দোকান উদ্বোধন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাজ নয়

nurul kabirরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা শুধু বেদনাদায়কই নয়, ভয়ঙ্করও। পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ অস্ত্র উঁচিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের গুলি করল! যে দেশে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যকে দোকান উদ্বোধন থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, সেখানে এমন পরিস্থিতি হওয়াই স্বাভাবিক। এটা পৃথিবীর কোনো দেশের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাজ হতে পারে না। কেন করতে হয়? কারণ বহু বছর ধরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি না করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়া যায় না। এটার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে একটা জাহান্নামের মধ্যে অধঃপতিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশকে কোনো না কোনো দিন এটার জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।

রবিবার একুশে টেলিভিশনের টকশো ‘একুশের রাত’-এ ইংরেজি দৈনিক নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর এ কথা বলেন। মঞ্জুরুল আলম পান্নার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ ও সাবেক তথ্য কমিশনার মোহাম্মদ জমির।

নূরুল কবীর বলেন, ‘৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নির্বাচিত হতে হয়। পাঁচ বছর তিনি নির্বাচিত ছিলেন না। পরে একটা নির্বাচনের ব্যবস্থা করে চেয়ারে বসলেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি একজন সজ্জন ব্যক্তি। কিন্তু তাকে দোকান উদ্বোধন করা থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি। দলের লেবেল না থাকলে গত ৩০ বছর ধরে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়া যায় না। দেশের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে, জ্ঞান অর্জন করবে, গবেষণা করবে, নতুন নতুন জ্ঞানের উদ্ভব ঘটাবে। সেখানকার উপাচার্যকে যদি আওয়ামী লীগ-বিএনপি করতে হয় তাহলে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থা এর চেয়ে ভালো হওয়ার কথা নয়।

উদাহরণ টেনে নিউএজ সম্পাদক বলেন, গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা আবাসিক হল কর্তৃপক্ষ তিনজন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিল। সেই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন, হল প্রভোস্ট ছিলেন, প্রফেসর অব ইমেরিটাস সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মতো শিক্ষাবিদ ছিলেন। সেখানে ছাত্রলীগের সভাপতিকে বক্তৃতা দিতে দেখা গেল। তিনি কি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের দ্বারা নির্বাচিত কোনো প্রতিনিধি? কিসের ভিত্তিতে তিনি ওই অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করলেন? বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটা অনুমোদন করে কীভাবে? বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে হয়তো ছাত্রদলের সভাপতি বক্তৃতা দিত।

নূরুল কবীর বলেন, গত সাত দিন ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগ্রামটা হচ্ছিল। সেখানকার কর্তৃপক্ষ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে টাকার বিনিময়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সান্ধ্যকালীন কোর্স চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের মতো গরিব দেশগুলোতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তুকি দিয়ে চলে। গরিব মানুষের কাছ থেকে ভ্যাট কেটে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টাকা দেওয়া হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকরণে সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু করতে চাইছে।

এ জন্য তো সরকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থা করেছে। সেখানে টাকার বিনিময়ে মানুষ উচ্চশিক্ষা নেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও কয়েক বছর আগে এমন চিন্তা হয়েছিল। ছাত্র আন্দোলনের ফলে সেটা রহিত হয়।

বাংলাদেশ প্রতিদিন