প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আমীর শিকদারসহ এজাহারভুক্ত আসামিরা

sanমুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার আমীর বাহিনীর প্রধান বহু মামলার আসামি আমীর শিকদারসহ শবনম কোল্ডস্টোরেজে হামলাকারি, চাঁদাবাজি, জমিদখলসহ বহু মামলার এজাহারভুক্ত সন্ত্রাসীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের রহস্যজনক কারণে ধরছে না। সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত শবনম কোল্ড স্টোরেজে গত শনিবার হামলার ঘটনায় ১০ জন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে।

ওই উপজেলার লোকজন মঙ্গলবার শবনম কোল্ডস্টোরেজের সামনে উপস্থিত হয়ে এ দাবি জানায়। সিরাজদিখান উপজেলাবাসীর পক্ষে সামসুল বেপারী বলেন, সন্ত্রাসী আমীর শিকদার ২২ ফেব্র“য়ারি তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে শবনম কোল্ডস্টোরেজে ঢুকে নিরীহ গরিব কর্মচারীদের লাঠি, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে প্রাণে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। ওই দিন সকালে খবর পেয়ে অন্য কর্মচারীরা এলাকার লোকজনের সহায়তায় তাদের মুক্ত করে সিরাজদিখান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এ বিষয়ে থানায় আমীর শিকদারসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলার পর থেকে অভিযুক্তরা এলাকার প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের সহায়তায় মুন্সীগঞ্জ ও সিরাজদিখানে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না। প্রত্যক্ষদর্শী ছোট শাহ আলম বলেন, শনিবার সকালে বাজারে যাওয়ার পথে দেখি শবনম কোল্ডস্টোরেজে হৈচৈ শোনা যাচ্ছে। ভিতরে গিয়ে দেখি সন্ত্রাসী আমীরসহ দশ-বারোজন লোক সবাইকে কাজ বন্ধ রেখে বেরিয়ে যেতে বলে। কাজ কেন বন্ধ রাখবে এই কথা জিজ্ঞেস করতেই রড দিয়ে এলোপাতাড়ি সবাইকে পেটাতে শুরু করে।

হঠাৎ সন্ত্রাসীদের আক্রমণে কোল্ডস্টোরেজের সবাই আতংকে পালায়। আমীর শিকদার ও তার বাহিনীর সদস্যদের এ অপকর্ম দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় চলে আসছে। সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, স্থানীয় প্রশাসনও তটস্থ থাকে আমীর শিকদার ও তার বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বৃদ্ধ বলেন, পুলিশ আমীর শিকদার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর কাউকেই কোনো দিন ধরবে না। ওরা ওর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে টাকা খায়। আমীর শিকদার প্রতিদিনই এই কোল্ডস্টোরেজের আশপাশে আসে, পুলি জানে।

কিন্তু রহস্যজনক কারণে ধরে না। পুলিশ তাদের না ধরায় সিরাজদিখানে আমীর শিকদার ও তার বাহিনী এতটাই বেপরোয়া যে, কাউকেই এখন আর পাত্তা দিচ্ছে না তারা। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ নানা অপকর্মে এ চক্রটি জড়িত। প্রতিদিনই চাঁদার দাবিতে এ বাহিনীর সদস্যরা হানা দিচ্ছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। চাঁদা না দিলে মারধর করছে, লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র। প্রাণের ভয়ে অথবা পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ভুক্তভোগীরা প্রকাশ্যে কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সন্ত্রাসী এ বাহিনীর সদস্যদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের সাধারণ মানুষ।

যুগান্তর