গজারিয়া গার্মেন্ট শিল্প পার্কের জন্য ৮০০ কোটি টাকা ঋণ চায় বিজিএমইএ

gaz garমুন্সীগঞ্জের বাউশিয়ায় গার্মেন্ট শিল্প পার্কের জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে ৮০০ কোটি টাকা বিনা সুদে ঋণ চেয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। এ বিষয়ে সম্প্রতি সংগঠনটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।

২ মার্চ বাণিজ্যমন্ত্রী বরাবর পাঠানো ওই চিঠিতে বিজিএমইএ সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন ভূমি অধিগ্রহণ আইন অনুসরণে ৭৮০ কোটি টাকার প্রাক্কলন প্রস্তুত করে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ আইনে নির্ধারিত সময়ে ক্ষতিপূরণের মোট অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু তৈরি পোশাক মালিকদের পক্ষে এ অর্থ পরিশোধ করা দুরূহ হওয়ায় মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনকে তারা ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন না। চীনা দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান গার্মেন্ট শিল্প পার্ক স্থাপনে ঋণ দিতে রাজি হলেও তারা অর্থায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে সার্বভৌম গ্যারান্টি চায়। এ অবস্থায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে বিনা সুদে সাত বছর মেয়াদি ৮০০ কোটি টাকা ঋণ পেলে প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হয়।

মুন্সীগঞ্জের বাউশিয়ায় গার্মেন্ট শিল্প পার্ক গড়তে সরকারের পক্ষ থেকে ৫৩০ একর জমি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হয়। পরে মোট জমির পরিমাণ চূড়ান্ত হয় ৫৭০ একর। কথা ছিল, জমি পেলে নিট ও ওভেন খাতের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সহযোগিতায় উদ্যোক্তারা নিজস্ব উদ্যোগে পার্কের অবকাঠামো গড়ে তুলবেন। পরে বিশ্বব্যাংক ও ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনও (আইএফসি) এ প্রকল্পে অর্থায়নে এগিয়ে আসে। একইভাবে আগ্রহ প্রকাশ করে চীনভিত্তিক হংকং কেআরডি ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ লিমিটেড। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান অর্থায়নের জন্য সরকারি গ্যারান্টি চায়। আর বিদেশী ঋণের প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল হওয়ায় সরকারি সহায়তা চায় বিজিএমইএ।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নন-কমপ্লায়েন্ট তৈরি পোশাক শিল্প স্থানান্তরের জন্য গার্মেন্ট শিল্প পার্ক প্রয়োজন। এ শিল্প পার্কের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য যে টাকা দরকার, তা মালিকদের পক্ষে একবারে দেয়া সম্ভব নয়। এজন্য আমরা বিনা সুদে ঋণ চেয়েছি। সরকার বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করলে কাজটি দ্রুত হবে। এছাড়া আর যেসব বিকল্প রয়েছে, তা সময়সাপেক্ষ।’

তবে শিল্প পার্ক স্থাপনে বিজিএমইএকে বিনা সুদে ঋণ দেয়ার বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তারা মনে করছে, শিল্প পার্কে ১ হাজার ১০০ প্লট করা হবে। প্লটভেদে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পরিশোধ করলেই এ সমস্যার সমাধান হয়। আর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে বিনা সুদে ঋণ দেয়ার কোনো নিয়ম নেই।

এ প্রসঙ্গে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ফরিদ উদ্দিন বলেন, জনগণের টাকায় বিনা সুদে ঋণ দেয়ার কোনো নিয়ম নেই। অর্থ মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের বোর্ড কেউই এভাবে ঋণ দিতে পারে না। ব্যাংকগুলোও এটা করবে না। এক্ষেত্রে সরকার ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট তহবিল বরাদ্দ দিলে বিজিএমইএকে ঋণ দেয়া সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, গার্মেন্ট শিল্প পার্কের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দেখছে। বিজিএমইএ বিনা সুদে ঋণ চেয়েছে কিনা, তা জানা নেই বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের তৈরি পোশাক কারখানার ২৫ শতাংশ পরিকল্পনা অনুযায়ী গড়ে উঠেছে। ৬০ শতাংশ কারখানা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের জন্য তৈরি ভবনে এবং ১৫ শতাংশ কারখানা আবাসিক ভবনে। বাউশিয়ায় গার্মেন্ট শিল্প পার্ক স্থাপনে প্রয়োজনীয় চাহিদার তুলনায় জমি অনেক কম। সরকারের কাছ থেকে পাওয়া ৫৭০ একর জমিতে কারখানা স্থানান্তরে সার্মথ্যবান বড় উদ্যোক্তারাই বেশি আবেদন করেছেন। কিন্তু প্রয়োজন ও আগ্রহ থাকলেও শুধু সামর্থ্যের অভাবে বাউশিয়ায় শিল্প-কারখানা স্থানান্তরে তুলনামূলক পিছিয়ে রয়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা।

মুন্সিগঞ্জটাইমস