দর পড়ে যাওয়ায় বিপাকে মুন্সীগঞ্জের আলুচাষীরা

p1আজ প্রতিবাদ সমাবেশ
দাম পড়ে যাওয়ায় আলু উৎপাদনের সর্ববৃহৎ জেলা মুন্সীগঞ্জে এবার চাষীরা পড়েছে বিপাকে। বীজের কারণে কিছু কিছু জমিতে জটা রোগ এবং ভেজাল কীটনাশক ও ঘন কুয়াশার কারণে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখানকার অধিকাংশ জমিতে আলু উত্তোলন শুরু না হলেও এসব কারণে কৃষকদের মধ্যে নানা দুশ্চিন্তা জেকে বসেছে । জেলায় এবার আলুর আবাদ হয়েছে ৩৭ হাজার ৭শ’ ৬৫ হেক্টার জমিতে যার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১১ লাখ ৩২ হাজার ৯শ’ ৫০ মেট্রিক টন। এদিকে আলুর বাজারের এই করুণ অবস্থার প্রতিবাদে জেলা আলুচাষী সমিতি সদরের মুক্তারপুর সেতুতে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। সমিতির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, জেলার আলুচাষীরা সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে। এই জেলা অধিকাংশ মানুষ আলুভিত্তিক অর্থনীতর ওপর পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। ব্যাংকগুলোও এখানকার হিমাগার নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে শতশত কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তাও বিপন্ন হবে।


সদর উপজেলার কাটাখালীর আলুচাষী আবুল ব্যাপারী বলেন, “ব্যাংক ঋণ ও ধার-দেনা করে অধিক সুদে টাকা নিয়ে আলু আবাদ করেছি, অন্য বছরের তুলনায় এবার হল্যান্ড ডায়মন্ড ও ভ্যানিলাসহ চড়া দামের বীজ রোপণ করেছি। সারের দাম ঠিক থাকলেও দাম বাড়ছে কীটনাশকের। শ্রমিকের মজুরিও বেশি। তাই গেল বছরের থেইক্যা এইবার পর্তা (উৎপাদনের খরচ) বেশি।”

স্থানীয়রা জানান, এ বছর মণপ্রতি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ১ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমান আলুর বাজার পাইাকারি বাজার মূল্য ২শ’ টাকা। মাঠে এর দর আরও কম। তবে খুচরা বাজারে ১০ টাকা কেজি হিসাবে ৪শ’ টাকা মণে বিক্রি হচ্ছে।

টঙ্গীবাড়ির কৃষক আজিজ মিয়া জানান, বর্তমান আলুর যে বাজার দর রয়েছে, তাতে পুঁজির অর্ধেকটাও আসবে না। সোনারং গ্রামের কৃষক লিটন মিয়া জানান, তার রোপণকৃত আলুগাছে জটা রোগ দেখা দেয়ায় কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন ফল পাচ্ছে না। ফলন কম হবে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। এমন অবস্থা বজ্রযোগিনী, রামপাল, মভকহাটি, সিরাজদিখানসহ জেলার বেশকিছু আলুর জমিতে।

এভাবেই আলুর দাম পড়ে যাওয়া এবং ফলন কম হওয়া নিয়ে এখানকার কৃষকের সর্বস্বান্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। আলুর দাম না বাড়লে আলুভিত্তিক অর্থনীতি বিপর্যয়ে পড়বে। এতে অধিকাংশ কৃষক পরবর্তীতে আলুচাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে।

এদিকে মুন্সীগঞ্জ জেলায় আলু সংরক্ষণে রয়েছে মাত্র ৭৫টি হিমাগার যার মধ্যে বন্ধ রয়েছে ৯টি। ৬৬টি হিমাগার চালু থাকলেও যার ধারণ ক্ষমতা মাত্র ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২০১ মেট্রিক টন। যে আলু উৎপাদন হবে তার ৩ ভাগের ১ ভাগ সংরক্ষণের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। সংরক্ষণের অভাবে অনেক কৃষকই আলু বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়। অনেক কৃষক আলু উত্তোলনের পর কম দামেই বিক্রি করে দেয়। কিন্তু সংরক্ষণকারী পুঁজিবাদীরা দাম বৃদ্ধির আশায় হিমাগারে সংরক্ষণ করে রাখে। আর প্রতিবছরই হিমাগারের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি তো রয়েছেই। এখানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না থাকায় হিমাগার মালিকরা নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া বৃদ্ধি করে থাকেন। যার প্রভাব পড়ে আলু সাধারণ কৃষকের ওপর।

এ বিষয়ে এলাইড কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার মোঃ শাহ আলম জানান, কোল্ড স্টোর চালিয়ে প্রতি বছর লোকসানে পড়তে হচ্ছে মালিকদের। কারণ হচ্ছে বিদ্যুতের ইউনিটের মূল্য বৃদ্ধি, তেলের দাম বৃদ্ধি ও শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিসহ নানা কারণে ভাড়া বাড়াতে হয়।

মুন্সীগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচলক মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, বীজের কারণে কিছু জমিতে জটা রোগ দেখা দিয়েছে। তবে পরিমাণ কম। তাই এতে তেমন কোন প্রভাব পড়বে না। তিনি জানান, যে সকল কীটনাশক ডিলাররা ভেজাল কীটনাশক বিক্রি করেন তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে হিমাগার মালিকরা ভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে কোন রকমের আলোচনা করেন না। তাদের ইচ্ছেমতোই প্রতি বছরই ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়। এটা অনিয়মতান্ত্রিক। কৃষকদের কথা চিন্তা করে হিমাগার মালিকদের সহনীয় পর্যায়ে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জনকন্ঠ