ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের বিজয়

dhakabarঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০১৪-১৫ বর্ষের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতপন্থিদের নীল প্যানেল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদসহ ১৯টি পদে নিরঙ্কুশভাবে বিজয়ী হয়েছে। নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে আওয়ামীপন্থি সাদা প্যানেলের।

সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন নীল প্যানেলের মো. মহসিন মিয়া। তিনি পেয়েছেন চার হাজার ৩৮৮টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাদা প্যানেলের সাইদুর রহমান মানিক পেয়েছেন তিন হাজার ১৯০টি ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচতি হয়েছেন নীল প্যানেলের মোসলেহ উদ্দিন জসিম। জসিম পেয়েছেন তিন হাজার ৬২৬টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাদা প্যানেলের মো. মোশাররফ হোসেন পেয়েছেন তিন হাজার ৩১৬টি ভোট।

আওয়ামীপন্থি সাদা প্যানেলের মো. তারিক হোসেনকে পরাজিত করে সিনিয়র সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন নীল প্যানেলের মো. রেজাউল করিম। তারিক হোসেন ও রেজাউল করিম পেয়েছেন যথাক্রমে তিন হাজার ২২৯টি ও তিন হাজার ৯৩৯টি ভোট।
dhakabar
সহ-সভপতি পদে নির্বাচতি হয়েছেন মো. জহির রায়হান। নীল প্যানেলের এই প্রার্থী পেয়েছেন তিন হাজার ৯০১টি ভোট। জহির রায়হানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাদা প্যানেলের মো. মঞ্জুর আলম মঞ্জু পেয়েছেন তিন হাজার ৩৬৮টি ভোট।

সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি-জামায়াতপন্থি প্যানেলের মো. ইউসুফ সরকার। তিনি পেয়েছেন তিন হাজার ৬৫৬টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বিন্দ্বী আওয়ামীপন্থি প্যানেলের মো. আবদুস সালাম খান পেয়েছেন তিন হাজার ৪১৩টি ভোট।

সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন নীল প্যানেলের মো. আরিফুর রহমান রঞ্জু। তিনি পেয়েছেন চার হাজার ১৯৪টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাদা প্যানেলের মো. শাহাদত হোসেন ভুঁইয়া পেয়েছেন দুই হাজার ৯৪৫টি ভোট।

সাদা প্যানেলের বিনয় কুমার ঘোষকে পরাজিত করে লাইব্রেরি সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন নীল প্যানেলের আহমদ উল্লাহ আমান। আমান পেয়েছেন চার হাজার ৩৪৪টি ভোট। বিনয় কুমার ঘোষ পেয়েছেন তিন হাজার ৫৪টি ভোট।

সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন নীল প্যানেলের রাফিসা আলম লাকি। তিনি পেয়েছেন তিন হাজার ৯৮১টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাদা প্যানেলের আফরোজা ফারহানা আহমেদ অরেঞ্জ পেয়েছেন তিন হাজার ৪৪৯টি ভোট।

দপ্তর সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন নীল প্যানেলের মো. শহীদ গাজী। তিনি পেয়েছেন চার হাজার ১৪৫টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাদা প্যানেলের আবদুল হাই মামুন পেয়েছেন তিন হাজার ৪৯১টি ভোট।

শুক্রবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল ঘোষণা করা হয়।

এবারের নির্বাচনে ১৪ হাজার তিনশ ১০ জন ভোটারের মধ্যে আট হাজার একশ ৭৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ঢাকা বারের ২৫টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন মোট ৭১ জন প্রার্থী। মূল লড়াই হয়েছে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত নীল প্যানেল ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের মধ্যে।

নতুন করে আবির্ভূত সবুজ প্যানেলের প্রার্থীরা কোনো পদেই ন্যূনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেননি।

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার ঢাকা আইনজীবী সমিতির ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারে দায়িত্ব পালেন করেছেন ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সবুর।

উল্লেখ্য, গত ২০১৩-১৪ বর্ষের নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে নীল প্যানেল সাধারণ সম্পাদকসহ ১৩টি পদে এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের প্রার্থীরা সভাপতিসহ ১২টি পদে জয়লাভ করেন।

বাংলাপোষ্ট