আত্নহত্যা নয় শীলাকে খুন করা হয়েছে, মামলা নিচ্ছে না পুলিশ

shila1শেখ রাসেলঃ মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ধীপুর গ্রামের গৃহবধু শীলা আত্মহত্যা করেনি বরং তাকে খুন করা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায় যে, গত সাত বছর আগে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক মান্দ্রা গ্রামের শাহজাহান মুন্সির মেয়ে শীলার সাথে একই উপজেলার ছাবেদ আলীর ছেলে ইমান আলীর পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়।

বিয়ের কিছু দিন পর শীলা বেগমের স্বামী ইমান আলী সৌদি আরব চলে যায়। সৌদি আরব থাকা কালীন সময়ে স্বামী ইমান আলী তার মোঝো ভাই স্ত্রী মমতাজ বেগম, বড় ভাই আব্দুল করিম বেপাড়ী ও তার ভাতিজি সুমির ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠাতো। সাংসারিক সকল খরচের জন্য স্বামীর ভাই, ভাবী ও ভাতিজিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হতো শীলাকে। এর মধ্য গত ৩ মাস আগে স্বামী ইমান আলী ছুটি নিয়ে বাংলাদেশে আসে।


প্রতিবেশীরা জানান, সামান্য খুটিনাটি বিষয় নিয়ে প্রায়ই মারধর করতো শীলা কে। গত মঙ্গলবার সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্য ঝগড়া বাধে। এই কারনে স্বামীর সাথে অভিমান করে শীলা বেগম অভিমান করে বোরখা পরে মঙ্গলবার বিকালে বাপের বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী ইমান আলী, তার বড় ভাই, ভাতিজি সুমি ও বড় ভাইয়ের স্ত্রী মমতাজ বেগম মিলে শীলাকে মারধর করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে শীলার স্বামী ও স্বজনরা মিলে ঘরের ফেনের সাথে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়।

নিহত শীলার বড় বোন জামাই অভিযোগ করে বলেন, আমরা টঙ্গিবাড়ী থানায় গিয়েছিলাম মামালা করতে কিন্তু থানায় মামলা গ্রহন করেনি। থানার অফিসার বলেছে যে, স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলা ভাইস চেয়াম্যান নুরু হাজী মামলা নিতে নিষেধ করেছে তাই আমরা মামলা নিতে পারবোনা।


কথা বলার সময় নিহত শীলা বেগমের বাবা সে সময় কেদে কেদে বলেন, আমরা গরিব এটাই কি আমাদের অপরাধ। আমার মেয়ে খুনিদের বিচার কি হবেনা?

এই ব্যাপারে টঙ্গিবাড়ী থানায় ফোন করা হলে দায়িত্বরত ডিউটি অফিসার বলেন, আমি কিছু জানিনা আপনি ওসি স্যারকে ফোন দেন। পরে টঙ্গিবাড়ী থানার ওসি কে ফোন দিলে অন্য একজন পুলিশ অফিসার ফোন ধরে তার পরিচয় দেননি। বরং তিনি এই প্রতিবেদক ওল্টো প্রশ্ন করে বলেন, আপনার সমস্যা কি?

মুন্সিগঞ্জটাইমস