মুক্তির পর ঢাকা সিটি নিয়ে চ্যালেঞ্জে পড়বেন খোকা

khokaমুক্তি পাওয়ার পর ঢাকা মহানগর বিএনপি নিয়ে চ্যালেঞ্জে পড়তে যাচ্ছেন আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা। রাজধানীর অভিভাবকের দায়িত্ব থাকায় সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থতার দায়ভার অনেকাংশে তার ওপরই বর্তাচ্ছে। মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় তাকেই দোষারূপ করা হচ্ছে।এসব বাস্তবতা মাথায় নিয়ে আজ মুক্তি পেতে যাচ্ছেন তিনি।

সাদেক হোসেন খোকার ব্যক্তিগত সহকারী সিদ্দিকুর রহমান মান্না বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, নতুন করে কোনো বাধা না এলে আজ সন্ধ্যার মধ্যেই মুক্তি পাবেন স্যার (সাদেক হোসেন খোকা)। গত রবিবার সব মামলায় জামিন পেলেও আইনি জটিলতার কারণে গত দুই দিনে মুক্তি মেলেনি বলেও জানান তিনি। গত ৩ ডিসেম্বর রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার হন সাদেক হোসেন খোকা। পরে তাকে মতিঝিলে শাপলা চত্বরে হেফাজতের ঘটনাসহ ৯টি মামলায় আসামি করা হয়। দুই দফা রিমান্ডেও নেওয়া হয় বিএনপির এই সহসভাপতিকে।


ইতোমধ্যে খোকার অনুপস্থিতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মহানগরের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বেগম জিয়া মহানগরের সার্বিক কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। যদিও আন্দোলনে ব্যর্থতার দায় এককভাবে মহানগর বিএনপিকে দায়ী করেননি। তিনি বলেছেন, এ ব্যর্থতার দায় মূল দল ও এর অঙ্গ সংগঠনের সব নেতারই। তারপরও মহানগর বিএনপিকে ঢেলে সাজাতে যাচ্ছেন বেগম জিয়া। পুনর্গঠন করবেন ছাত্রদল, যুবদলসহ অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনও। তবে পুনর্গঠিত মহানগরের নেতৃত্বে সাদেক হোসেন খোকা থাকছেন কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। খোকা তার ঘনিষ্ঠজনদের বলেছেন, মহানগরের নেতৃত্বে থাকতে চান না তিনি। জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে রাজধানীতে রাজপথের আন্দোলনে মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের অধিকাংশই আত্দগোপনে ছিলেন। পাশাপাশি বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতারাও মাঠে ছিলেন না। বিশেষ করে গত ২৯ ডিসেম্বর বেগম জিয়া ঢাকায় ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচি’র ডাক দিলে মহানগরের সর্বস্তরের নেতারা আত্দগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে একদিন পর কর্মসূচি দিলে তাতেও সাড়া দেননি নেতারা। এতে চরম ক্ষিপ্ত হন বেগম জিয়া। তাই তিনি মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন পুনর্গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, বিগত সময়ের আন্দোলনে মহানগর বিএনপির কম-বেশি ব্যর্থতা ছিল। কিন্তু কঠোর বাস্তবতাও ছিল। কোনো মিছিল-মিটিং বের করলেই পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। দলের কমিটি গঠনে কর্মিসভা পর্যন্ত করতে দেয়নি পুলিশ। তারপরও মহানগর বিএনপি চেষ্টা চালিয়ে গেছে। এখন বিএনপি চেয়ারপারসন মহানগর পুনর্গঠনের কথা ভাবছেন। তিনি যাকে যেখানে দায়িত্ব দেবেন দলের একজন কর্মী হিসেবে আমরা সেখানেই দায়িত্ব পালন করব।

বাংলাদেশ প্রতিদিন