মাওয়া পয়েন্টে ভাঙ্গন ঝুঁকিতে পদ্মা সেতুর অবস্থান

padma৮শ কোটি টাকায় নেওয়া হচ্ছে নদীর পাড় রক্ষা প্রকল্প
মাওয়ায় ভাঙ্গন ঝুঁকিতে পড়েছে পদ্মা সেতুর প্রকল্প এলাকা। এজন্য পাড় রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে দুটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা, যা পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে নির্বাহ করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার পদ্মা সেতুর নদী শাসনের অংশের দরপত্র গ্রহণশেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি।

যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর প্রকল্প এলাকা মাওয়ায় নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকি বাড়ছে। এজন্য দ্রুত ৯০ কোটি টাকায় একটি মূল প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। পূর্বের পদ্মা সেতু প্রকল্পে এটি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এটি বাস্তবায়ন করবে। এরই মধ্যে বিস্তারিত ডিজাইনও চূড়ান্ত করা হয়েছে। মাওয়া পাড় রক্ষায় আরো বড় আকারে আরেকটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হচ্ছে। এজন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। পদ্মা সেতুর অবস্থান নিরাপদ রাখতেই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি এসময় সাংবাদিকদের জানান, আগামী সপ্তাহের রোববার মাওয়ায় পদ্মা নদী ভাঙ্গনকবলিত এলাকায় তার সঙ্গে আরও পরিদর্শন করবেন নৌ-পরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খান ও পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।


সংবাদ সম্মেলনে সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের আওতায় মাওয়া ও জাজিরা দুই পাড়ে দেড় কিলোমিটার করে নদী শাসন করা হবে। তবে মাওয়ায় যেভাবে ভাঙছে তাতে পদ্মা সেতুর অবস্থান ভবিষ্যতে ঝুঁকিতে পড়বে। বিশেষত ঢাকা-মাওয়া সড়ক বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এজন্য নদী শাসন অংশের বাইরে মাওয়ার দিকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মিটার পাড় রক্ষায় বাঁধ দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত ফার্স্ট ট্র্যাক কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। মাওয়া পাড় রক্ষায় যে অর্থ ব্যয় হবে তা পরে প্রকল্প সংশোধনের সময় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর বাইরে পাউবো আরো প্রায় ৫ কিলোমিটার বাঁধ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করবে।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় পদ্মা সেতুর নদী শাসন অংশের দরপত্র জমা দেয় প্রাকযোগ্য পাঁচ প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলÑ জাপানের পেন্টা-ওশান কন্সট্রাকশনস, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের যৌথ বিনিয়োগের প্রতিষ্ঠান পদ্মা আরটিসি, বেলজিয়ামের জেন ডি লুন, চীনের সিনো-হাইড্রো কর্পোরেশন লিমিটেড এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কন্সট্রাকশন। তবে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিনিয়োগের প্রতিষ্ঠান পিএজি দরপত্রে অংশ নেয়নি। ১৫ সেপ্টেম্বর নদী শাসন অংশের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, পাঁচ প্রতিষ্ঠান দরপত্র সংগ্রহ করেছিল। সবাই কারিগরি দরপত্র জমা দিয়েছে। এখন এ প্রস্তাব পদ্মা সেতুর ডিজাইন ও ক্রয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এইকমের কাছে পাঠানো হবে। তাদের মতামতের পর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটিতে (পিইসি) যাবে দরপত্র। কারিগরি মূল্যায়নের পর আর্থিক প্রস্তাবনা চাওয়া হবে। এর পর সর্বনিু দরদাতাকে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী আগস্টে নদী শাসন কাজের কার্যাদেশ দেওয়া যাবে। তিনি আরো বলেন, গত মাসে মূল সেতুর দরপত্র জমা দিয়েছে তিন প্রতিষ্ঠান। মূল সেতুর কার্যাদেশ আগামী জুনে দেওয়া যাবে।

সেতু বিভাগের সচিব বলেন, পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে কোনো জটিলতা নেই। চলতি বছরের বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ পুরোটা ব্যয় হবে না। তিনি আরো বলেন, যমুনা (বঙ্গবন্ধু) সেতুর মতোই বাজেট বরাদ্দ থেকে পদ্মা সেতুর বিল ঠিকাদারদের দেওয়া হবে। সে অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ডলারে রূপান্তর করে ঠিকাদাররা নিয়ে যাবে।

এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল অবকাঠামো ও নদী শাসনের অংশের জন্য পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গত ২৩ জানুয়ারি এ অংশের জন্য প্রাকযোগ্য পাঁচ প্রতিষ্ঠানের কাছে চূড়ান্ত প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলÑ যুক্তরাষ্ট্রের লুইস বার্জার গ্র“প ইনকরপোরেশন, দক্ষিণ কোরিয়ার সিওইয়ং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড ও কোরিয়া এক্সপ্রেস কো-অপারেশন, ফ্রান্সের ইগিস ইন্টারন্যাশনাল এবং ভারতের ইন্টারকন্টিনেন্টাল কনসালটেন্টস অ্যান্ড টেকনোক্রেটস প্রাইভেট লিমিটেড।

প্রকল্পের অপর তিন অংশÑ জাজিরা সংযোগ সড়ক, মাওয়া সংযোগ সড়ক এবং নির্মাণকালীন ও নির্মাণ-পরবর্তী ব্যবহারের অবকাঠামো (সার্ভিস এলাকা-২) নির্মাণকাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। এ তিন অংশের পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। এছাড়া প্রকল্প এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

আমাদের সময়