শ্রীনগরে ধর্ষনের পর সালিশের অপমান সইতে না পেরে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা

yeasminআরিফ হোসেন: শ্রীনগরে ধর্ষনের পর গ্রাম্য সালিশের অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে এক কলেজ ছাত্রী। শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার বাড়ৈখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আলোচিত স্কুলছাত্রী সিনথিয়ার আত্মহননের পর একই এলাকায় ফের এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, গত বুধবার রাতে বাড়ৈখারী গ্রামের ইয়ার হোসেনের বড় মেয়ে ইয়াসমিনকে (১৮) ধর্ষন করে তার বাবার বন্ধু একই গ্রামের সাত সন্তানের জনক সালাম (৫৫)।


এ ঘটনায় ঐদিন রাতেই গ্রাম্য সালিশে সালামকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করে ইয়াসমিনকে গালমন্দ করে গ্রাম্য সালিশদাররা। এতে ক্ষোভ ও অপমানে সে আত্মহত্যা করে। ইয়াসমিন খাহ্রা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণীর প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তিন বোনের মধ্যে ইয়াসমিনই বড়। ইয়াসমিনের বাবা ইয়ার হোসেন জানান, তার সাথে বন্ধুত্বের জের ধরে সালাম প্রায়ই তাদের বাসায় জাতায়াত করত। বুধবার রাত আটটার দিকে সালাম ফাকা বাড়িতে একা পেয়ে তার মেয়ে ইয়াসমিনকে ধর্ষন করে। এসময় ইয়াসমিনে চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে সালামকে হাতে নাতে ধরে ফেলে।
yeasmin
এরপর পরই ঐবাড়িতে বাড়ৈখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, ইউপি সদস্য জাহের মোড়ল, কালাম মেম্বার, হেলাল মাতবর, সিরাজুল ইসলাম মিলনের নেতৃত্বে সালিশ বসে। সালিশে সালামকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করে ইয়াসমিনকে গালমন্দ করে সালিশদাররা। জরিমানা পরিশোধের জন্য সালামের তিন ছেলে সেরাজল (৩৬), সজল (৩০) ও মনির (২৮) সালিশে উপস্থিত হয়ে চার দিনের সময় নেয়।

কিন্তু পরদিনই তারা সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করে উল্টো ইয়াসমিনের পরিবারকে হুমকী দিতে থাকে। এতে ইয়াসমিন ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে। পুলিশ ইয়াসমিনের লাশ উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করেছে। এব্যাপারে শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান জানান দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।