ওষুধ পার্ক: ৭ বছর পার জমি অধিগ্রহণেই

medicine parkসাত বছরেও শুরু হয়নি আলোচিত ওষুধ শিল্প পার্কের কাজ। জমি অধিগ্রহণ করতেই পেরিয়ে গেছে এই দীর্ঘ সময়; তাও পুরোপুরি শেষ হয়নি। অন্য কাজের কোনো খবর না থাকলেও এরই মধ্যে প্রকল্পটির ব্যয় বেড়েছে ১১৯ কোটি টাকা।

দুই দফা সংশোধনের পর এই প্রকল্পের ব্যয় গিয়ে ঠেকেছে ৩৩২ কোটি টাকায়, যা অনুমোদনের সময় ছিল ২১৩ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সংশোধিত এই প্রকল্পটিসহ ৬৪০ কোটি টাকার পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।


অনুমোদিত ওষুধ শিল্প পার্ক প্রকল্পের সংশোধিত কার্যপত্রে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় একনেকের বৈঠকে এই প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। ওই সময় প্রকল্পটির কাজ শেষ করার কথা ছিল ২০১০ সালের ডিসেম্বরে।

এরপর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দফা সংশোধনীতে এর ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২৩৩ কোটি টাকা।

২০১১ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে বলে সে সময়ের কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু আরও দুই বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও জমি অধিগ্রহণ ছাড়া অন্য কোনো কাজ শুরুই হয়নি।

মঙ্গলবারের একনেক বৈঠকে প্রকল্পটির মেয়াদ আরও দুই বছর অর্থাৎ ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয় ঔষধ শিল্পপার্ক স্থাপন প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন করেছে।

ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, নতুন রেট সিডিউল অনুসারে পুনঃপ্রাক্কলন এবং প্রকল্পে নতুন অঙ্গ সংযোজনের কারণে প্রকল্পটি সংশোধনের প্রয়োজন হয়েছে বলে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

“একই কারণে প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।”

আগের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রকল্পটির আওতায় মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন বাউশিয়া ও লক্ষ্মীপুর মৌজায় ২০০ একর জমির উপর ঔষধ শিল্পপার্ক স্থাপন করা হবে।

ঔষধ শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য এ পার্কে ৪২টি প্লটে শিল্প স্থাপিত হবে। এখানে প্রায় ২৫ হাজার লোকের সরাসরি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ৯০ ভাগই আমদানি করে থাকে। এ পার্ক স্থাপন হলে প্রতিষ্ঠানগুলো দেশেই কাঁচামাল উৎপাদন করতে পারবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জমি কেনা বা অধিগ্রহণের কাজ এখনও ২০ শতাংশের মত বাকি আছে। মামলা সংক্রান্ত জটিলতা আছে। সে কারণে এ কাজটি শেষ হচ্ছে না।”
medicine park
এদিক সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অনুমোদিত প্রকল্পসমূহের বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবারের বৈঠকে মোট পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ৬৪০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এরমধ্যে ৫৫৮ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং ৮২ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায়্য থেকে পাওয়া যাবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং দুর্নীতি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে মুস্তফা কামাল বলেন, “পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম একশ ভাগ স্বচ্ছতার সাথে পরিচালনা করা হবে। দুর্নীতিবাজদের আমরা আমাদের সাথে নেব না; তাদেরকে বাদ দিয়েই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।”

সময়মত প্রকল্পের কাজ শেষ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন নতুন এই মন্ত্রী।

অনুমোদিত অন্য চার প্রকল্প

সভায় অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্প হল- নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলায় ডাল ও তৈলবীজ বর্ধন খামার এবং বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প (ব্যয় ৩৪ কোটি টাকা), রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় পুরাতন গভীর নলকূপ পুনর্বাসন প্রকল্প ( ৭৭ কোটি টাকা), ‘২৮টি জেলায় আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ জেলা জজ আদালত ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্প ( ১৫০ কোটি টাকা) এবং ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দোহার-কাটাখালী-নিকড়া-গালিমপুর-টিকরপুর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ অন্যান্য মন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর