৩৩ জেলায় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র নেই !

সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের হিসাবে দেশে ৩০ থেকে ৪০ লাখ মাদকাসক্ত রয়েছে। অথচ দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৩জেলায়ই সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে কোনো মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র গড়ে উঠেনি কোনো কালেই! ফলে ওইসব অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মাদকাসক্ত ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও নূন্যতম সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। বর্তমানে এ নিয়ে সরকারেরও কোনো উদ্যোগ নেই। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর সূত্রে আরো জানা গেছে, মাদক উদ্ধার ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আটক-গ্রেপ্তার-মামলার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো পূর্বের চেয়ে অধিক মনোনিবেশ করেছে। প্রতিনিয়তই ধরা পড়ছে ছোট বড় অসংখ্য চালান। তারপরও কমছে না মাদক উদ্ধারের পরিমাণ। ফলে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রতি বছরই আশংকাজনক হারে বাড়ছে। সূত্র জানায়, দেশের বিপুল পরিমাণ মাদকাসক্তের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা এখনো ব্যাপকতা পায়নি। তার উপর ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৩টি জেলাতেই সরকারি কিংবা বেসরকারি পর্যায়ে কোনো মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র না থাকায় মাদকদ্রব্য নিয়šত্ম¿ণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন আমাদেরসময় ডটকমের কাছে।


মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা ও পুনর্বাসন) নাজমুল আহসান মজুমদার আমাদেরসময় ডটকমকে বলেন, ‘সরকারের একার পক্ষে এ কাজ পূর্ণাঙ্গভাবে করা সম্ভব নয়। তাই আমরা চেষ্টা করছি বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোক্তা বের করতে। এজন্য ৩৩টি জেলায় কর্মরত আমাদের কর্মকর্তাদের বলা রয়েছে- তারা যাতে স্ব-স্ব অঞ্চলের বেসরকারি পর্যায়ে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে উদ্যোক্তা বের করেন এবং তাদের উৎসাহিত করেন। সে অনুযায়ী আমাদের কাজ চলছে।’ এই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘বেসরকারি পর্যায়ে যাতে এসব কেন্দ্র গড়ে উঠে সেজন্য সরকার সুযোগ সুবিধাও বৃদ্ধি করেছে। এক সময় বেসরকারি পর্যায়ে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের জন্য অনেক ঝামেলা পোহানো লাগত উদ্যোক্তাদের। কিšত্ম‘ এখন কোনো ঝামেলা নেই। উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে সরকার ফি কমানোসহ অনেক সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করেছে।’

যেসব জেলায় নেই : মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর জানায়, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ি, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, গোপালগঞ্জ, টাঙাইল, শেরপুর, সুনামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, বাগেরহাট, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙা, মেহেরপুর, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারি, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, প গড়ে কোনো মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র নেই।

এসব অঞ্চলের মাদকাসক্তের সংখ্যা : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদকদ্রব্য নিয়šত্ম¿ণ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ধারণা করা হয় দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ লাখের মতো। সহজলভ্য ও সহজপ্রাপ্য হওয়ায় এমন অবস্থা হয়েছে যে, দেশের এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে মাদকাসক্ত নেই। অতএব নির্দ্বিধায় বলা যায়Ñ ৩৩টি জেলায়ও বিপুল সংখ্যক মাদকাসক্ত রয়েছে। অভিজ্ঞতার আলোকে কর্মকর্তারা জানানÑ এসব জেলার মধ্যে শেরপুর, সুনামগঞ্জ, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, বাগেরহাট, নড়াইল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নীলফামারি, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, প গড়, মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙা, মেহেরপুর ভারতীয় সীমাšত্ম—বর্তী অঞ্চল।

এসব স্থান দিয়ে প্রতিনিয়ত দেশে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য প্রবেশ করছে। এ হিসেবে বলা যায় এসব অঞ্চলের মাদক সহজলভ্য এবং সহজপ্রাপ্য। তাই এখানে বিপুল সংখ্যক মাদকাসক্ত রয়েছে। ওদিকে, বাকি অ লগুলি সীমাšত্ম—বর্তী না হলেও মাদকের ব্যাপকতা রয়েছে।

ওইসব জেলার মাদকাসক্তদের বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থা : সরকারি কিংবা বেসরকারি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র না থাকায় ওইসব অঞ্চলের মাদকাসক্তরা ইচ্ছে থাকা সত্বেও পারছেন না চিকিৎসা নিতে। অনেকেই প্রচুর পয়সা খরচ করে চিকিৎসা নিতে আসেন তেজগাঁওস্থ কেন্দ্রীয় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে। কিšত্ম‘ বেশিরভাগই চিকিৎসার মাঝ পথে ইতিটানতে বাধ্য হন। আবার অনেকে স্ব স্ব অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক বা হাসপাতালে যান। প্রকৃতপক্ষে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা করার মতো সামর্থ ওইসব ক্লিনিক বা হাসপাতালের নেই। তারপরও অর্থের লোভে ওইসব প্রতিষ্ঠান নামকাওয়া¯েত্ম চিকিৎসা করে থাকে। এতে যেমনি মাদকাসক্তরা সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি নামকাওয়া¯েত্ম চিকিৎসার কারণে আরো ক্ষতিগ্রস্থ হন।

এসব তথ্য জানিয়ে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আরো জানান, যেসব জেলায় সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে সেসব স্থানে সরকার মনো চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছে। মাদকাসক্তরা ওইসবস্থানে গিয়েও চিকিৎসা নিতে পারেন। স্ব-স্ব অঞ্চলের মাদকদ্রব্য নিয়šত্ম¿ণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে রাজধানীতে অথবা যেখানে নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে সেখানেও চিকিৎসা নেয়া যেতে পারে। তবে এভাবেও সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ দুষ্কর বলে কর্মকর্তাদের মত প্রকাশ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সবচেয়ে ভাল হয় মাদকাসক্ত যদি নিজ অঞ্চলের চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন। মাদকাসক্তকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অনেক সময় লাগে। তাছাড়া দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা গ্রহণ করতে হয়। এজন্য দরকার হয় অর্থের। রাজধানীতে এসে বা অন্য অঞ্চলের গিয়ে চিকিৎসা নিলে অনেক অর্থ খরচ হবে। যা অনেক মাদকাসক্তের পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়।’

আমাদের সময়