টঙ্গীবাড়িতে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনের টাকা আত্মসাৎ কর্মীদের ক্ষোভ

oniom1মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনের প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে। গত ২৫শে জানুয়ারি থেকে ১৩ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৮ দিনব্যাপী স্থায়ী এ কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী প্রথম সারির তদারককারী, পরিবার কল্যাণ সহকারীরা হাড় ভাঙ্গা খাটুনি শেষে প্রাপ্য টিফিন ভাতা এবং যাতায়াত ভাতার পুরোটা না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার ৩৬টি ওয়ার্ডে ২৭৮টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৭ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতিটি কেন্দ্রে টিকাদানকারী হিসেবে ১ জন স্বাস্থ্য সহকারী, ১ জন পরিবার-পরিকল্পনা কর্মী ৩ জন স্বেচ্ছাসেবকসহ ৫ জনের দল গঠন করা হয়। এদের প্রত্যেকের জন্য টিফিন বাবদ ৫০ টাকা করে বরাদ্দ থাকলেও ১৮ দিনে ২১৬ জন কর্মীর ১ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ টাকা দেয়া হয়নি। প্রচারণা বাবদ প্রতি ওয়ার্ডে ১ হাজার থাকা বরাদ্দ থাকলেও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারী (পিয়ন) দিয়ে মাত্র ১ দিন প্রচারণা চালানো হয়েছে। তাও আবার প্রতিটি ওয়ার্ডে করা হয়নি। যাতায়াত বাবদ প্রতিজনের জন্য ১৮০০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও সরকারি অডিটের অজুহাতে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে টাকা কেটে রাখা হয়।

প্রথম তদারককারী (স্বাস্থ্য পরিদর্শক) ও পরিবার কল্যাণ সহকারিদের প্রত্যেকের জন্য ২৭০০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও দেয়া ২৫৩৫ টাকা। এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সহকারী ইয়াদ আলী জানান, পিপিআর (পাবলিক প্রকিউরম্যান্ট রুল) অনুযায়ী অডিটের জন্য ১০০ টাকা করে টাকা কেটে রাখা হয়েছে। বরাদ্দের টাকা স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। জেলা পরিবার পরিকল্পনা মাঠ কর্মচারী সমিতির সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন বলেন, কাজ করে সম্মানি না পাওয়া খুবই দুঃখজনক।

এ ঘটনায় সত্যতা স্বীকার করে তিনি নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন ডা. কাজী শরীফুল আলম বলেন, টঙ্গীবাড়িতে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন বাবদ বরাদ্দ ছিল প্রায় প্রায় ১০-১২ লাখ টাকা। সবাই টাকা পেয়েছেন। আর কেউ না পেয়ে থাকলে তা ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

তবে, এ বিষয়ে আর কয়েক দিন পরে সংবাদ পরিবেশন করা যেতে পারে বলে তিনি মত দেন। এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা প্রদীপ কুমার দে-র সঙ্গে গতকাল দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটের সময় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সামনা সামনি ছাড়া কথা বলা যাবে না। এদিকে, রোববার দুপুর ১টা পর্যন্ত টঙ্গীবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসে গেলে তার রুম খোলা পাওয়া গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মানবজমিন