সাগরের মৃত্যু: গ্রেপ্তার ৪ জন রিমান্ডে

sagarশাহ আলম সাগরের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ, যদিও পুলিশের বিরুদ্ধেই এই সাংবাদিককে হত্যার অভিযোগ তার পরিবারের। গত ২ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানা ভবনের পেছন থেকে সাগরের লাশ উদ্ধারের খবর জানিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, তিনি ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন।

তবে সাগরের স্ত্রী সোমা আক্তারের অভিযোগ, উত্তরা ট্রাস্ট কলেজের অধ্যক্ষ বশির উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে তার স্বামীকে থানায় ডেকে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনার পরদিন সোমবার পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি করলেও পরে তা হত্যামামলায় রূপান্তর করা হয়। আর এই মামলায় বশিরসহ চারজনকে আসামি করা হয়।

থানার এসআই হারুন অর রশিদের করা ওই মামলায় বশিরসহ চারজনকে বুধবার ঢাকার আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

ওই আবেদনের শুনানি শেষে মহানগর হাকিম মাহবুবুর রহমান প্রত্যেক আসামিকে চার দিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশকে অনুমতি দেন।

এদিন চার আসামির পক্ষ থেকে জামিন আবেদন হলেও তা নাকচ করা হয়। অন্য তিন আসামি হলেন- বশিরের সহযোগী জাহিদুল ইসলাম ও আনিছুর রহমান এবং কাঠমিস্ত্রি নজরুল ইসলাম।

ছাদ থেকে পড়ার ব্যাখ্যা প্রথম দিন না দিলেও পুলিশের করা মামলায় বলা হয়েছে, থানায় বশিরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সাগর থানার ছাদ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পড়ে গিয়ে মারা যান।

ঢাকার রায়েরবাগ এলাকার বাসিন্দা সাগর অপরাধ দমন নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রতিবেদক ছিলেন।

ওই সংবাদপত্রে অধ্যক্ষ বশিরের বিরুদ্ধে একটি সংবাদ ছাপা নিয়ে দুজনের বিরোধের সূত্রপাত।

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুজনের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছেন রাজমিস্ত্রি নজরুল।

মামলায় বলা হয়, ট্রাস্ট কলেজের অধ্যক্ষ বশিরের কাছে কিছু টাকা পেতেন নজরুল মিস্ত্রি। পাওনা না পেয়ে তিনি গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ওই ঘটনা নিয়েই সাগর তার সংবাদপত্রে খবর ছাপান, যাতে ক্ষিপ্ত হন বশির। এনিয়ে দুজনে থানায় উভয়ের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি জিডি করেন।

ঘটনার দিন বশিরের সঙ্গে মীমাংসার কথা বলে পুলিশ সাগরকে থানায় ডেকে নিয়েছিল বলে তার স্ত্রী সোমবা জানান। পুলিশের এক কর্মকর্তাও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কাছে তা স্বীকার করেন।

পুলিশের করা এই মামলায় বলা হয়েছে, ঘটনার সময় সাগর ছাড়াও চার আসামিই থানায় উপস্থিত ছিলেন।

সোমা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পুলিশ অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। আমার স্বামীর হাতে এখনো পুলিশের হাতকড়ার দাগ আছে।”

তবে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি রফিকুল ইসলাম সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।

সাগর মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পাটগাঁয়ের বাসিন্দা হাজী পানু মিয়ার ছেলে।

বিডিনিউজ