সিপাহীপাড়ায় পুলিশ- বিএনপি সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ৮

hartalহরতালের সমর্থনে মিছিলকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার সিপাহীপাড়া এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ৮ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন- সদর উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন পুস্তি, বিএনপি কর্মী রাসেল বেপারী, জিতু হাওলাদার, রশীদ, শাহাজান সাজু, ফারুকসহ ৮ নেতাকর্মী।

এদের মধ্যে যুবদলের সভাপতিসহ তিনজন মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়া এনটিভির ক্যামেরাম্যান কামাল হোসেন পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হরতালের সমর্থনে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা সদর উপজেলার সিপাহীপাড়া এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এসময় তারা সিপাহীপাড়া এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিলে পুলিশ এতে বাধা দেয়।

এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও যানবাহন ভাঙচুর শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগানের ৩ রাউন্ড (রাবার বুলেট) গুলি ছোড়ে।

জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন আহমেদ সুজন জানান, পুলিশের গুলিতে সদর উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন পুস্তি, ছাত্রদল কর্মী ফারুক হোসেনসহ অন্তত ৮ থেকে ১০ বিএনপি কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, সিপাহীপাড়া এলাকায় বিএনপি কর্মীরা বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুর করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে পুলিশ।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ৩ রাউন্ড গুলি রাবার বুলেট ছুড়েছে পুলিশ।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

=================

বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৩

উপজেলা নির্বাচনে ভোট কারচুপির আভিযোগে ডাকা হরতালের মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুড়েছে। এতে বিএনপির তিন নেতা গুলিবিদ্ধ হন।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন পুস্তি (৪০), বিএনপিকর্মী নুর হোসেন পুস্তি (৩৩) ও ফারুক হোসেন (৩৮) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া দুই পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন আরো ১২ জন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

শনিবার সকালে মোহাম্মদ হোসেন পুস্তির নেতৃত্বে সদর উপজেলার হাতিমারা এলাকায় হরতাল সর্মথকরা একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি সিপাহীপাড়া এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এতে পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ সময় এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে বিএনপির তিন নেতা-কর্মী গুলিবিদ্ধ হন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, পিকেটারদের ইটের আঘাতে অন্তত দুইজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। হরতালকারীরা রাস্তা বন্ধ করে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিন রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশারফ হোসেন পুস্তি এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জন করে হরতালের আহ্বান করেন।

যমুনা নিউজ
==================

মুন্সীগঞ্জে বিএনপির মিছিলে লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট: আহত ১০

মুন্সীগঞ্জে উপজেলা নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে ডাকা হরতালের মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুড়েছে। এ ঘটনায় রাবার বুলেটবিদ্ধ হয়েছে বিএনপি সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যানর প্রার্থীর ছোট ভাই যুবদল সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন পুস্তি, যুবদল নেতা ফারুক আহম্মদসহ অন্তত ৭-৮ জন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলা বিএনপির পূর্ব ঘোষিত হরতাল কর্মসূচির সমর্থনে সদর উপজেলার হাতিমারা এলাকা থেকে বিএনপি একটি মিছিল বের করে। মিছিটি সোয়া ৯টায় সিপাহীপাড় চৌরাস্তা এলাকায় এলে পুলিশ বাধা দেয়।

এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। সে সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

সদর থানার ওসি (তদন্ত) ইয়ারদৌস জানান, বেপরোয়া নেতা কর্মিদের সামলাতে না পেরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ও ফাঁকা রাবার বুলেট ছুড়ে।

তবে এ ঘটনায় মোশাররফ হোসেন পুস্তির আহত হওয়ার ঘটনা সত্য নয়। বতর্মানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে পুলিশের ওই কর্মকর্তা দাবি করেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে নিবার্চন বর্জন করেছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোশাররফ হোসেন পুস্তি। এছাড়া পুনঃনির্বাচনের দাবিতে ১ মার্চ হরতাল আহ্বান করে জেলা বিএনপি।

শীর্ষ নিউজ
========

মুন্সীগঞ্জে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ: গুলিবিদ্ধ ৭

মুন্সীগঞ্জ সদরে উপজেলা নির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদে বিএনপির ডাকা হরতালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় রাবার বুলেটে ছয় হরতাল সমর্থকসহ সাত জন আহত হয়েছেন।

শনিবার ঘটনার সময় ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন ছয় পুলিশস সদস্য ও তিন গণমাধ্যমকর্মীসহ আরো অন্তত ১৯ জন।

গুলিবিদ্ধরা হলেন- সদর উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন পুস্তি (৪৫), রামপাল ১ নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ইয়ামিন দেওয়ান (২২) ও ২ নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি নুর হোসেন পুস্তি (২৫), যুবদলের কর্মী ফারুক হোসেন (৪২), শ্রমিক দলের কর্মী আব্দুল লতিফ (৪০), সেচ্ছাসেবক দলের কর্মী মাসুদ শেখ (৩০) ও স্কুটার চালক কামাল (৩০)।

তাদেরকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শৈবাল বসাক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গুলিবিদ্ধ সাতজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়রা গুলি এমনভাবে বিদ্ধ হয়েছে যে এখানে অপসারণ করা যাচ্ছিল না। তাই তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।”

তবে গুলিবিদ্ধদের সকলেই আশঙ্কামুক্ত বলে জানান শৈবাল।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে হরতালের সর্মথনে মোহাম্মদ হোসেন পুস্তির নেতৃত্বে সদর উপজেলার হাতিমারা এলাকা থেকে একটি মিছিল বের হয়। সিপাহিপাড়া এলাকায় মিছিলটিতে পুলিশ বাধা দিলে শুরু হয় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এক পর্যায়ে পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পরে হাতিমারা ও সিপাহিপাড়া মোড়ে হরতাল সমর্থকরা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে হরতালের পক্ষে স্লোগান দেয়।

সদর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, হরতালকারীরা রাস্তা বন্ধ করে পুলিশের ওপর ইটপাথর নিক্ষেপ করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিন রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে। পিকেটারদের ইটের আঘাতে ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

ঘটনাস্থলে বিজিবি, র‌্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান ওসি শহিদুল।

আহত পুলিশ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন- এসআই মনিরুজ্জমান (৩৬), এসআই মনিরুল ইসলাম (২৫), কনস্টেবল মনোয়ার হোসেন (২৯), কনস্টেবল তুহিন মোল্লা (৩০), কনস্টেবল যোবায়দুল হক (৩১) ও কনস্টেবল মিরাজ হোসেন (৩০)।

এছাড়া রামপাল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন মাদবর (৪৮), যুবদলের কর্মী নাঈম হোসেন (৩১), আক্তার হোসেন (৩০), রানা (২১), জনি (২২), জিতু (২৬), মিল্লাত (৩০), সাজু (৪২), রাসেল (৩৫), আওলাদ (৪০) এবং একাত্তর টিভির স্থানীয় প্রতিনিধি জসিম উদ্দন দেওয়ান (৩৫), চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ক্যামেরাম্যান রাজিব বাবু (২৮) ও মাইটিভির ক্যামেরাম্যান কামাল (৪৬)।

তাদের সবাইকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানান ওসি।

তিনি বলেন, হরতালে মুক্তারপুর এলাকায় পিকেটিং হলেও সদর উপজেলার অন্য কোনো এলাকায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শহরের ভেতরে সব ধরনের যান চলাচল করলেও ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কে সরাসরি বাস সার্ভিস কয়েক ঘণ্টা বন্ধ ছিল।

শহরের উত্তর অংশের কিছু দোকানপাট বন্ধ থাকলেও দক্ষিণের সব দোকানপাট খোলা রয়েছে বলে জানান তিনি।

জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মোশারফ হোসেন পুস্তি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকার ২৭ জানুয়ারির নির্বাচনে জনরায়কে ছিনতাই করেই ক্ষান্ত নয় হয়নি। গণতান্ত্রিক অধিকার শান্তিপূর্ণ হরতালের মিছিলে পুলিশ ন্যাক্কারজনকভাবে গুলিবর্ষণ করেছে।”

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের ভোটে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ বিএনপিসমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশারফ হোসেন পুস্তি, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জন করে। তারা পুনঃভোটের দাবিতে শনিবার সদর উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকেন।

বিডিনিউজ