কোথায় যাচ্ছে মাওয়া ঘাট?

আজ রবিবার মাওয়া ঘাটের ভাগ্য নির্ধারণে পদ্মায় বসছে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক। সকালে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়ার পদ্মা নদীতে বিআইডব্লিউটিএর ‘সন্ধানী’ জাহাজে বসছে এ বৈঠক। এতে সরকারের নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ওসমান গনি তালুকদার বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বলে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতুর কাজ জুন মাসের মধ্যে শুরু করার কারণে মাওয়া ঘাট সেতুর কাজের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ঘাট সরিয়ে নিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এরই আলোকে মাওয়া ঘাটকে যশলদিয়ার কান্দিপাড়া এলাকায় স্থানান্তরের জন্য প্রায় ৬ শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দফতরে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রকল্প ব্যয় অতিরিক্ত মনে করায় প্রধানমন্ত্রী ফাইলটিতে স্বাক্ষর না করে প্রকল্প ব্যয় কমিয়ে ঘাট স্থানান্তরের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট ফাইলটি ফেরত পাঠান। ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ফেরত আসার পর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্তি সচিব মোঃ আলাউদ্দিনকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি কয়েক দফা পদ্মা নদীতে জাহাজে মাওয়া কান্দিপাড়া ও কুমারভোগের শিমুলিয়া বাজার পর্যন্ত পরিদর্শন করে শিমুলিয়া বাজার ঘাটকে সম্ভাব্য ফেরিঘাট হিসেবে নির্বাচন করে। এতে প্রকল্প ব্যয় অর্ধেকে নেমে আসলেও কিছুটা সমস্যা রয়ে গেছে। কারণ এ ঘাটে ফেরিসহ লঞ্চ, সিবোট ও ট্রলারকে আসতে হলে মাওয়া বর্তমান ঘাট পার হয়ে আরও পূর্ব দিকে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজে বাধার সৃষ্টি হবে কি-না এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ বর্তমান ঘাট এলাকা দিয়েই শুরু হবে পদ্মা সেতুর মূল কাজ। সেতুর গোড়াও শুরু হবে এখান থেকে। তাই নির্মাণাধীন নৌযানগুলো এ এলাকা পাড়ি দিতে সেতুর কাজের সমস্যা না হলে শিমুলিয়া ঘাটেই স্থানান্তরিত হবে মাওয়া ঘাট। এরই প্রেক্ষিতে আজ পদ্মা নদীতে বিআইডব্লিউটিএর সন্ধানী জাহাজে বসছে এ বৈঠক। পদ্মা দিয়ে জাহাজে ঘুরে প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে প্রদক্ষিণ শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে আজ।

আজকের বৈঠকে এ নিয়ে বিশদ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হবে কোথায় যাবে মাওয়া ঘাট। বৈঠকে তিন মন্ত্রী ছাড়াও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সচিব, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, মুন্সীগঞ্জের ডিসি মোঃ সাইফুল হাসান বাদল, এডিসি (রাজস্ব) ব্যারিস্টার মোঃ গোলাম সারোয়ার ভূইয়া, লৌহজং উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ ওসমান গনি তালুকদার, সেতু বিভাগ, সড়ক ও জনপথ, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউ-টিসিসহ প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর কাজের সুবিধার্থে বর্তমান নৌচ্যানেলগুলো থেকে অন্য চ্যানেলে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে হাইড্রোগ্রাফি জরিপ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমান লৌহজং-মাগুরখন্ড চ্যানেলটি বাদ দিয়ে সাবেক কতুতরখোলা চ্যানেলটি খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে কবুতর খোলা চ্যানেলে ড্রেজিংয়ের কাজের জন্য একটি ড্রেজার চ্যানেলমুখে এসে পৌছেছে। আজকের মধ্যে আরও একটি ড্রেজার চলে আসবে। ২-১ দিনের মধ্যে কবুতরখোলা চ্যানেলে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হবে। চ্যানেলটিতে খুব শীঘ্রই গভীরতা ফিরিয়ে এনে তা ফেরি চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।

জনকন্ঠ