আওয়ামী লীগ নেতাকে বাদ দিয়ে অবশেষে ধর্ষনের মামলা নিল পুলিশ

yeasminশ্রীনগরে কলেজ ছাত্রী ইয়াসমিনের আত্মহত্যার দুদিন পর
আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে ধর্ষনের পর কলেজ ছাত্রী ইয়াসমিনের আত্মহত্যার ঘটনায় অবশেষে সালিশকারীদের মূল হোতা আওয়ামী লীগ নেতাকে বাদ দিয়ে ধর্ষনের মামলা নিয়েছে পুলিশ। ধর্ষনের ঘটনায় সালিশ করার অভিযোগে পুলিশ গত শনিবার রাতেই বাড়ৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কালাম মেম্বারকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সালিশকারীদের প্রভাবে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করে পুলিশ। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার বেলা এগারটার দিকে ইয়াসমিনের সহপাঠি খাহ্রা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের শ শ ছাত্র ছাত্রী একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বাড়ৈখালী গ্রামে এসে ধর্ষক সালামের বাড়ি ঘর ভাংচুর করে।


এর পর পরই শ্রীনগর সার্কেলের এএসপি মিয়া মো: কুতুবুর রহমান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শ্রীনগর থানার ওসিকে ধর্ষক ও ধর্ষনের আলামত নষ্টকারী সালিশদারদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ফলে ধর্ষক সালাম ও চার সালিশকারীর বিরুদ্ধে মামলা নেয় পুলিশ। কিন্তুু সালিশে মূল ভুমিকা পালনকারী বাড়ৈখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেনকে মামলায় আসামী না করায় এলাকাবাসী বিস্ময় প্রকাশ করেন। এব্যাপারে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীনগর থানার এসআই আ: সালাম বলেন, কেউ এজাহার থেকে বাদ পরে থাকলে তদন্ত করে তাদেরকে মামলার আসামী হিসাবে অন্তর্ভূক্ত করা হবে।


গত বুধবার রাত আটটার দিকে ফাকা বাড়িতে একা পেয়ে ইয়াসমিন (১৮) কে ধর্ষন করে তারই বাবার বন্ধু একই গ্রামের সাত সন্তানের জনক সালাম (৫৫)। এসময় ইয়াসমিনের চিৎকারে আশ পাশের লোকজন এসে সালামকে হাতে নাতে ধরে ফেলে। এর পর পরই ঐবাড়িতে বাড়ৈখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, ইউপি সদস্য জাহের মোড়ল, কালাম মেম্বার, হেলাল মাতবর, সিরাজুল ইসলাম মিলনের নেতৃত্বে সালিশ বসে। সালিশে সালামকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করে ইয়াসমিনকে গালমন্দ করে গ্রাম্য সালিশদাররা। কিন্তু পরদিনই সালাম সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করে উল্টো ইয়াসমিনের পরিবারকে হুমকী দিতে থাকে। এতে ক্ষোভ ও অপমানে শুক্রবার সকালে ইয়াসমিন গলায় ফাস দিয়ে আত্মহত্যা করে।