গজারিয়ায় বসুন্ধরা পেপার মিলের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে মেঘনায়

basundaraমুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলায় আনারপুরা এলাকায় বসুন্ধরা পেপার মিলের ইউনিট-৩-এ উৎপাদিত পণ্যের বর্জ্য পাইপের মাধ্যমে ফেলা হচ্ছে উপজেলার মেঘনার শাখা নদীতে। কারখানা থেকে নির্গত এ বিষাক্ত বর্জ্য গজারিয়ার আনারপুরা, রায়পুরা, পুরান বাউশিয়া হয়ে সরাসরি মেঘনা নদীতে পড়ছে। এ কারণে জীববৈচিত্র পড়েছে হুমকির মুখে। প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত মেঘনার আনারপুরা শাখা নদীতে এখন আর কোন মাছ নেই। আগে এ শাখা নদীতে এলাকার লোকজন জাল ফেলে মাছ ধরলেও এখন নদীতে আর কেউ মাছ ধরতে যায় না। কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে সব মাছ। বিষাক্ত বর্জ্য নদীতে না ফেলতে বসুন্ধরা পেপার মিল কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অনুরোধ জানিয়েছে এলাকাবাসী। তাতে কোনো কাজ হয়নি। উল্টো তারা সমস্যায় পড়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের ‘ভাড়াটে লোক’ হিসেবে পরিচিত কিছু সন্ত্রাসী এলাকার সাধারণ মানুষকে মামলায় জড়িয়ে দিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তাই তাদের ভয়ে এলাকার কেও মুখ খুলছে না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে বসুন্ধরা পেপার মিলস ইউনিট-৩ কারখানার ভেতরে ফেসিয়াল টিস্যু, পকেট টিস্যু, পেপার ন্যাপকিন, পেপার টাওয়াল, টয়লেট টিস্যুসহ বিভিন্ন পেপার সামগ্রী তৈরি করা হয়। এসব সামগ্রী তৈরি করতে বিভিন্ন বিষাক্ত কেমিক্যালযুক্ত পানি ব্যবহার করা হয়।

গজারিয়া উপজেলার আনারপুরা, নয়াকান্দি, পুরান বাউশিয়া, চরবাউশিয়াসহ অনেক এলাকার মানুষ বসুন্ধরা পেপার মিলের নির্গত বিষাক্ত বর্জ্যরে কারণে নদীর পানি ব্যবহার করতে পারছেন না। এ ব্যাপারে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর কারখানাটিতে অভিযান চালায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট টিম। ওই টিম কারখানা এলাকা পরিদর্শন করে কারখানায় সৃষ্ট অপরিশোধিত তরল বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলার দায়ে বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেড ইউনিট-৩-কে ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করে। এরপরও তাদের পণ্যের বর্জ্য পাইপের মাধ্যমে ফেলা হচ্ছে উপজেলার মেঘনার শাখা নদীতে।

এবিনিউজ