প্রার্থী হচ্ছেন আবদুল হাইয়ের ছেলে!

politicমুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২ প্রার্থীকে ঘিরে এগুচ্ছে বিএনপি। এরা হলেন- সাবেক উপমন্ত্রী ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাইয়ের ছেলে ইফতেখার আলম রিপন ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, রামপাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন পুস্তি। এদের একজনই দলীয় প্রার্থী হচ্ছেন-এটা প্রায় নিশ্চিত।

জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতার ছেলে রিপন প্রার্থী হচ্ছেন-এ সংবাদে দুশ্চিন্তায় রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। কারণ, ইফতেখার আলম রিপন প্রার্থী হওয়া মানেই জেলা বিএনপির সভাপতি ও মুন্সীগঞ্জের সাবেক ৪ আসন (বর্তমানে-৩ আসন) থেকে ৫বার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল হাই, রিপনের চাচা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সরাসরি মাঠে নামবেন। এতে বসে থাকবে না মাঠ পর্যায়ের ওয়ার্ড ভিত্তিক দলীয় নেতাকর্মীরাও। অনেকটা মরণপন কামড় দিয়ে নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়বে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।


মুন্সীগঞ্জ সদরের চরাঞ্চলের ৫ইউনিয়ন বাদে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা, পঞ্চসার, মিরকাদিম পৌরসভা, রামপাল, মহাকালী, বজ্রযোগিনী ইউনিয়নগুলোর একচেটিয়া ভোট প্রাপ্তিতে রিপনের জয় অনেকটা সহজসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। এসব অঞ্চলের কেন্দ্রগুলো পাহারায় থাকবে দলীয় নেতাকর্মীরা। আর ইলেকশন খরচেও আবদুল হাই ও তার সমর্থকরা দু’হাত খুলে টাকা ব্যয় করবেন। ইলেকশনে জয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক পারদর্শী বলে এলাকার ভোটারদের কাছে আবদুল হাই পরিচিত। ১৯৭৯-২০০১ সালের নির্বাচনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, বঙ্গবন্ধুর চিফ সিকিউরিটি গার্ড মোহাম্মদ মহিউদ্দিনকে পরপর ৫ বার পরাজিত করেছেন।

সর্বশেষ আওয়ামী লীগ জমানায় গেল মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে শহর বিএনপির সভাপতি একেএম ইরাদত মানুকে মেয়র পদে মনোনীত করে নিজে মাঠে কাজ করে দলকে জয়ের মুখ দেখান। এসব কারণে আওয়ামী লীগ বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মী সমর্থক জানিয়েছেন। এ উপজেলায় আওয়ামী লীগ থেকে চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান আনিস-উজ্জামান আনিছ প্রার্থী হচ্ছেন।

এদিকে, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, রামপাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন পুস্তিও বেশ শক্তিশালী প্রার্থী। পুস্তিকেও প্রার্থী করা হলে চরাঞ্চল ছাড়া ওই ২টি পৌরসভা ও ইউনিয়নগুলোর ভোট প্রাপ্তিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করার সম্ভবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের আনিস-উজ্জামান আনিস ও মোশারফ পুস্তির মধ্যে সমানে সমান লড়াই হবার সম্ভবনা রয়েছে। এছাড়া জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও শহর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট সালাউদ্দিন খান স্বপনও প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) থেকে সাবেক পৌর মেয়র এডভোকেট মজিবুর রহমান চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে পারেন।

এদিকে, একই উপজেলায় বিএনপি থেকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান খান, সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, সদর উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন পুস্তি প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে, মোশারফ হোসেন পুস্তি দলীয়ভাবে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হলে তার ছোট ভাই মোহাম্মদ হোসেন পুস্তি প্রার্থী হচ্ছেন না।

আওয়ামী লীগ থেকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ কালাম পুনরায় নির্বাচন করছেন। এছাড়াও একই পদে প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন-গতবারের ২ পরাজিত প্রার্থী আমির হোসেন গাজী ও সদর আওয়ামী লীগের সম্পাদক শামসুল কবীর মাস্টার। এছাড়াও প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এডভোকেট গোলাম মাওলা তপন।

মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মেহেরুন্নেসা নাজমা। এছাড়াও রয়েছেন গতবারের পরাজিত প্রার্থী জেলা মহিলা লীগের সভানেত্রী মেহেরুন রুনী। বিএনপি থেকে এ পদে কোন প্রার্থীর নাম শোনা যায়নি।

উল্লেখ্য, আগামী ২৭শে ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে জেলার মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মুন্সীগঞ্জবার্তা