পদ্মা সেতুর জন্য স্থানীয়ভাবে ডলার কিনলে অর্থনীতির উপর ঝুঁকি বাড়বে

padmaনিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় ডলার সংগ্রহের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মজুদের উপর নির্ভর করছে সরকার। আর এ নির্ভরতাকে দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও রয়েছে।

কয়েক দফা বাড়িয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য সর্বশেষ ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ হাজার কোটি টাকা, যার ৮০ শতাংশ ব্যয় করতে হবে ডলারে। নিজস্ব অর্থায়নে এ নির্মাণের কাজ করতে হলে সরকারকে দু’শ কোটি ডলারেরও বেশি সংগ্রহ করতে হবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়। আগামী ৪ বছরে জাতীয় বাজেটের মাধ্যমে এই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেবে সরকার। আর সেই টাকা ডলারে রুপাšত্মরের দায়িত্ব ও দেয়া হয় অগ্রণী ব্যাংককে। বাজার এবং অন্যন্য বানিজ্য ব্যাংকের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও ডলার কিনতে পারবে ব্যাংকটি। এমন অবস্থায় সম্প্রতি এক বৈঠকে পদ্মা সেতুর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডলার কেনার পরিকল্পনার কথা জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তিনি বলেন, ডলার যখন লাগবে তখন বাংলাদেশ ব্যাংক ফরেন রিজার্ভ থেকে দিয়ে দেবে।

তবে এ ধরনের বড় অংকের টাকা যখন প্রয়োজন হয় তখন স্থানীয় মার্কেট থেকে ডলার সংগ্রহ বা¯ত্মবসম্মত নয় বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্ণর খোন্দকার খালেদ। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে যেহেতেু বেশি টাকা লাগবে, এটা মার্কেট থেকে কিনে হবেনা, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেই নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, ৩ মাসের আমদানি চলতে পারে এই পরিমাণ রিজার্ভকেও নিরাপদ রিজার্ভ বলা হয়। আমাদের এখানে ৭ মাসের মত রিজার্ভ রয়ে গেছে। এটা তো অনেক বেশি। আর যেহেতু বেশি সেহেতু আমার দেশের প্রয়োজনে এটা ব্যবহার করা যেতেই পারে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে এই অর্থ ব্যয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, রিজার্ভ এর মত স্বল্পমেয়াদী একটা খাতকে দীর্ঘমেয়াদী খাতের সাথে বিনিময় করা ঠিক হবেনা। এতে আমাদের রিজার্ভে যেমন চাপ পড়বে তেমন বাজেটের উপরও চাপ পড়বে। এই মুহুর্তে আমাদের ১ হাজার ৯‘শ কোটি ডলারেরও বেশি রিজার্ভ থাকায় দেশের জন্য সšেত্মাষজনক হলেও উন্নয়নমূলক কাজে রিজার্ভ থেকে ব্যয় করা অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙকা সাবেক এই গভর্ণরের।

সময় টিভি