তীব্র গ্যাস সংকট দুর্ভোগে মুন্সীগঞ্জবাসী

gas2মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বহু পরিবারের চুলা জ্বলছে না। অনেকে মাটির চুলায় রান্না-বান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন। মুন্সীগঞ্জ সদর, গজারিয়া, সিরাজদিখান, লৌহজং এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার অনেক স্থানে সকালেই গ্যাস উধাও। গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে হতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল, কোথাও বা রাত। এসব এলাকার সমস্যার জন্য অবৈধ গ্যাস সংযোগকে দায়ী করেছেন কর্মকর্তারা ।

তিতাস গ্যাসের স্থানীয় কর্মকর্তা ফোন আলাপে জানান, এছাড়া ঠাণ্ডায় পাইপলাইনে গ্যাসের উপজাত জমে যায়, এতে বাধা পায় গ্যাস সরবরাহ। তবে এই ঘাটতি আর সরবরাহে বাধার চেয়েও অবৈধ সংযোগকে সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে জানান। তিনি বলেন, শীতে গ্যাসের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনে গ্যাসের উপজাত কনডেনসেট জমে। সঞ্চালন লাইন পরিষ্কার করা গেলেও আমাদের সরবরাহ লাইন পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। এ পাইপলাইন পরিষ্কার করারও কোনো ব্যবস্থা নেই। পাইপলাইন পরিষ্কার করা গেলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতো।

তিনি জানান, সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ সংযোগগুলো। গজারিয়া ও মুন্সীগঞ্জ সদরে অবৈধ গ্যাসের সংযোগ অনেক বেশি। সরবরাহ পাইপলাইন বসানোর সময় এলাকার একটি হিসাব অনুযায়ী পাইপ বসানো হয়েছে। কিন্তু যত্রতত্র অবৈধ সংযোগের কারণে সরবরাহ লাইন ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে।

গ্যাসে সংকট নিয়ে ব্রিফিংএ সংসদ সদস্য এড মৃনাল কান্তি দাস জানান, কনসাটের মত মুন্সীগঞ্জের মানুষ যে কোন সময়
গ্যাসের জন্য বিক্ষোভে ফেটে পড়বে। শহরে পশ্চিম মুক্তারপুরে শাহ সিমেন্ট, ক্রাউন সিমেন্ট, কারখানা সহ বিভিন্ন শিল্প কার খানায় কম্প্রেসার লাগিয়ে গ্যাস নিয়ে যাচ্ছে একারনে মুন্সীগঞ্জ বাসী গ্যাস সঙ্কটে ভুগছে। অথচ প্রতিমাসে গ্যাসের বিল ঠিক মতই দিতে হচ্ছে, তাই অতি শিঘ্রই এর বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য জ়েলা প্রশাসকে নির্দেশ দেন।
gas2
মুন্সীগঞ্জে গৃহিনী বিউটি আক্তার মুন্সীগঞ্জ টাইমসকে জানান, ১০টার পর চুলা জ্বলে না। দুপুরের রান্না করতে হয় ভোর থেকে। সারাদিন গ্যাস থাকে না। রাত ১০ টার পর গ্যাসের চাপ বাড়ে। গ্যাসের সমস্যার কারণে গভীর রাতে রান্না করেন অনেকেই।বাধ্য হয়ে লাকরিত চুলা জ্বালাতে হয়।

বর্তমান সরকারের গত সাড়ে চার বছরে গ্যাসের উৎপাদন বেড়েছে ঠিকই কিন্তু ঘাটতি কমেনি। অদক্ষ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা আর দুর্নীতির কারণে গ্যাসের সংকট কাটেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে গ্যাস সংকট দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। গত কয়েক বছরে (২০০৯ থেকে ২০১৩) ৬৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন কমেছে। ফলে গত চার বছরে ৫১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে বাড়তি যোগ হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে যে গ্যাসের চাহিদা সে তুলনায় প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ঘাটতি হচ্ছে।

মুন্সিগঞ্জটাইমস