জাপান এসেছিলাম আর্থিক সচ্ছলতার জন্য

badal1কর্মসংস্থানের জন্য জাপানকে বেছে নিলেন কেন?
আশির দশকের মাঝামাঝি জাপান আসা হয় মূলত আমার ফুফাতো ভাইয়ের অনুপ্রেরণায়। তখন অবতরণ ভিসা প্রথা চালু ছিল। তাই বারবার আসতে বেগ পেতে হতো না।

জাপান প্রবাসীরা সাধারণত পুরনো গাড়ির ব্যবসায় সফলতার মুখ দেখেছেন, এ ক্ষেত্রে আপনি কেন হালাল ফুডের ব্যবসা বেছে নিলেন?
জাপানে এসে প্রথমদিকে খাবারের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তাই হালাল খাবারের বিষয়টা আমার ভাবনায় ছিল। এর আগে আমি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করেছি কিছুদিন।

জাপানে হালাল ফুড ব্যবসার ভবিষ্যৎ কী?
এখন কিছুটা স্থিতিশীল। আগামী বছরগুলোতে খুবই ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে সচেষ্ট। তারপর ২০২০ সালে টোকিও অলিম্পিক হবে। মুসলিম দেশগুলো থেকে অনেক অতিথি আসবেন। তাঁদের জন্য খাবারের প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া ক্রীড়াঙ্গনসহ ক্রীড়াবিদদের বাসস্থান-অর্থাৎ অলিম্পিক ভিলেজ গড়তে বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। সেখানেও অনেক মুসলিম শ্রমিকের আগমন ঘটবে। তাই উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বলে আমি মনে করি।

badal1
সপরিবারে বাদল চাকলাদার

বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে কোনো সমস্যা পোহাতে হয়?
বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে প্রশাসনিক জটিলতা। তারপর ব্যবসায়ীদের অধিক মুনাফা লাভের প্রবণতা, যে কারণে পণ্যমানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে না। জাপানে বিদেশি পণ্য, বিশেষ করে খাদ্যসামগ্রী আমদানির ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তা, ফাংগাস পরা ও কীটনাশক প্রয়োগের বিষয়গুলো পরীক্ষা করে দেখা হয়। এগুলোর ব্যাপারে আমাদের দেশে উদাসীনতা রয়েছে।

জাপানের কোন কোন শহরে ব্যবসা করছেন?
জাপানজুড়েই আমাদের ব্যবসা। উকিনাওয়া থেকে হোক্কাইডো পর্যন্ত। পণ্য পরিবহন সার্ভিসের মাধ্যমে যেকোনো প্রান্তেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য ভোক্তা অথবা ডিলারদের কাছে পৌঁছে যায়।

জাপানে ‘পদ্মা’ একটি ব্র্যান্ডের নাম। কিভাবে সম্ভব হলো?
কোয়ালিটি মেইনটেইন, ভোক্তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের মাধ্যমে তা সম্ভব হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী?
মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর ঢাকার অতি নিকটে হয়েও অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে। চিকিৎসার জন্য এখনো ঢাকায় দৌড়াতে হয়। বিশেষ করে চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে কাজ করার খুব ইচ্ছা।

ছেলেবেলার বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে?
গ্রামেই আমার জন্ম। সেখানেই বেড়ে ওঠা। প্রাইমারি স্কুল বন্ধুদের থেকে শুরু করে সবার সঙ্গেই এখনো যোগাযোগ আছে।

অবসরে কী করেন?
অবসর কথাটি আমার অভিধানে নেই। আমি কাজপাগল মানুষ। সব সময় কাজেই ডুবে থাকি। তার পরও যতটা সময় পাই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটানোর চেষ্টা করি। সমাজের কাজে লাগার চেষ্টা করি।

তরুণ ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে কিছু বলুন। প্রতিষ্ঠিত হতে হলে কী করতে হবে?
লক্ষ্য নির্ধারণ করে, কাজের প্রতি সম্মান রেখে এবং দায়বদ্ধ থেকে কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে এগিয়ে গেলে অবশ্যই সাফল্যের মুখ দেখা যাবে। কিছুদিন আগে বা পরে। ধৈর্যহারা হলে চলবে না, থাকতে হবে অধ্যবসায়।

কালের কন্ঠ