সদর উপজেলায় শেষ মুহূর্তের প্রচারণা জমজমাট

3 ucআগামী ২৭ ফেব্র“য়ারি অনুষ্ঠেয় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। শেষবারের মতো গণসংযোগ, লিফলেট বিলি করছেন প্রার্থীদের সমর্থকরা। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে সদর উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক-জনপদ, হাট-বাজার, লোকালয়। জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে অনেক প্রার্থীর ব্যানার শোভা পাচ্ছে। সর্বোপরি নির্বাচনী আমেজে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার ভোটাররা। সবার মাঝে আনন্দ-উৎফুল্ল ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে মুন্সীগঞ্জের চরাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়ন চর কেওয়ার, মোল্লাকান্দি, আধারা, শিলই ও বাংলাবাজারে ব্যতিক্রম পরিবেশ বিরাজ করছে। সেখানে সাধারণ ভোটারদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৬ হাজার। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, ভাইস-চেয়ারম্যান পদে পুরুষ ২ জন এবং মহিলা ২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটগ্রহণ অবাধ ও সুষ্ঠু হলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত দুই প্রার্থীর মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে এমনটা মনে করেন বেশির ভাগ ভোটার।


সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদের লড়াইতে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে অ্যাডভোকেট হাজী সালাউদ্দিন খান স্বপন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনিছউজ্জামান আনিসের প্রতীক (দোয়াত কলম) এবং বিএনপি সমর্থিত মোশাররফ হোসেন পুস্তি মার্কা (আনারস)। ভাইস-চেয়ারম্যান পদে বিএনপির শহীদুল ইসলাম শহীদ (তালা)। আওয়ামী লীগের আমির হোসেন গাজী (উড়োজাহাজ)। মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদেও লড়াই হবে। আওয়ামী লীগের মেহেরুন নেছা নাজমার কলস আর বিএনপির রুবী আক্তার হাঁস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চরাঞ্চলের সবক’টি ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবি করেছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোশাররফ হোসেন পুস্তি। তার দাবি- সাধারণ ভোটাররা তাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমর্থন জানিয়েছেন।

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলে তিনি ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হবেন। মোশাররফ হোসেন পুস্তি অভিযোগ করে বলেন, চরাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নে তিনি প্রচারণা চালাতে পারছেন না। তার পক্ষে মাইকিং করা যাচ্ছে না, অনেকে আবার পোস্টার লাগাতে বাধা দিচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগও দিয়েছেন একাধিকবার বলে সাংবাদিকদের জানান বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোশাররফ পুস্তি। তিনি আরও বলেন, ভোট না দিলে বাড়িতে থাকতে দেয়া হবে না- সাধারণ ভোটারদের এমন হুমকি দেয়া হচ্ছে। নানারকম ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। বিএনপি সমর্থিতদের বাড়িছাড়া করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ আমলে নিতে নারাজ আওয়ামী লীগ প্রার্থী আনিছউজ্জামান আনিছ। তার মতে, চরাঞ্চলসহ সর্বত্রই ভোট শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে।


জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলনের মাধ্যমেই আমার জয় নিশ্চিত বলে জানান আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিছউজ্জামান আনিছ। সদর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা, মিরকাদিম পৌরসভা, মহাকালী ইউনিয়ন, বজ যোগিনী ইউনিয়ন, রামপাল ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান ঘুরে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হবে বলে আশাবাদী। তবে চরাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নের ভোটারদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, নির্বাচন এলেই আতংকে থাকে চরাঞ্চলের মানুষ। কারণ নির্বাচন এলেই সংঘর্ষ হয়। মারামারি হয়। হতাহতের ঘটনা ঘটে। এবারও দুই পক্ষই শক্তিশালী হওয়ায় তারা আতংকিত। তাদের দাবি নির্বাচনকে সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ করতে চরাঞ্চলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা প্রয়োজন। তা ছাড়া অতিরিক্ত বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হতে পারে। রিটার্নিং অফিসার সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি প্রার্থীদের অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। এর ওপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিজিবি ও সেনাবাহিনী এলে পরিবেশ আরও সুন্দর হবে।

যুগান্তর
=====

মুন্সীগঞ্জ সদর ও শ্রীনগরে প্রার্থীরা মহাব্যস্ত

শ্রীনগর ও মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলা নির্বাচন নিয়ে প্রার্থীরা এখন মহাব্যস্ত। ভোটারদের কাঠগড়ায় ১৮ প্রার্থীর কৌশলের যেন শেষ নেই। চেয়ারম্যান পদে সদর উপজেলায় বিএনপির এবং শ্রীনগর উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দল দুটি পড়েছে বাড়তি সমস্যায়। কিন্তু দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। রাস্তায় রাস্তায় সাঁটানো সারি সারি পোস্টার, ব্যানার, মাইকিং এবং জনসংযোগের ব্যাপকতা যেন অন্য সব নির্বাচনকে ছাপিয়ে গেছে। চলছে যেন নির্বাচনী উৎসব। দ্বিতীয় দফায় ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে এখানে।

যে রাস্তায় চোখ পড়বে সেখানেই ঝুলছে সাদাকালো পোস্টারের সারি। পোস্টার পোস্টারে ছেয়ে গেছে রাস্তাঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থান। রাস্তার পর রাস্তায় এই দৃশ্য। শেষ মুহূর্তের প্রচারও বেশ জমে উঠেছে। যেন নির্বাচন জ্বরে আক্রান্ত প্রাচীন এ জনপদ বিক্রমপুর তথা মুন্সীগঞ্জ। চায়ের দোকানসহ সবখানেই নির্বাচনী আলাপ। জমজমাট নির্বাচনী পরিবেশে কদরও বেড়েছে ভোটারদের। তাই সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধিদের কাছে প্রত্যাশাও তুলে ধরতে পারছেন তাঁরা।

১৪ ইউনিয়নের শ্রীনগর উপজেলায় বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যদিও এখানে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহসম্পাদক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। তার পরও প্রাচারে দলীয় প্রভাব বেশি থাকায় দলীয় প্রার্থীরাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এ দুই প্রার্থী এখন চষে বেড়াচ্ছেন জনরায় অনুকূলে নিতে। শ্রীনগর উপজেলার বিএনপি প্রার্থী মমিন আলী (দোয়াত-কলম) জানান, জনগণের রায়েই সঠিক জনপ্রিয়তা যাচাই হবে। আর সে জনরায় পক্ষে নিতে পারছি বলে মনে হচ্ছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেলিম আহম্মেদ ভূঁইয়া (আনারস) জানান, জনগণ যদি আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেন, তবে অবশ্যই আমার মেধা আর প্রজ্ঞার সবটুকুই তাদের স্বার্থে কাজে লাগাব।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় এবার মর্যাদার লড়াই। এ নির্বাচনে চার খ-ের আওয়ামী লীগ এখন এককাট্টা। বিদ্রোহী প্রার্থী শহর বিএনপির সহসভাপতি সালাউদ্দিন খান স্বপন বহিষ্কৃত হলেও বিএনপি মূলত অন্তর্কলহ ভুলে গেছে। তাই দুই দল সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে এখানে। এ কারণে সকলের দৃষ্টি সদরে।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ও সদ্য সাবেক হওয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আনিছুজ্জামান আনিস (দোয়াত-কলম) জানান, পঞ্চসার এলাকায় আমার সকল পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছে বিএনপির লোকজন। এ ছাড়া বিভিন্নস্থানে নিজেরা নানা অঘটন ঘটিয়ে মিথ্যাচার করছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। কোন অপকৌশলে নয়, আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে চাই।

বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশারফ হোসেন পুস্তী (আনারস) জানান, নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় আওয়ামী লীগ মুন্সীরহাটে হামলা চালায়। এতে তিনি এবং জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাইসহ ৫ জন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়াও শ্রীনগরে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মোঃ ইরফান শিকদার (মোটর-সাইকেল), ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী শেখ মোঃ আলমগীর (উড়োহাজাজ), বিএনপির প্রার্থী সেলিম হোসেন খান (বৈদ্যুতিক বাল্ব), বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল (তালা), জাতীয় পার্টির আবুল হোসেনের (টিউবওয়েল) ও ইসলামী শাসনতন্ত্রের মাওলানা শাহাদাত হোসেন (জাহাজ) ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের আছিয়া আক্তার রুমু (কলস) ও বিএনপির জাহানারা বেগম (হাঁস)।

সদরে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামী লীগের আমির হোসেন গাজী (উড়োজাহাজ) এবং বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম (তালা)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মেহেরুন্নেসা নাজমা (কলস) এবং বিএনপি প্রার্থী রুবী আক্তার (হাঁস) মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে এই পদগুলোতেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

জনকন্ঠ