অসময়ে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের শাহী বচন ও সত্যের অপলাপ

smএম. নজরুল ইসলাম
বচনামৃতে বাঙালির অরুচি কখনো ছিল না। বরং তাতে খঅনিকটা মনোরঞ্জন হয়। দেশে আজকাল আগের মতো শীতের সময় সার্কাস পার্টি তাঁবু খাটিয়ে সার্কাস দেখায় কি না, জানি না। আমাদের শৈশব-কৈশোরে সার্কাস হতো। বেশ বড় একটা সময়ের জন্য সার্কাস পার্টি আসতো। শীতের রাতে চাদর মুড়ি দিয়ে হ্যাজাক বাতির আলোয় সার্কাস দেখার মজাই আলাদা ছিলো। সার্কাসের নারী ও পুরষ সদস্যদের শারীরিক কসরতের পাশাপাশি জীবজন্তুর নানা খেলা দেখার আনন্দ যেমন ছিল, তেমনই অন্যতম আকর্ষণ ছিল সার্কাসের জোকার। লোক হাসাতে তাঁদের জুড়ি মেলা ভার ছিল। কোনো এক এলাকা থেকে সার্কাস পার্টি চলে গেলেও জোকারদের অঙ্গভঙ্গি ও অভিনয় এলাকায় লোকের মুখে মুখে ফিরতো। সার্কাস পার্টির জোকারদের চাকরির শর্ত ছিল লোক হাসানো। এর বিনিময়ে তাঁরা পারিশ্রমিক পেতেন। আজকাল জোকারের দেখা পেতে আর সার্কাস পার্টির অপো করতে হয় না। ড্রইং রুমে আকাশ সংস্কৃতি ঢুকে পড়ার পর আজকাল সার্কাস পার্টির সংখ্যা হয়তো কমে গেছে, কিন্তু দেশে অনেক পলিটিক্যাল পার্টি আছে। আর, সার্কাস পার্টির জোকারদের মতো এসব পার্টিতে আছে পলিটিক্যাল জোকার। এই পলিটিক্যাল জোকারদের নিয়মিত পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা আছে কি না, জানি না; তবে ভবিষ্যতে কোনো প্রাপ্তিযোগের আশায় কিংবা নিছকই তোষণতন্ত্রের অনুসারী অনেকেই আজকাল পলিটিক্যাল জোকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন। স্থান-কাল ভুলে তাঁরা এমন মšত্মব্য করছেন, যা তাঁদেরকে মানুষের কাছে হাস্যকর করে তুলছে। এই বচন উদ্গিরণে ইদানিং যাঁর কণ্ঠ বেশ ব্যবহৃত হচ্ছে তিনি শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সংযোগ বহু দিন ধরে। বহু পথ ঘুরে তিনি এখন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে’ আস্থাশীল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যানের ‘ভাইসেস’ নিয়ে অনেক কিছুই আলোচনার আছে। সে কথা পরে হবে। ইদানিং শুধু নয়, বেশ কিছুদিন আগে থেকেই ল্য করা যাচ্ছে, তিনি অযথাই দেশের তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটা করে বাক্যবাণ ছুঁড়ছেন। গত ২৩ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসকাবে জাতীয় সমবায় দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে এনেছেন। হাসিনা দেশে আসার আগে চার বছর দিল্লি ছিলেন। জিয়াউর রহমান দেশে আনার আগে হাসিনাকে যা যা শেখানোর সবকিছু শিখিয়েছেন’।

শেখ হাসিনা দেশে আসার আগে তাঁকে কী কী শিখিয়েছিলেন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের হালের রাজনৈতিক গুরু জিয়াউর রহমান? সবাই জানেন, শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে যখন দেশে ফিরে আসেন, দেশে তখন চলছিল ‘কার্ফিউ গণতন্ত্র’। সামরিক শাসকের রক্তচু উপো করেই দেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা। হাল ধরেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের। সেই সময়ে দেশ বিদেশের পত্র-পত্রিকায় শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ঐ সময়ে প্রকাশিত দেশী-বিদেশি পত্রিকার প্রতিবেদনই স্যা দিচ্ছে, সামরিক ও সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিষ্ট জেনারেল জিয়া শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা বানচাল করতে সব ধরনের চেষ্টাই করেছিলেন। অবলম্বন করেছিলেন সব অসাধু উপায়। জনপ্রিয় নেতার কন্যা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হওয়ার ফলে বিচলিত হয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। বিচলিত হয়েছিল তাঁর দলও।

লন্ডনের ‘দি ডেইলি টেলিগ্রাফ’ পত্রিকায় ১৯৮১ সালের ১৮ মে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ভারতের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ নিউ মুর (তালপট্টি) দ্বীপ সম্পর্কিত বিবাদ অজুহাত হিসাবে ব্যবহার করছে বলে ভারতের কোনো কোনো মহল মনে করে। কিন্তু ভারত-বিদ্বেষের আসল কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাতার কন্যা শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সাম্প্রতিক সিদ্ধাšত্ম।’ লন্ডনের ‘দি ইকনমিস্ট’ পত্রিকায় ১৯৮১ সালের ৩০ মে প্রকাশিত এক সংবাদ-বিশ্লেষণে বলা হয়, ‘একটি ুদ্র দ্বীপ নিয়ে ঝগড়া-বিবাদের ফলে একজন বীর শহীদের কন্যা জনগণের সহানুভূতি হারাতে পারেন বলে জেনারেল জিয়াউর রহমান আশা করেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনার আবির্ভাব জিয়ার জন্য সর্বপ্রথম রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা দিয়েছে। জিয়াউর রহমান তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি বিপুল জনসমর্থনের মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনাকে ‘ভারতের তল্পিবাহক’ হিসেবে চিহ্নিত করাই তাঁর জন্য সর্বোত্তম কৌশল হবে বলে স্থির করেছেন।’

সরকারী মালিকানাধীন ‘বাংলাদেশ টাইমস’ ও ‘বাংলাদেশ অবজারভার’-এ বিরাট শিরোনাম দিয়ে প্রকাশিত একাধিক সংবাদে ভারত আওয়ামী লীগকে সহায়তা করছে বলে দাবি করা হয়। শেখ হাসিনা ঢাকা ফেরার এক সপ্তাহ আগে এসব মিথ্যা সংবাদ তৈরি করার জন্য ঐ দুই পত্রিকার দুইজন বিশেষ প্রতিনিধিকে জেনারেল জিয়া নয়াদিল্লী পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে এ দু’জন সাংবাদিকের নাম ঢাকার ‘বাংলার বাণী’ পত্রিকায়ও প্রকাশিত হয়। জেনারেল জিয়ার সামরিকতন্ত্রের রক্তচু উপো করে শেখ হাসিনা পিতৃভূমিতে ফিরে আসেন।

এই শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কয়েকদিন আগে জাতীয় প্রেসকাব মিলনায়তনে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৭৮তম জন্মবার্ষিকী উপলে জেডফোর্স কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে এবং দেশ স্বাধীনতায় আপনার কোনো ভূমিকা নেই। অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছি, জেল খেটেছি আমরা। তাই স্বাধীনতার কথা আপনি বলবেন না।’ এর আগে ২০১১ সালের ১৫ মার্চ মঙ্গলবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। ওই সভায় তিনি বলেছিলেন, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগ মলমূত্র ছাড়া কিছুই ত্যাগ করেনি।’ অর্থাৎ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের কথা শুনলে কারো মনে হতে পারে এদেশের স্বাধীনতার জন্য তিনিই বোধকরি একমাত্র ত্যাগী পুরুষ।

এখন আমরা একটু পেছন ফিরে তাকাবো। কারণ, ইতিহাসের কিছু অলিখিত বিষয় তুলে ধরা দরকার। বিশেষ করে যখন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, কিংবা স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ভূমিকা নিয়ে কটা করা হয়। দেশের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ নিয়ে তাঁকে কথা না বলতে পরার্মশ দেওয়া হয়, তখন ইতিহাসের কিছু পাতা উল্টিয়ে দেখা দরকার। শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করা তখন নৈতিক দায়িত্ব হিসেবেই বিবেচিত হয়। তাহলে জানা যাক, কে এই শাহ মোয়াজ্জেম, কী তাঁর পরিচয়?

সুবিধা পেতে বারবার দল পাল্টাতে ও¯ত্মাদ শাহ মোয়াজ্জেম সম্পর্কে অনেকেই জানেন। একদা আওয়ামী লীগেরই একজন নেতা ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই নানা ধরণের ষড়যন্ত্রের হোতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ১৯৬৩ সালে ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি। তখন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শেখ ফজলুল হক মণি। পরের বছরও তাঁর ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার খায়েশ ছিলো। কিন্তু তাঁকে বেছে নেয়নি ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগ থেকে পদ হারিয়ে তিনি কিছুদিন ছিলেন ইস্ট পাকি¯ত্মান আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির একজন নগন্য সদস্য। পরে সেখান থেকেও বাদ পড়েন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। তবে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর বদান্যতায় আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এরপর আসে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। একাত্তরে অন্য আওয়ামী লীগ নেতাদের মতো তিনিও দেশত্যাগ করে কলকাতায় যান। কিন্তু কোনো সাংগঠনিক কর্মকান্ডের সঙ্গে তিনি কখনো জড়িত ছিলেন না। মুক্তিযুদ্ধে কোনো দায়িত্বও দেওয়া হয়নি তাঁকে। কলকাতার বালু হাক্কাক লেনে ছিলো আওয়ামী লীগের অফিস। আওয়ামী লীগ অফিসের কাছাকাছি জায়গাতে থেকে ঐ অফিস ও এর আশেপাশে ঘোরাফেরা করার মধ্যেই একাত্তরের নয়টি মাস কেটেছে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের। কোথাও কোনো দায়িত্ব তাঁর ছিলো না। কারণ, ষড়যন্ত্রকারী হিসেবেই সবার কাছে পরিচিত ছিলেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশত্যাগ করে কলকাতায় যাওয়ার পর তিনিই ছিলেন একামাত্র আওয়ামী লীগ নেতা, মলমূত্র ত্যাগ করা ছাড়া কোনো কাজ যাঁর ছিলো না। নিজের সেই ‘ত্যাগ’ তিনি অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন অনেক আগে থেকেই। স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়ে কেমন করে তিনি চিফ হুইপের পদটি পেয়েছিলেন, তার সাী অনেকেই এখনও জীবিত আছেন। তাঁরাই সেদিনের কথা বলতে পারবেন। উদার হৃদয়ের জননায়ক বঙ্গবন্ধু তাঁকে সব ধরণের ধূর্তামি ছেড়ে জনসেবায় আতœনিয়োগের উপদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু কথায় আছে, ‘কয়লা ধুলে ময়লা যায় না’। শাহ মোয়াজ্জেমও নিজেকে শোধন করতে পারেননি। থেমে থাকেনি তাঁর ষড়যন্ত্রের রাজনীতি।

মোশতাক তাহেরউদ্দিন ঠাকুরদের প্রিয়ভাজন এই শাহ মোয়াজ্জেম পঁচাত্তরের জেল হত্যার সঙ্গেও জড়িত বলে অভিযোগ আছে। ত্যাগের বিষয়ে যদি বলতে হয়, তাহলে বলতেই হয়, আরেকটি ত্যাগে শাহ মোয়াজ্জেম বেশ পারঙ্গম। আওয়ামী লীগ ছেড়ে তিনি যোগ দিয়েছিলেন মোশতাকের ডেমোক্রেটিক লীগে। এরপর এরশাদের দলে। সামরিক জাšত্মার বুটের নিচে খুঁজেছিলেন স্ব¯িত্ম ও মতার শাšিত্ম। পেয়েছিলেনও। পানি যখন যে পাত্রে থাকে তখন সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। এটাই পানির চরিত্র। শাহ মোয়াজ্জেমেরও এই চরিত্রটি আছে। যখন যে দলে থাকেন তখন সেই দলের হয়ে যান সহজেই। আজ বিএনপিতে নাম লিখিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বলছেন। একদিন এরশাদের দলে থেকে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সম্পর্কে কুৎসিত কথা বলতেও তাঁর বাঁধেনি। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন এরশাদের ধামাধরা হিসেবে তিনি বলেছিলেন, ‘দুই মহিলার মিলনে বাচ্চা পয়দা হয় না।’ সেই দুই মহিলার একজনের সঙ্গে মিলে এখন নতুন করে কী পয়দা করছেন তিনি? যাক ও কথা।

শেখ হাসিনা সম্পর্কে বিষোদগার করতে গিয়ে শেখ হাসিনাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেও ছাড়েননি। তিনি বলেছেন, ‘বিয়ের পরও স্বামীর পদবী না নিয়ে শেখ পদবী ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নারী ও সমাজকে অপমান করেছেন’। তিনি বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ শব্দটি ব্যবহার করছেন। অথচ বাংলাদেশের নারীরা বিয়ের পরে স্বামীর পরিচয় ব্যবহার করেন। কিন্তু তিনি স্বামীর পরিচয় ব্যবহার না করে বাংলাদেশের নারী ও সমাজকে অপমানিত করেছেন। এ কারণে বাংলাদেশের মানুষ তাঁকে রিজেক্ট করেছে। তাই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মাত্র ৫% ভোট পেয়েছেন।’

আজকের দিনে কোনো নারীর পরিচয় কি অন্য কারো ওপর নির্ভর করে? নারী আজ স্বাবলম্বী। বাংরাদেশের নারীরা বিদেশে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটা করতে গিয়ে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন আসলে দেশের নারীদের হেয় প্রতিপন্ন করেছেন, অবমানননা করেছেন। অবিলম্বের তাঁর এ অবমাননাকর মšত্মব্য প্রত্যাহার করা উচিত।

একটু আগেই বলেছি, শাহ মোয়াজ্জেমের চরিত্র পানির মতো। যখন যেখানে থাকেন, সেখানকার চরিত্র ধারণ করেন। পানির কথাই যখন এসেছে, তখন পানির আরেকটি ধর্ম উল্লেখ করা যাক। পানির ধর্ম নিচের দিকে গড়িয়ে চলা। নিজেকে নিচের দিকে নামাতে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন নিজেকে কোথায় নামিয়ে এনেছেন, সেটা কি তিনি উপলব্ধি করতে পারছেন? একটু পেছন ফিরে তাকালে বোধহয় তিনি তাঁর অধঃপতনটি বুঝতে পারতেন।

তবে, দেশের মানুষ নিশ্চয় এই পতনশীল নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের কথা, যাকে আমরা বলতে পারি শাহী বচন, যা সত্যের অপলাপ কিংবা অসময়ের প্রলাপ তা নিয়ে সময় নষ্ট করবে না।

লেখক: অস্ট্রিয়া প্রবাসী লেখক, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক
nazrul@gmx.at

আমাদের সময়