আর্থিক সংকটে ড্রেজিং বন্ধ: মরে যাচ্ছে নৌপথ

nadiবাংলাদেশ আভ্যত্মরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লুটিএ) ৫৩টি নৌ রুটের মধ্যে ২৪টি ড্রেজিং করে ১০ কোটি ১৪ লাখ ঘনমিটার পলি পরিষ্কার করার সিদ্ধাত্ম নেয়ার পর এক বছর চলে গেলেও কাজটি এখনও শুরু করতে পারেনি। আর্থিক সংকটের কারণেই কাজটি শুরু করা যায়নি।

বিআইডব্লুটিএ সূত্র জানায়, সারাদেশেই নৌপথ সংকুচিত হয়ে আসছে। বর্তমানে বর্ষা মওসুমে দেশের ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার নৌপথ চলাচলের যোগ্য থাকে। আর শুষ্ক মওসুমে নৌ চলাচল করতে পারে তিন হাজার কিলোমিটার পথে। নৌপথ সংকুচিত হওয়ার কারণে সরকার ২০১২ সালে জুলাই মাসে আভ্যšত্মরীণ ৫৩টি নৌপথ ড্রেজিং-এর সিদ্ধাšত্ম নেয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ১৮ হাজার ৭৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৮ সালের জুনে এই কাজ শেষ হওয়ার কথা। তবে এই প্রকল্পের জন্য তহবিল নিশ্চিত করা হয়নি।

সরকার ২০১২ সালের ২ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ২৪টি নৌ রুট ড্রেজিং-এর অনুমোদন দেয়। এগুলো হচ্ছে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ-গজারিয়া-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন দ্বীপ-টেকনাফ, চাঁদপুর-চরপ্রকাশ-হিজলা-বরিশাল, চাঁদপুর-মুলাদি-বরিশাল, ঘাসিখালি-বরিশাল-কালিগঞ্জ-চাঁদপুর-আরিচা, ভৈরববাজার-লিপসা-ছাতক-সিলেট, গাগলাজোর-মোহনগঞ্জ, লাওয়ারগড়-দুর্লভপুর, চিত্রি-নবীনগর-কুটিবাজার, নরসিংদী-কটিয়াদি, নরসিংদী-মরিচাকান্দি-সেলিমগঞ্জ-বাঞ্ছারামপুর-হোমনা, দাউদকান্দি-হোমনা-রামকৃষ্ণপুর, চাঁদপুর-ইচুলি-ফরিদগঞ্জ, বরিশাল-ঝালকাঠি-বরগুনা-পাথরঘাটা, খুলনা-গজিরহাট-বড়দিয়া-মানিকধা, নন্দিবাজার-মাদারিপুর, দিলালপুর-ঘরাদিঘা-চামড়াঘাট-নিলকি-আটপাড়া-নেত্রকোনা, মনুমুখ-মৌলভীবাজার, মিরপুর-সাভার, শ্রীপুর-ভোলা খেয়াঘাট-গঙ্গাপুর-ভোলা, চৌকিঘাটা-কালিগঞ্জ, পটুয়াখালী-মির্জাগঞ্জ, হোসনাবাদ-তর্কি-ফাসিয়াতলা এবং ডালার চর-বালিয়াকান্দি-বোয়ালমারি-কাশিয়ানি।

বিআইডব্লুটিএ’র চেয়ারম্যান শামসুদ্দোহা খন্দকার জানান, অর্থের অভাবে আমরা এখনও ২৪টি নৌপথে ড্রেজার শুরু করতে পারিনি। এ ব্যাপারে মাত্র দু’টি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিআইডব্লুটিএ শুধুমাত্র কাংসা নদীর গাগলাজোর-মোহনগঞ্জ এবং বিশখালি ও খাগডন নদীতে বরিশাল-ঝালকাঠি-বরগুনা-পাথরঘাটা নৌ রুট ড্রেজিং-এর জন্য ৪৩ কোটি টাকা পেয়েছে।

পাশাপাশি সরকার ১২টি নৌ রুটও অনুমোদন দেয়। এগুলো হচ্ছে ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ,মাদারিপুর ও শরিয়তপুরের ইছামতি, পদ্মা ও আড়িয়ালখাঁ নদীতে ঢাকা-তালতলা-দহুরি-জাজিরা-মাদারিপুর-কবিরাজপুর-চৌধুরীহাট, বরিশাল ও ভোলায় আড়িয়ালখাঁ ও তেতুলিয়া নদীতে লাহারহাট-ভেদুরিয়া, বরিশালের তেতুলিয়া নদীতে সাহেবেরহাট-টুঙ্গিবাড়ি-লাহারহাট, ঢাকার তুরাগ নদীতে সদরঘাট-বিরুলিয়া, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ও পাবনার যমুনায় পাটুরিয়া-বাঘাবাড়ি, ঢাকা ও নরসিংদীর শীতলক্ষায় ডেমড়া-ঘোড়াশাল-পলাশ, ঢাকা ও মাদারিপুরের আড়িয়ালখাঁ নদীতে ঢাকা-রামচর-মাদারিপুর, ঢাকা-চাঁদপুর ও শরিয়তপুরে পদ্মা নদীতে ঢাকা-শরিয়তপুর, বরিশাল ও পিরোজপুরে ডাকাতিয়া, মেঘনা ও সন্ধ্যা নদীতে চাঁদপুর-নন্দিরবাজার-শিকারপুর-হুলারহাট, পিরোজপুর ও গোপালগঞ্জে কালিগঙ্গা, শৈলদহ ও মধুমতি নদীতে হুলারহাট-চরচাপরি-গোপালগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ ও কুমিল্লায় শীতলক্ষা, মেঘনা ও গোমতি নদীতে নারায়নগঞ্জ-দাউদকান্দি এবং ঢাকা-শরিয়তপুর ও মাদারিপুরে পদ্মা, দুপালদিয়া খাল ও আড়িয়ালখাঁ নদীতে ঢাকা-সুরেশ্বরি-অঙ্গারিয়া-মাদারিপুর। ২০১১ সালে অক্টোবরে এ ১২টি নৌ রুট ড্রেজিং-এর জন্য অনুমোদন দেয়া হয় ৫০৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে।

তিনি আরও বলেন, তারা শুধুমাত্র তেতুলিয়া নদীতে লাহারহাট-ভেদুরিয়া রুট এবং তুরাগ নদীতে সদরঘাট-বিরুলিয়া-আশুলিয়া রুটে ড্রেজিং-এর কাজ শেষ করেছেন। বাকি নৌ রুটগুলোতে ড্রেজিং কাজ চলছে।

বিআইডব্লুটিএ’র চেয়ারম্যান বলেন, ড্রেজিং সম্পন্ন হলে ৫৩টি নৌ রুটে বছর জুড়েই পণ্য ও যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল করতে পারবে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়হীনতার কারণে নদীতে পলি জমছে, আর এ কারণেই নদীগুলো মরে যাচ্ছে।

আমাদের সময়