মুন্সীগঞ্জ পর্চা কার্যালয়ে চলছে অবৈধ চর্চা

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিচতলায় পর্চা অফিস থেকে জেলার বিভিন্ন মৌজার সিএস, এসএ, আরএস পর্চা তুলতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরসহ ৬ উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, অফিস কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় একটি দালাল চক্র পর্চা উত্তোলন করে দেয়ার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অংকের টাকা। কোনো নিয়মনীতির বালাই না থাকায় সাধারণ মানুষ পর্চা তুলতে এসে নিয়মিত পড়ছেন নানা বিড়ম্বনায়।

এ কারণে নিজ দায়িত্বে পর্চা না তুলে সাধারণ মানুষ দালাল চক্রের সহযোগিতা নিচ্ছেন। এ সুযোগে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে মুন্সীগঞ্জ পর্চা উত্তোলন অফিসে। সূত্র জানায়, ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়ম অনুযায়ী একটি সইমুহুরি পর্চা তুলতে সময় লাগার কথা ৭ থেকে ১৫ দিন। এর জন্য খরচ লাগবে ১২-২২ টাকা। ২২ টাকার কোর্ট ফি দিয়ে পর্চা উত্তোলনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে দরখাস্ত জমা দিলে ৭ দিন এবং ১২ টাকার কোর্ট ফি দিয়ে দরখাস্ত জমা দিলে ১৫ দিনে পর্চা পাওয়ার কথা।


কিন্তু সেই বেঁধে দেয়া নিয়মের তোয়াক্কা না করে পর্চা প্রদান কার্যালয়ে চলছে রমরমা বাণিজ্য। পর্চা আদান-প্রদানে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন চলছে খোদ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিচতলায়। বিষয়টি প্রশাসন থেকে শুরু করে সব মহলের জানা থাকলেও সমাধান দেয়ার যেন কেউ নেই। সে সুযোগে অফিস কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দালালচক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। পর্চা তুলতে আসা সিরাজদিখান এলাকার রহমত মিয়া জানান, আগে একটি সইমুহুরি পর্চা তুলতে সময় লাগত সাধারণভাবে এক সপ্তাহ।

তবে জরুরি ভিত্তিতে একদিনেই উঠানো সম্ভব ছিল। সরকারি খরচ ও উপরি সহকারে টাকা লাগত কম। এখন ন্যূনতম ৭ দিনে পর্চা দেয়ার কথা থাকলেও স্বাভাবিক নিয়মে গেলে এক থেকে দেড় মাসে পর্চা পাওয়া সম্ভব হয় না। অফিস ম্যানেজ করে পর্চাপ্রতি ন্যূনতম খরচ হয় ৩০০-৫০০ টাকা। তবে তা করতে হয় দালালের মাধ্যমে। শ্রীনগরের তোরাব মুন্সী অভিযোগ করেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে জরুরি প্রয়োজনে পর্চা তোলার ব্যবস্থা নেই। উত্তোলনকৃত পর্চা ভুল হলেও ভুল সংশোধনে ব্যবস্থা রাখা হয়নি। উত্তোলনকৃত পর্চায় ভুল থাকলে আবার নতুন করে দরখাস্ত করে পুনরায় অফিস ম্যানেজ করে পর্চার জন্য অপেক্ষা করতে হয়।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একজন কর্মচারী জানালেন, ওই অফিসে ৬টি উপজেলার পর্চা কম্পোজ করা হয় ৪টি কম্পিউটারে। এর মধ্যে বেশিরভাগ সময় দু-একটা কম্পিউটার নষ্ট থাকে। এছাড়া দেখা যায় প্রিন্টারের কালি আছে তো কাগজ নেই। আবার কালি-কাগজ ঠিকমতো থাকলে প্রিন্টার থাকে নষ্ট। এছাড়া লোকবল সঙ্কটের কারণে স্বল্প সময়ে এত পর্চা ডেলিভারি দেয়া সম্ভব হয় না। তাছাড়া পর্চা তুলতে হলে প্রতিটি টেবিলেই নির্দিষ্ট হারে টাকা দিতে হয়। অতিরিক্ত টাকা আর দালালের সহযোগিতা ছাড়া এখানে পর্চা উত্তোলন খুবই কষ্ট বলে জানালেন তিনি।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল হাসান বাদল বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আলোকিত বাংলাদেশ