অভাবে অনটনে দূর্দিন কাটাচ্ছে সিরাজদিখানের কয়েকশত কামার পরিবার

kamarইকবাল হোছাইন ইকুঃ সিরাজদিখান উপজেলার কয়েকশত কামার সম্প্রদায়ের জীবনে নেমে এসেছে দূর্দিন। আর্থিক সংকট লোহাশিল্পরে প্রয়োজনীয় উপকরণের দুষ্প্রাপ্যতা, দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধি এবং ক্রেতা স্বল্পতায় বর্তমানে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সরকারের সুদৃষ্টির অভাব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ না পাওয়া, অর্ডার কম আসা, তাদের তৈরী জিনিসের চাহিদা কমে যাওয়া সহ বিভিন্ন কারণে কামাররা বাপ-দাদার ঐতিহ্যবাহী এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছে।


সরেজমিন পরিদর্শনে জানাযায়, লোহার দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি, প্রায় তিনগুণ। আর উন্নত মানের লোহা ও ইস্পাত পোড়ানোর জন্য সুন্দরী কাঠ বা অন্য কোনো শক্ত কাঠের কয়লার প্রয়োজন। কয়লা পাওয়া গেলেও আগে এক টিন ১০-১২ টাকা ও এক বস্তা কয়লা ১০০-১২০ টাকায় কেনা যেতো। কিন্তু বর্তমানে তা কিনতে হয় ৪০-৫০ ও ৫০০-৬০০ টাকায়। এই অঞ্চলের কামাররা মাছ মারার টেটা, জুইত্তা, ফুলকুচি, চাকু, চাপাতি, হাসুয়া, রাম দা, বটি, দা, শাবল, কুড়াল, কোদাল, খুন্তি, ছেনি, কাস্তে, টেডি, লাঙ্গলের ফলা, কাটারি, বেলচা, নিড়ানি ইত্যাদি তৈরী করে।
kamar
সিরাজদিখান উপজেলার তালতলা বাজারের তিন্না মন্ডল অতি দুঃখের সহিত জানান, ৪০ বছর ধরে পূর্বপুরুষের এই পেশায় থেকে কোনোমতে জীবন ধারণ করে আসছি। এ কাজ করে দিনে ২০০-৩০০ টাকা আয় হয়। এতে বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির বাজারে ৫-৭ জনের পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

মুন্সিগঞ্জটাইমস