মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালটা যখন নিজেই রোগী

সামসুল হুদা হিটু: মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে অনেক ডাক্তার শূন্য থাকায় রোগীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রায় ছয় মাস ধরে অর্থোপেডিক্স বিভাগ ডাক্তার নেই। চক্ষু বিভাগে ডাক্তার নেই দুই মাস। মেডিসিন বিভাগ ডাক্তার শূন্য প্রায় ৫ বছরের অধিক সময় ধরে। শিশু কনসালটেন্টকেই দেখতে হয় মেডিসিন বিভাগর ভর্তি রোগিদের। এমনকি আলটাসনোগ্রাফির ডাক্তারটিও নেই চার মাস যাবৎ। বর্হিবিভাগের মেডিকেল অফিসারদের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমানে ডাক্তার নেই বলে রোগীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দারিয়ে থাকতে হয়।

চর বেসনাল থেকে আসা রোগী মতিয়া বেগম (৫৫) বলেন, চিকিৎসার দরকার তাই ভর্তি হয়ে নিচে শূয়ে আছি। সিপাহি পাড়া থেকে আউট ডোরে ডাক্তার দেখাতে আসা রোগী আমেনা বলেন, আমি ডাক্তার দেখানোর জন্য সকাল থেকে লাইনে দারিয়ে আছি এখন দুপুর হয়ে গেছে তবুও দেখাতে পারছিনা ভিরের কারনে। এ রোগীদের দিকে খেয়াল করার যেনো কেউ নেই। এসব অব্যবস্থাপনার কারনে অনেক রোগীকে তার স্বজনরা হাসপাতাল থেকে নিয়ে যায় বেসরকারি ক্লিনিকে। হাসপাতালের কেবিন এবং জেনারেল বেডের বাথরুম সবকটিই অপরিষ্কার, টয়লেট ও পনির কল নষ্ট থাকায় আরও বেশী দুর্ভোগ পোহাতে হয় রোগীদের। বাহিরের চাপ কল দুটি প্রায়ই নষ্ট থাকায় রোগীরা খাবারের পানিও পায়না।


হাসপাতালের বেড গুলোর অধিকাংশই ভাঙ্গা এবং যেসব বেডগুলো কোন রকম ঠিক আছে, তার আবার বিছানা নেই, যার কারণে রোগীদের বেডে শুতে অসুবিধা হয়। বেডের অভাবে রোগীদের ফ্লোরে থাকতে হয় নিজস্ব বিছানা পেতে। জনবলের অভাবে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাও সঠিক ভাবে হয়না। ওয়ার্ডের সবকটি লাইটও জলেনা, অধিকাংশ ফ্যান নষ্ট। এতে হাসপাতালের ভেতরের অধিকাংশ জায়গাই অন্ধকারে থাকে। নাই কোন দারোয়ান। নাই কোন পাহারাদার। হাসপাতালটার দিকে তাকালে মনে হয় সে নিজেই রোগী। নতুন সিভিল সার্জন আসার পরে গাইনী বিভাগটা অনেক উন্নতি হয়েছে । কিন্তু উন্নতি হয়নি আউটডোর।

উল্লেখ্য,গত সপ্তাহে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস সরজমিনে ঘুরে দেখে গেছেন।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন শরিফুল আলম জানান, ডাক্তারদের আনার জন্য কাগজ পত্র পাঠানো হয়েছে। আমি একে একে সব ডাক্তার আনব। বেড গুলো কিছুটা কিনা হয়েছে দুই-তিন দিনের মধ্যে সব বসানো হবে।