এরশাদ বরাবরই আওয়ামী লীগের, কখনও ডিগবাজি দেননি

nkবাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভয়নগর যাওয়ার ব্যাপারটি একটি আনন্দের খবর হতে পারতো যদি তিনি সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়টি শুধুমাত্র বিএনপি ও জামায়াতের ওপর না চাপাতেন। রেডিও তেহরানে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এ মšত্মব্য করেছেন, নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবির।

তিনি বলেন,জেনারেল এরশাদকে পল্লীবন্ধুর পরিবর্তে অনেকে পল্টি বন্ধু বলা শুরু করেছিল। তবে জোর করে ক্ষমতা দখলের পর থেকে তার রাজনৈতিক জায়গা থেকে তিনি পল্টি দেননি। যত নাটকই করুক না কেন বরাবরই জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের পক্ষে ছিল এবং বর্তমানেও সেখানেই রয়েছে। এরশাদ এবং জাতীয় পার্টির তেমন কোনো ভবিষ্যত নেই বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, তথাকথিত নির্বাচনের সময় অভয়নগরে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলা নির্যাতন যারা করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হবেন এবং শাস্তির বিধান করবেন বলে শেখ হাসিনা হিন্দুদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন। তবে তাতে আমরা এবং হিন্দুরা আশ্বস্ত হতে পারিনি। কারণ সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর আক্রমণের ব্যাপারে এরইমধ্যে মিডিয়াতে যেসব খবর এসেছে এবং হিন্দু-বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্যপরিষদের নেতারা যেসব তথ্য উদঘাটন করেছেন; তাতে দেখা যায় সারাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনার সাথে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ জড়িত ছিল। অভয়নগর আওয়ামী লীগের নেতা ওহাব ওখানকার হিন্দুদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল।

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ব্যাপারে যদি আওয়ামী লীগ কথামালার রাজনীতি না করতো তাহলে সতিকারার্থে এ সমস্যার সমাধান হতো বলে আমি মনে করি।


বিশিষ্ট এ সাংবাদিক বলেন, ২০০১ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণের জন্য সুস্পষ্টভাবে কিছু ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল কিন্তু তারা এ ব্যাপারে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।এবারও হিন্দুদের ওপর হামলার ব্যাপারে প্রশাসন দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে কিম্বা ব্যর্থ হয়েছে। সরকারি দলের লোকেরা এই আক্রমণে জড়িত থাকার পরও তাদের ব্যাপারে কোনো কথা না বলে বা তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে কেবলমাত্র প্রতিপক্ষের ওপর অঙ্গুলী নির্দেশ করেন তখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তো আশ্বস্তবোধ করার কোনো কারণ দেখিনা।

নুরুল কবির বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে হিন্দু ,মুসিলম,বৌদ্ধ ও খৃষ্টান সবাই মিলে সংঘবদ্ধ সামাজিক সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। দেশের প্রায় পঁচানব্বই ভাগ ভোটারকে বাইরে রেখে আওয়ামী লীগ তথাকথিত নির্বাচনের ভিত্তিতে নতুন যে সরকার গঠন করেছে সেটি অবৈধ। তারা বাহুবলে এবং রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করে দলীয় রাজনীতির প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিকভাবে অবৈধ এই সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের সংগ্রামকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য সরকার উপজেলা নির্বাচন দিয়েছে বলে আমার ধারণা। ফলে গণতন্ত্রের নামে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সরকারের এক ধরনের চাতুর্য ছাড়া আর কিছু নয়।

সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্র¯ত্ম যশোরের অভয় নগর থানার মালো পাড়া এলাকা পরিদর্শন শেষে এক জনসভায় বলেছেন হিন্দুদের বাড়িঘর ও সম্পদের উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যতটা কঠোর হওয়া দরকার ততোটা কঠোর হবেন। কিন্তু দেশ বিদেশের পত্রপত্রিকায় এসেছে এ সকল হামলার সাথে সরকারি দলের অনেকে জড়িত এবং পুলিশের কাছে কোন সাহায্য চেয়েও তারা তা পাননি।


সামগ্রিকভাবে যশোরে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য কে আপনি কিভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নের জবাবে দৈনিক নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবির রেডিও হেরান বাংলাকে বলেন, তথা কথিত নির্বাচনের আগে বা পরে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলাকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে বাড়িঘর ছেড়ে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। কিন্তু আমি আশ্ব¯ত্ম হতে পারিনাই। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন আশ্ব¯ত্ম হতে পারে নাই।

কারণ সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর আক্রমণের ব্যাপারে এরইমধ্যে মিডিয়াতে যেসব খবর এসেছে এবং হিন্দু-বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্যপরিষদের নেতারা যেসব তথ্য উদঘাটন করেছেন, তাতে দেখা যায় শুধু অভয়নগরই নয় সারাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনার সাথে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ জড়িত ছিল। অভয়নগর আওয়ামী লীগের নেতা ওহাব ওখানকার হিন্দুদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। বিভিন্ন সময়ে সংখ্যা লঘুদের উপর যে হামলা ও আক্রমন হয় এ বিষয় নিয়ে যদি আওয়ামী লীগ কথামালার রাজনীতি না করতো তাহলে সত্যিকার অর্থে এ সমস্যার সমাধান হতো বলে আমি মনে করি।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে বিচার বিভাগীয় তদšত্ম কমিশনের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণের জন্য সুস্পষ্টভাবে কিছু ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল কিন্তু তারা এ ব্যাপারে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো শা¯িত্ম প্রদান, কোন পদক্ষেপ বা কোন ব্যবস্থা তারা নেয়নি।

এবারও হিন্দুদের ওপর হামলার ব্যাপারে প্রশাসন দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে কিম্বা ব্যর্থ হয়েছে। সরকারি দলের লোকেরা এই আক্রমণে জড়িত থাকার পরও তাদের ব্যাপারে কোনো কথা না বলে বা তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে কেবলমাত্র প্রতিপক্ষের ওপর অঙ্গুলী হেলন করেন তখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তো আশ্ব¯ত্মবোধ করার কোনো কারণ নেই। আর আমরা যারা অসাম্প্রদায়িক একটি সমাজের চিšত্মা করি এবং যারা রাজনীতি সচেতন নাগরিক তারাও কোন আশ্ব¯ত্ম হতে পারছিনা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সকল প্রাšেত্মর সাম্প্রদায়িক হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে হিন্দু ,মুসিলম,বৌদ্ধ ও খৃষ্টান সবাই মিলে সংঘবদ্ধ সামাজিক সংগ্রাম গড়ে তোলা ছাড়া কোন উপায় নেই।

শিল্প মন্ত্রী আমির হোসেন আমু বিএনপি কে নাকে খত দিয়ে উপজেলা নির্বাচনে আসতে হবে বলে যে মšত্মব্য করেছেন আর বিএনপি কি আসলে উপজেলা নির্বাচনে আসতে এতটা নিরুপায় হয়ে পড়েছে, এ বিষয়ে মূল্যায়ন করতে যেয়ে নুরুল কবির বলেন, জনাব আমির হোসেন আমু কেন বলেছেন বিএনপিকে নাকে খত দিয়ে নির্বাাচনে আসতে সে বিষয়ে উনি বলতে পারবেন আর বিএনপি নাকে কত দিবে কিনা সেটা অবশ্যই বিএনপি বলতে পারবে তবে আমি একজন রাজনীতি সচেতন নাগরিক ও সাংবাদিক হিসেবে বলতে পারি, তারা যে ভাষায় কথা বলছে, প্রতারনার মাধ্যমে দেশের প্রায় পঁচানব্বই ভাগ ভোটারকে নির্বাচনের বাইরে রেখে আওয়ামী লীগ তথাকথিত ভোটার বিহীন নির্বাচনের ভিত্তিতে নতুন করে যে প্রহসনের সরকার গঠন করেছে সেটি অবৈধ। তারা পেশি শক্তি তথা বাহুবলে এবং রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করে দলীয় রাজনীতির প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টা করছেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গুলোকে দরীয়করণ করে কব্জা করতে চাইছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে অবৈধ এই সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের সংগ্রামকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য সরকার উপজেলা নির্বাচন দিয়েছে। ফলে গণতন্ত্রের নামে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সরকারের একধরনের চাতুর্য ছাড়া আর কিছু নয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার যদি আšত্মরিক হত তাহলে বহু আগেই দুটি সমস্যার সমাধান তারা করত।

তিনি বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি উপজেলা চেয়ারম্যান বা ভইস-চেয়ারম্যানদের সাথে সংসদ সদস্যদের যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তা মিটিয়ে ফেলতেন। এবং ঢাকা শহরের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সাড়ে ছয় বছর ধরে আটকে রাখতো না। উপজেলা নির্বাচনকে রাজনৈতিক দলগুলো কিভাবে নিবে সেটা দেখার বিষয় তবে এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সরকারের একটি চাতুর্য বা রাজনৈতিক খেলা ছাড়া আর কিছু নয়।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রধনমন্ত্রীর বিশেষ দূত নিযুক্ত হওয়ার পর এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে তিনি মঞ্জুর হত্যা মামলার রায়ের আগের যে কোন দিন দীর্ঘ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিবেন। এরশাদ বলেছেন দেশের ভাবমর্যাদা উদ্ধারে তিনি কাজ করবেন।

এ ব্যাপারে নূরুল কবিরের মূল্যায়ন হল, জেনারেল এরশাদকে অনেক পত্র-পত্রিকা বন্ধু বান্ধব এবং রাজনৈতিক নেতা পল্লীবন্ধুর পরিবর্তে অনেকে পল্টি বন্ধু বলা শুরু করেছিল। তবে জোর করে ক্ষমতা দখলের পর থেকে তার রাজনৈতিক জায়গা থেকে তিনি পল্টি দেননি। ১৯৮২, ৮৬ বা ৮৮ সালেও যত নাটকই করুক না কেন যখন কেবিনেটে ছিল বা ক্ষমতার বাইরে বরাবরই জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের পক্ষে ছিল এবং বর্তমানেও সেখানেই রয়েছে। জনপ্রিয়তা তৈরির জন্য তিনি অনেক নাটক করেছেন। এটা তার রাজনৈতিক এথিকস। এরশাদ এবং জাতীয় পার্টির তেমন কোনো ভবিষ্যত নেই বলে আমি মনে করি।

আমাদের সময়