ছাদ থেকে পড়ে নয়, থানায় নির্যাতনে মৃত্যু

deadউত্তরা পশ্চিম থানার ছাদ থেকে পড়ে শাহ আলম সাগরের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করলেও তার পরিবার বলছে ভিন্ন কথা। নিহতের স্ত্রী সোমা আক্তারের অভিযোগ, থানায় নিয়ে নির্যাতন চালিয়েই তার স্বামীকে হত্যা করার হয়েছে এবং এরপর ছাদ থেকে পড়ার ‘নাটক’ সাজানো হচ্ছে।

সাগর মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পাটগাঁয়ের বাসিন্দা হাজী পানু মিয়ার ছেলে। ‘সাপ্তাহিক অপরাধ দমন’ পত্রিকার প্রতিবেদক সাগর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রায়েরবাগ থাকতেন তিনি।

রোববার রাতে থানার পেছনে সাগরের লাশ পাওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, থানা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

উত্তরা ট্রাস্ট কলেজের অধ্যক্ষ বশির উদ্দিনের সঙ্গে রেশারেশির বিষয়ে মীমাংসা করতে সাগরকে থানায় ডেকে নেয়া হয়েছিল বলে পুলিশের এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।

সোমা সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পুলিশ অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। আমার স্বামীর হাতে এখনো পুলিশের হাতকড়ার দাগ আছে।”

“পুলিশ আমার সন্তানকে এতিম করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই,” বলেন তিনি।

দেড় দশক আগে সাগরের সঙ্গে সোমার বিয়ে হয়। এই দম্পতির একমাত্র মেয়ে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

সোমবার সকালে থানায় গিয়েছিলেন বলে জানান সোমা। থানার ওসি রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তিনি কথাও বলেছেন।

“ওসি বলেছেন, স্বামীর দাফনের কাজ শেষ করে কিছু টাকা নিয়ে যাইয়েন। আমি টাকা চাই না, স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাই।”

থানায় সাগরের দুটি মোবাইল ফোন এবং একটি ক্যামেরা রয়েছে বলে জানান সোমা।

সোমার অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে ওসি রফিকুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পুলিশ তাকে মারধর করেছে, সেটা তার পরিবার কি জিন-পরী নিয়োগ করে শুনেছে? আপনারা যে কেমন বিব্রতকর প্রশ্ন করেন! শুনে অবাক না হয়ে পারি না।”

সাগরের দুটি মোবাইল ফোন এবং ক্যামেরা থানায় রয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। তিনি দাবি করেন, ছাদ থেকে সাগর পড়ার সময় ক্যামেরাটিও পড়ে ভেঙে গেছে।

নিহতের স্ত্রী থানায় এলেও সেগুলো কেন ফেরত দেননি- জানতে চাইলে ওসি বলেন, “আমি ব্যস্ত ছিলাম। তাছাড়া উনিও (সোমা) তো চাননি।”

অধ্যক্ষ বশিরের সঙ্গে রেশারেশির বিষয়ে সোমা বলেন, “বশির উদ্দিনের কাছে ওই কলেজের কাঠমিস্ত্রি নজরুল ইসলাম অল্প কিছু টাকা পেতেন। দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও নজরুল টাকাটি ফেরত পাচ্ছিলেন না। গরিব মানুষের টাকা আদায় করে দিতে চেয়েছিল সাগর।”

নিজের পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে বশির ও সাগর উভয়ই পরস্পরের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন।

“তাই সে (সাগর) থানা পুলিশের আহ্বানে বশির উদ্দিনের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠক করতে থানায় গিয়েছিল,” বলেন সোমা।

এদিকে উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক মোরশেদ আলী মৃধা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সাগরের মৃত্যুর ঘটনায় সোমবার দুপুরে পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা করেছে। চারজনকে আটকও করা হয়েছে।

আটকরা হলেন- অধ্যক্ষ বশির উদ্দিন, শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম ও আনিসুর রহমান এবং কাঠমিস্ত্রি নজরুল ইসলাম।

বিডিনিউজ