শ্রীনগরে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ- বিএনপি দুদলেই কোন্দল

02 selim ahamedআরিফ হোসেন: শ্রীনগরে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ-বিএনপি প্রধান দুদলেই কোন্দল নতুন করে দানা বেধেঁ উঠছে। এরই মধ্যে দুদলেরই বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে প্রার্থী হলেও তৃণমূল দ্বিধা বিভক্ত থাকায় হাই কমান্ড তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিতে পারছেনা।


একাধিক ধারায় বিভক্ত শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির কোন্দল দীর্ঘ দিনের । বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মমীন আলী ও সেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সরাফত আলী সপু উপজেলা বিএনপির তিনটি গ্র“পের ধারক ও বাহক হিসাবে পরিচিত। সম্প্রতি বিএনপির একক প্রার্থী নির্বাচনের জন্য তিনটি গ্র“পের নেতাদের নিয়ে আটপাড়া এলাকায় বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতে বৈঠক বসে। শেষ পর্যন্ত বৈঠকটি কোন রকম সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়। মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ মূহুর্তে এসে মমীন আলী ও সপু গ্র“প থেকে একই প্যানেলে চেয়ারম্যান পদে মমীন আলী ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা সেচছাসেবক দলের সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জলকে প্রার্থী দিয়ে কোন্দল গুছানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা মিটছেনা। বিএনপি থেকে চেয়ারম্যান পদে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা কাজী আজিজুল হক (লেবুকাজী) এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক আলহাজ্ব সেলিম হোসেন খানও প্রাথী হয়েছেন। তাদের সমর্থকরা দাবী করছেন এ দুজনের উপর শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের প্রছন্ন সমর্থন রয়েছে।
07.jahanara

06.asiya akter

01.momin ali

05 selim khan

04 shekh alomgir

03 aowlad hossain ujjal

02 selim ahamed
পত্র পত্রিকায় মমীন আলীকে বিএনপি দলীয় প্রার্থী ও লেবু কাজীকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে উল্লেখ করা হলে লেবু কাজী লিখিত ভাবে এর প্রতিবাদ জানান। তিনি নিজেকে বিএনপি দলীয় প্রার্থী ও মমীন আলীকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে উল্লেখ করেন। গত ৫ ফেব্র“য়ারী উপজেলার কোলাপাড়া এলাকায় মমীন আলীর বাড়িতে বিএনপির এক কর্মী সভায়ও তৃণমূল নেতাদের সামনে দুজনই নিজেদের বিএনপির প্রর্থী হিসাবে দাবী করেন।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওলাদ হোসেন উজ্জলকে দলীয় প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেওয়া হলেও বিদ্রোহী প্রার্থী আলহাজ্ব সেলিম হোসেন খানের প্রস্তাব ও সমর্থন কারী হিসাবে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক আবুল কালাম কানন এবং শ্রীনগর বিএনপির পরিচিত মুখ ও কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা তাজুল ইসলাম।

বিএনপির একটি সূত্র জানায় ৯ ফেব্র“য়ারী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের ঢাকার বাসায় একক প্রার্থী হিসাবে চেয়ারম্যান পদে তিনি প্রথমে লেবু কাজীর নাম ঘোষনা করেন। পরে তিনটি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে মমীন আলী, সেলিম হোসেন খান, জাহানারা বেগমের নাম ঘোষনা করলে লেবু কাজী ও আওলাদ হোসেন উজ্জ্ল তার বাসা থেকে বেরিয়ে যান। ১০ ফেব্র“য়ারী তার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেন। এখন দেখার বিষয় তিনি মমীন আলীর পক্ষে নির্বাচনে মাঠে নামেন কিনা। প্রকৃতপক্ষে তৃনমূল নেতা কর্মীরা কেন্দ্রের নির্দেশনার দিকে তাকিয়ে থাকলেও নানা মুনির নানা মত নিয়ে শ্রীনগর বিএনপির অবস্থা এখন হযবরল।

অপরদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগে এতদিন কোন কোন্দল না থাকলেও নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের কোন্দল এখন ছাই চাপা আগুন। উপজেলা নির্বাচনে দলটি প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে গোপন ভোটের আশ্রয় নিলেও জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর ব্যবধান সামান্য হওয়ায় দুজনই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন । তৃণমূল নেতাদের গোপন ভোটে বর্তমান উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেলিম আ্হমেদ ভূইয়া পান ১৪৩ ভোট এবং তার প্রতিদ্বন্দি কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহ-সম্পাদক জাকির হোসেন পান ১১৩ ভোট। সঙ্গত কারনে সেলিম আহমেদ ভূইয়া আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মনোনীত হন। অপরদিকে জাকির হোসেন তার পক্ষেও সমর্থন কম নয় দাবী করে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নে অনুসন্ধানে জানা গেছে দলীয় এমপির নাখোশ হওয়ার ভয়ে অনেক তৃণমূল নেতা গোপনে জাকির হোসেন এর পক্ষে কাজ করছেন। অপরদিকে সেলিম আহমেদ দলীয় প্রার্থী হওয়ার পরও তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে আশানুরুপ সাড়া না পাওয়ায় অনেকটাই ক্ষিপ্ত বলে দাবী করেণ তার সমর্থকরা। কোন্দল মিটিয়ে এখনই এক হতে না পারলে নির্বাচনে তাদের ভড়াডুবি হবে বলে স্থানীয় বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন।


ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ শেখ মো: আলমগীরকে ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ আছিয়া আক্তার রুমু ও বিএনপি জাহানারা বেগমকে একক প্রার্থী দিতে সক্ষম হয়েছে। ১২ জানুয়ারী প্রতিক বরাদ্দের আগে বাকী পদ গুলোতে একক প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দুদলই এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছে।