অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র

gas1মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেয়ার মহাউৎসব চলছে। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি, ঠিকাদার ও তিতাস কর্মচারীদের নিয়ে গড়ে উঠেছে এই অবৈধ গ্যাস প্রদানকারী চক্র। কোথাও বৈধ সংযোগ দেয়ার নামে আবার কোথাও পরে বৈধ করে দেয়ার কথা বলে এলকাবাসীকে বিভ্রান্ত করে চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশকে ম্যানেজ করেই চলছে এসব অবৈধ সংযোগ। তবে দীর্ঘদিন যাবত চলতে থাকা এই অবৈধ কর্মকা- রুখতে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি. (তিতাস গ্যাস)।


প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তা খুঁড়ে তিন থেকে চার ইঞ্চি পাইপ বসিয়ে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত এই অবৈধ লাইন টেনে রাতারাতি মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া হচ্ছে। তবে মেঘনার শাখা নদীর ওপারে টানা লাইনগুলো এখনও ব্রিজের ওপর শোভা পাচ্ছে। উপজেলার আটটি ইউনিয়েনের মধ্যে ইতোমধ্যে পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অবৈধভাবে সংযোগ দেয়া চলছে। বাকি তিনটি ইউনিয়নেও গ্যাস সংযোগ নিতে দফায় দফায় চলছে গ্রামবাসী-অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানকারী চক্রের মিটিং।

ইতোমধ্যে বালুয়াকান্দি, টেঙ্গারচর, ভবেরচর, হোসেন্দী এবং বাউশিয়া ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামে প্রায় দশ হাজার অবৈধ সংযোগ দেয়ার জন্য অর্থের লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। অর্ধেকের বেশি সংযোগ এরমধ্যে দেয়া হয়েছে। বাকি সংযোগগুলো দ্রুতগতিতে দেয়া চলছে। প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তা খুঁড়ে অবৈধ লাইন টেনে দ্রুত মাটিচাপা দিয়ে আবার চিহ্ন মুছে ফেলা হচ্ছে। তবে মেঘানার শাখা নদীর অপর পাশের গ্রামগুলোতে লাইন নেয়া হচ্ছে ব্রিজের ওপর দিয়ে যা মাটি দিয়ে ঢাকতে পারছে না অবৈধ সংযোগ প্রদানকারী চক্র।

সরেজমিন দেখা গেছে, মেঘনা সেতুসংলগ্ন জামালদী বাসস্ট্যান্ড থেকে হোসেন্দী বাজারে যাওয়ার সড়কের ৫শ’ মিটার সামনে সড়ক খুঁড়ে তিন ইঞ্চি গ্যাস লাইন বসানো হচ্ছে। লাইন যাচ্ছে নদীর ওপার টেঙ্গারচর ইউনিয়নে যা বৈধ লাইন থেকে দুই কি.মি. সামনে। সামনের ব্রিজে গিয়ে দেখা গেল ইতোমধ্যে ব্রিজের উপর দিয়ে এই লাইন নদীর ওপার নেয়া হয়েছে। এর আগে একই ব্রিজ দিয়ে আর একটি অবৈধ লাইন টানা হয়েছে বড় ভাটেরচর গ্রামে সংযোগ দেয়ার জন্য। এই অবস্থা ভাটেরচর ইউনিয়নেও। গত তিন মাসে ইউনিয়নটির মিরেরগাঁও, উত্তর শাহপুর, বৈদ্যেরগাঁও, মিরপুরসহ আরও কয়েকটি গ্রামে সহস্রাধিক রাইজার বসিয়ে তিন হাজারের বেশি অবৈধ সংযোগ দিয়েছে এই চক্র। রাইজার, বিতরণ লাইনসহ সংযোগ প্রতি একজন গ্রাহকের কাছ থেকে এলকাভেদে চলি্লশ থেকে ষাট হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্র।

বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন প্রধানের ছত্রছায়ায় তার ভাগিনা জুয়েল এই চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। সূত্র জানায়, ভাটের ইউনিয়নে মুন্না এবং বন্দরের ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন, টেঙ্গারচর ইউনিয়নে স্বপনসহ ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা এসব অবৈধ সংযোগে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মদদ দিচ্ছে।

এদিকে গুয়াগাছিয়া, গজারিয়া এবং ইমামপুর ইউনিয়নের গ্রামবাসীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানকারী চক্র। প্রাথমিকভাবে গ্রাহক প্রতি একহাজার টাকা করেও জমা নেয়া হয়েছে।

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ফরিদউদ্দিন গতকাল সংবাদকে জানান, প্রায় ছয় মাস আগে তিতাস গ্যাস অবৈধ সংযোগের বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেছিল। আগামী মাসেই মামলাটির চার্জশিট দেয়া হবে।

তবে দীর্ঘদিন যাবত চলতে থাকা এসব অবৈধ সংযোগের অবাধ কর্মকা- ঠেকাতে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় ছিল তিতাস গ্যাস। এ বিষয়ে জানতে তিতাস গ্যাসের রিজিওনাল মার্কেটিং ডিভিশন (সোনারগাঁ) উপ-মহাব্যবস্থাপক আলাউদ্দিন আহমেদের মোবাইল ফোনে কয়েক বার চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে নারায়ণঞ্জের মহাব্যবস্থাপক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রকৌশলী মো. শামসুজ্জামানের মোবাইল ফোনে কয়েকবার রিং হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে অবৈধ সংযোগ গ্রহণকারীদের নিজ উদ্যোগে অবৈধ লাইন তুলে ফেলার পরামর্শ দিয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্টিবিউশন কোম্পানি লি. (তিতাস গ্যাস) জানিয়েছে, আগামী রোববার থেকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও তত্ত্বাবধানে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এবং অবৈধ লাইন তুলে ফেলার কার্যক্রম শুরু করা হবে।

সংবাদ