। সে ইতিহাসও সবারই জানা।

আজ আঁকার চেষ্টা করব এক খণ্ডচিত্র। মুক্তিযুদ্ধের তিন-চার বছর আগে পাকিস্তানের প্রাণভোমরা পাঞ্জাবের হৃৎকেন্দ্র লাহোরে এ ঘটনা ঘটে। আমি তার সাক্ষী। সে সময় আমি উচ্চতম প্রশাসনিক ক্যাডার সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান, সিএসপির সদস্য হিসেবে প্রশিক্ষণের জন্য লাহোরে সিভিল সার্ভিস একাডেমিতে যোগ দিই। সেটা ছিল ১৯৬৭ সালের অক্টোবর মাস। তার আগে ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কাজ করি। কিন্তু ১৯৬৪ সালে আইয়ুব সরকার নবনিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য পুলিশি তদন্তের বিধান জারি করে। এই পুলিশি তদন্তে সংগত কারণেই তিন বছর শিক্ষকতা করার পরও আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাকরিতে রাখতে অসম্মত হয়। কিন্তু পরস্পরবিরোধী হলেও কোনো কারণে এ ধরনের ব্যক্তিদের সরকারি প্রশাসনে নিয়োগ করার ব্যাপারে সরকারের আপত্তি ছিল না। অবশ্য সেই অনাপত্তি আদায় করতেও বিশেষ প্রয়াস চালাতে হতো। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার আগে ছাত্র হিসেবে একটি মধ্যপন্থী ছাত্রদলের নেতা ছিলাম। তাই স্বাভাবিকভাবেই আইয়ুব খানের একনায়কতন্ত্রী শাসন ও তাঁর সরকারের ঘোষিত ১৯৬২ সালের ছাত্রস্বার্থবিরোধী বিতর্কিত শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে যে আন্দোলনগুলো গড়ে ওঠে, তাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখি। শিক্ষক হিসেবেও সরকার পক্ষে সমর্থনের কোনো চেষ্টা তো করিইনি, বরং উল্টোটাই করেছি।

আগেই বলেছি, এ লেখার উদ্দেশ্য আমার নিজের ঢাকঢোল পেটানো নয়। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে এক অসীম সাহসী ব্যক্তির দৃঢ় অবস্থানের কথা বলা। তাঁদের মতো মানুষরাই পাকিস্তানে প্রশাসনিক কাঠামোর বাঁধন-কষানেও বাঙালির স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়াস নিরলসভাবে চালিয়ে গেছেন। আমি তিন বছর শিক্ষকতা করার পর সিএসপি ক্যাডারে যোগ দিই। ফলে আমার চেয়ে ঈষৎ বয়ঃকনিষ্ঠ কয়েকজনই সেকালের পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশ থেকে আমার সঙ্গে ১৯৬৭ সালে সিভিল সার্ভিস একাডেমিতে যান। যাঁর কথা বলছি, তিনিও এই তরুণতরদের একজন। লাহোরে যাওয়ার আগে তাঁর সঙ্গে পরিচয় থাকলেও ঘনিষ্ঠতা ছিল না। একাডেমিতে গিয়ে প্রথম দিকেরই এক রাতে নৈশাহারের পরপর তাঁকে দেখি এক পাঞ্জাবি সহকর্মীর সঙ্গে প্রায় যুদ্ধরত অবস্থায়। আগে কী ঘটেছিল তা জানতাম না। পরে শুনি যে বাঙালির মেধা ও দক্ষতা নিয়ে ওই পাঞ্জাবি সহকর্মী কটাক্ষ করে। তাই সেই তরুণ সরব প্রতিবাদ জানান এবং তাতে খাপ্পা হয়ে দীর্ঘদেহী ও হৃষ্টপুষ্ট অবাঙালি শীর্ণকায় দৃশ্যত দুর্বল সহকর্মীকে বলে, ‘you 99 pound stupid fellow, I will teach you a lesson.’ অর্থাৎ ‘৯৯ পাউন্ড ওজনের লোক তুমি, তোমায় আমি শিক্ষা দেব।’ উত্তরে একটুও না ঘাবড়ে, উত্তেজিত ও রাগান্বিত বাঙালি তরুণ বলেন, ‘I will smash your bones, what do you think of us?’ ‘আমি তোমার হাড়গোড় চূর্ণ-বিচূর্ণ করব, কী মনে করো তুমি আমাদের?’

বলা বাহুল্য, আমরা সবাই মিলে সেই ‘বাগ্‌যুদ্ধের’ অবসান ঘটাই। তা আর হাতাহাতিতে গড়ায়নি। কিন্তু সেই তরুণ সহকর্মী মহিউদ্দিন আহমেদ মধুর সাহস ও দৃঢ়তা দেখে একাধারে বিস্মিত ও প্রীত হয়েছিলাম। মহিউদ্দিন আমাদের সঙ্গেই ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান ফরেন সার্ভিস (পিএফএস) বা কূটনৈতিক সার্ভিসে যোগ দেন। লাহোরে সিএসপি ও পিএফএসদের প্রশিক্ষণ একই সঙ্গে হতো। তাই আমরা ১৯৬৭-৬৮ সালে একই সঙ্গে নিবিড় প্রশিক্ষণ নিতাম। পাঞ্জাবি সহকর্মীদের সঙ্গে তুমুল তর্ক-বিতর্কের মধ্যেই মহিউদ্দিনের বাঙালির স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়াস সীমিত থাকেনি। তার প্রমাণ পেলাম কয়েক মাস পরই। তখন একাডেমির নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকেই একটি করে বিষয়ের ওপর সেমিনার অনুষ্ঠান করতে হতো। তাতে সভাপতিত্ব করতেন আরেকজন প্রশিক্ষণার্থী সহকর্মী। একাডেমির পরিচালক ও উপপরিচালকবৃন্দ যাঁরা ছিলেন সিনিয়র সচিব ও যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার, তাঁরা ও অন্য প্রশিক্ষণার্থীদেরও উপস্থিত থাকতে হতো।

মহিউদ্দিন মধুর সেমিনারের পালা এলো ১৯৬৮ সালের এক নাজুক সময়ের পরপর। সে বছর ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে কথিত রাষ্ট্রবিরোধী ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ শুরু করে। এর আগে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের বাঙালিদের স্বাধিকারের সনদ ছয় দফা পেশ করেন এবং এর সমর্থনে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাঁর এই ঐতিহাসিক প্রচেষ্টাকে ষড়যন্ত্র ও কূটচক্রের মাধ্যমে নস্যাৎ করাই ছিল শাসককুলের উদ্দেশ্য। সে জন্যই তারা এ মামলায় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বেশ কিছু স্বাধীনচেতা বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক অফিসারকেও আসামি করেছিল। স্বাভাবিকভাবেই ১৯৬৮ সালের ফেব্রুয়ারির পর থেকে পাকিস্তান প্রশাসনের বিশেষত কেন্দ্রীয় সরকারে বাঙালি কর্মকর্তারা প্রতিকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তাঁদের অনেকেই ছিলেন ভীত ও সন্ত্রস্ত, কী জানি কখন কার ওপর শাসকরা খৰ হানে। এ রকম একসময় মহিউদ্দিন মধু এসে বলেন, ‘শেলী ভাই, আমার সেমিনারে আপনাকে সভাপতিত্ব করতে হবে, না বললে চলবে না।’ স্নেহাস্পদ সহকর্মীর প্রস্তাবে আমি বিনা প্রশ্নে রাজি হলেও তখন জানতাম না যে তাঁর বক্তব্যের বিষয় কী? অনুষ্ঠানের দিন যখন জানলাম যে মধুর বিষয় হলো ‘ছয় দফা’, তখন তাঁর ও আমার ভবিষ্যৎ ভেবে ঈষৎ চিন্তিত না হয়ে পারিনি। তাই কিছুটা উৎকণ্ঠিত হয়েই মহিউদ্দিন মধুর বক্তব্য শুনি। উল্লেখ্য, সেই সেমিনারে একাডেমির পরিচালক ১৯৩৯ সালের আইসিএসভুক্ত (Indian Civil Service) সিনিয়র সচিব আবদুল মজিদ ও উপপরিচালক শেখ মাকসুদ আলি, সিএসপিও উপস্থিত ছিলেন। মহিউদ্দিন সুবিন্যস্তভাবে ও জোরালো যুক্তিতর্ক দিয়ে ছয় দফার বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বলা বাহুল্য, এরপর তাঁকে নানা তীক্ষ্ন প্রশ্নবাণের মুখোমুখি হতে হয়। এর মধ্যে একটি প্রশ্ন করেছিল সেই চৌধুরী আমিনুল্লাহ, যার সঙ্গে মহিউদ্দিনের বাগ্‌যুদ্ধ প্রায় প্রাত্যহিক ঘটনায় রূপ নিয়েছিল। সে জিজ্ঞাসা করে, ‘সিএসএস পরীক্ষায় কোটা পদ্ধতি থাকায় মেধা কোটার তিন-চারটি পদ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে তোমরা অনেক নিচে স্থান পেয়েও উঁচু চাকরি পেয়ে যাও। তুমি কি মনে করো না যে এতে তোমাদের জন্য আমাদের প্রাপ্য চাকরিগুলো ত্যাগ করছি?’ ভাবলাম, এ প্রশ্নের সদুত্তর মধু কী করে দেবেন? আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে বললাম, অনুগ্রহ করে উত্তর দাও। তিনি একটুও ঘাবড়ে না গিয়ে সজোরে স্পষ্ট করে বললেন, ‘না, আমি তোমার সঙ্গে একমত নই।’ অবাক হয়ে আমিনুল্লাহ বলল, ‘কেন না?’ মহিউদ্দিন মধুর সহজ, সরল ও সাহসী উত্তর, ‘না’ এই জন্যে যে তোমরা নও, আমরাই রাষ্ট্রীয় ঐক্যের স্বার্থে তোমাদের জন্য ত্যাগ স্বীকার করছি। কারণ পূর্ব বাংলা আলাদা ও স্বাধীন রাষ্ট্র হলে এই সব চাকরিই আমাদের হতো।’ তাঁর এই সোজাসুজি উত্তরে সবাই আশ্চর্য ও স্তম্ভিত হয়ে যায়। তাঁর অপরিসীম সাহস দেখে আমরা বাঙালি সহকর্মীরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দারুণ উৎসাহ ও সাহস পাই। যেকোনো কারণেই হোক এই আলোচনা অন্তত সে সময়ে আমাদের কোনো বিপাকে ফেলেনি।

মহিউদ্দিন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন ১৯৭১ সালে লন্ডনে। তখন তিনি লন্ডনে পাকিস্তান হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। মাস শেষে একটা দিনের জন্যও অপেক্ষা না করে ‘হাইড পার্কে’ বিশাল সমাবেশে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে যোগ দেন এবং ফলে ওই মাসের বেতন থেকে বঞ্চিত হন। এরপর আর্থিক অনটন ও আনুষঙ্গিক দুর্ভোগ সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধের বাকি সময়টা লন্ডনভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে শামিল থাকেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে অবসর গ্রহণ করেও মহিউদ্দিন মধু তাঁর লেখালেখি নিরলসভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। মুক্তিযুদ্ধের এক সাহসী সৈনিক ও ওই যুদ্ধের চেতনার অতন্দ্র ধারক হিসেবে তাঁর লেখার প্রতি ছত্রে দেশপ্রেমের সুর অবিরাম ঝংকৃত হয়। এখনো তাঁর লেখা পড়লে মনে পড়ে লাহোরে সিভিল সার্ভিস একাডেমির সেই দিনটিতে তাঁর উজ্জ্বল সাহসের স্মৃতি।

লেখক : সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিডিআরবি)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও আর্থসামাজিক ত্রৈমাসিক ‘এশিয়ান অ্যাফেয়ার্সের’ সম্পাদক

কালের কন্ঠ