মোনায়েমের ঘুষ-দূর্নীতি এবং পুলিশ সুপারের লোক দেখানো তদন্ত

Policeমুন্সীগঞ্জ থানার এ,এস,আই
মুন্সীগঞ্জ থানার একজন এ,এস,আই পদ মর্যাদার পুলিশের বিরুদ্ধে একটি গুরতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ধরন ছিল অন্যান্য অভিযোগের তুলনায় একটু ভিন্ন। যে পুলিশ মানুষকে রক্ষা করার কথা তারাই যদি ধরে নিয়ে অন্যায় ভাবে টাকা হাতিয়ে নেয় সেটা আইনের একজন রক্ষকের ভূমিকার মধ্যে বর্তায় না। সেরকম ঘটনারই অবতারনা হয়েছে মুন্সীগঞ্জ থানার এ,এস,আই মোনায়েম মোল্লার বিরুদ্ধে। পুলিশের এ সদস্যের খুটির জোর দেখে অবাক না হয়ে পাড়লাম না। তার তদবীর এবং ক্ষমতার জোর দেখে মুন্সীগঞ্জের মানুষ এখন পুলিশের ওপর মহলের দিকে ধিক্কার দিচ্ছে। একজন অপরাধী পুলিশের বিরুদ্ধে প্রমান থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ক্লোজ করার মাত্র চৌদ্দ দিনের মাথায় আবার তাকে পুলিশ লাইন থেকে সিরাজদিখান থানায় বদলী করার ঘটনা এখন আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ থানার এ,এস,আই মোনায়েম মোল্লা গত ৭ জানুয়ারী মুন্সীগঞ্জ সদর থানার মিরাপাড়া বউ বাজার হতে একজন কসাইকে ধরে নিয়ে মুক্তার পুর এলাকায় আটক করে রাখেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল সে নাকি একটি পায়ে ঘাঁ ওয়ালা গরু জবাই করেছেন। সে অভিযোগের ভিত্তিতে মোনায়েম মোল্লা কসাই মফিজুলকে আটক করেছেন। আমাদের দেশের কসাইদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। গরু জবাই করার পর দেখা যায় পেটে বাচ্চা রয়েছে। তা টান দিয়ে কসাইরা খালে বা নদীতে ফেলে দেয়।

এ জন্য একজন পশু চিকিৎসকের সার্টিফিকেট থাকা জরুরী যে গরুটি জবাই দেওয়ার জন্য উপযুক্ত রয়েছে কিনা? কিন্তু তা অনেক জায়গাতেই মানা হয় না। কসাই মফিজুল পায়ে সামান্য ঘাঁ ওয়ালা গরু জবাই করেছেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে যখন মোনায়েম মোল্লা তাকে ধরে নিয়ে গেলেন তখন তার বিরুদ্ধে কোন প্রতিকার মূলক ব্যবস্থা না নিয়ে অনৈতিকতার একটি কাজ করে বসলেন পুলিশের এ সদস্য। তার কাছে পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবী করে বসলেন। গরীব কসাই স্ত্রীর স্বর্ণলংকার বিক্রি করে এবং চড়া সুদে টাকা এনে ১০ হাজার টাকা মোনায়েমের হাতে তুলে দিয়ে তার পর ছাড়া পেলেন।


এখানে এ,এস,আই মোনায়েম এক সাথে দুটি অপরাধ করলেন। একটি হলো অপরাধী কসাইকে শাস্তি না দেওয়া এবং নিজে অনৈতিক ভাবে ঘুষ গ্রহন করে। এখন এর প্রভাব সমাজে পড়বে। অনেক কসাই আছেন যারা গরুর পেটে বাচ্চা থাকা অবস্থায় সে গরু জবাই করে গোশত বিক্রি করবে এবং টাকা দিয়ে সাধারন মানুষ সে হারাম গোশত কিনে খাবে। ঘটনাটি যদি সেখানেই শেষ হতো তাহলে কিছু বলার ছিল না। এলাকার কাউন্সিলর জলিল সাহেব কসাই মফিজুলের ঘটনা শুনে তাকে ডেকে নিয়ে আসেন। সেখানে তার উপস্থিতিতে এ,এস,আই মোনায়েম কসাই মফিজুলের টাকা ফেরত দেন। তার ঘুষ নেয়ার স্বীকারোক্তিমূলক কথাটুকু মোবাইলে রেকর্ড করে রাখা হয়।

মুন্সীগঞ্জ বাণীর পক্ষ থেকে সে ঘটনাটি মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মহোদয়কে জানানোর পর তিনি গোপন রেকর্ড শুনতে চান। তার কথা মতো রেকর্ড পুলিশ সুপার সাহেবকে প্রদান করা হয় এবং মুন্সীগঞ্জ বাণী পত্রিকায় মোনায়েম মোল্লার “ঘুষের টাকা ফেরত দিলেন” শিরোনামে লিড কলাম করা হয়। পত্রিকায় ঘটনাটি প্রকাশ হয়ার সাথে সাথে এ,এস,আই মোনায়েম মোল্লা ব্যক্তিগত ভাবে মোবাইলে ফোন করে তার সাথে দেখা করতে বলেন। তার সে চেষ্ঠা ব্যর্থ হলে তিনি রেকর্ড ফেরত নিতে টাকা নিয়ে আমার বাসায় হাজির হন। সেখানে তিনি ব্যর্থ হন।

কিন্তু ক্ষমতাবান এ পুলিশকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারেনি। গত ১৩ জানুয়ারী তাকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়। এসময় পুলিশ সুপার সাহেব অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেন। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করার স্বার্থে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আমাকে এবং ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ঠ কসাই মফিজুল, কাউন্সিলর জলিল সাহেব এবং স্থানীয় বাবুল মেম্বারকে তার কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য ২৬ জানুয়ারী নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশে ২৭ জানুয়ারী হাজির হতে বলেন।

কিন্তু পুলিশ লাইনে থাকা এ,এস,আই মোনায়েম তার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়ার আগেই মাত্র ১৪ দিনে পুলিশ লাইনে ক্লোজ থেকেই সেখান থেকে সিরাজদিখান থানায় বদলী হন। বদলীর আদেশ পেয়েই তিনি সাংবাদিককে সে আদেশ দেখিয়ে বীরদর্পে বললেন, আপনারা লিখে কিছুই করতে পারবেন না। এই দেখেন পুলিশ লাইন থেকে সিরাজদিখান বদলী হয়ে এসেছি। তার দুইদিন পরই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব দায়সারা গোছের তদন্তের নামে কয়েকজনকে তার কার্যালয়ে নোটিশ দিয়ে ডেকে আনলেন। কসাই মফিজুলকে এ ঘটনার কথা না জিঙ্গেস করে তার গরুটি কেমন ছিল তার কৈফিয়ত তিনি চাইলেন এবং বলে দিলেন পৌর সভার পশু চিকিৎক দিয়ে পরীক্ষার পর যেন গরু জবাই করেন।

কিন্তু অপরাধী পুলিশের ব্যাপারে নেয়া হলো না কোন ব্যবস্থা। আর মাত্র চৌদ্দ দিনের মধ্যে তাকে আবার পুলিশ লাইন থেকে সিরাজদিখানে পাঠানো হলো। ক্ষমতাধর এ,এস,আই মোনায়েম ২০০৯ সাল থেকে মুন্সীগঞ্জে আছেন। একবার মাত্র ২০১৩ সালে বদলী হয়েছিলেন টাঙ্গাইল। সেখান থেকে মাত্র ৪ মাসের মধ্যে আবার মুন্সীগঞ্জে চলে আসেন। এটা কিভাবে সম্ভব তা মুন্সীগঞ্জ বাসী জানে না। ঘুষ নিলেন এবং ফেরত দিলেন, সে ঘটনার রেকর্ড থাকার পরও কিভাবে পুলিশের এ সদস্য বীরদর্পে বহাল থাকতে পারে সেটা কারো বোধগম্য হচ্ছে না। নীতি এবং অনৈতিকতার জালে যে মুন্সীগঞ্জ পুলিশের উপরের মহল পর্যন্ত যে জড়িয়ে পড়েছে তা এ ঘঠনা থেকেই পুরো চিত্র ফুটে ওঠে।

পুলিশের অনিয়মের মধ্যে এ ঘটনাটি শুধু মাত্র একটা দৃষ্টান্ত। এরকম ঘটনা আরো প্রতিনিয়ত যে হচ্ছে তার কোন প্রমান নেই। আর প্রমান থাকলে উপরের মহল থেকে নেয়া হয় না কোন ব্যবস্থা। তাহলে কি এভাবেই আমাদের সমাজটা অন্যায় এবং অবিচারে কলুষিত হয়ে পড়বে? একটি সুষ্ঠু সমাজ ব্যবস্থা গড়ে ওঠার জন্য পুলিশের ভূমিকার কোন বিকল্প নেই। একজন দায়ী পুলিশের জন্য কেন সমস্ত পুলিশের ওপর কলঙ্কের কালিমা লেপন হবে? তাই মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মহোদয়কে বলবো দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। একজন অপকর্মের হোতার জন্য কেন পুলিশ বিভাগের ওপর কালিমা লেপন করবেন?

মুন্সিগঞ্জের বাণী