মুন্সীগঞ্জে লঞ্চে ডাকাতি, মামলা নিচ্ছে না পুলিশ

ldমুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের সীমান্তবর্তী শীতলক্ষ্যা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চে ডাকাতির ঘটনার ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা নিচ্ছে না থানা পুলিশ। মুন্সীগঞ্জ সদর ও নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা পুলিশ ডাকাতির ঘটনার পর থেকে সীমানার অজুহাতে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দেওয়ায় মামলা রুজু অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

আর এ সুযোগে নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জগামী রিগ্যান এক্সপ্রেস নামে যাত্রীবাহী লঞ্চে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় জড়িতরা ধরাছোয়াঁর বাইরে রয়েছেন। তাদের গ্রেফতার করাতো দূরের কথা, মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত কার্যক্রমও করছে না পুলিশ।

ফলে লঞ্চ ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার কাজও ভেস্তে যেতে বসেছে।


এদিকে, ঘটনার তিন দিনের মাথায় স্বজনরা মামলা করতে গেলেও তা গ্রহণ করেনি বন্দর থানা পুলিশ। রোববার দুপুরে নিখোঁজ লঞ্চ যাত্রী সুমন চন্দ্র দাসের ভাই লিটন চন্দ্র দাস বাদী হয়ে এ মামলা করতে গিয়েছিলেন।

ডাকাতির ঘটনাস্থল মুন্সীগঞ্জ সদর থানার সীমানায় পড়েছে অজুহাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা পুলিশ মামলা না করায় রোববার বিকেলে নিখোঁজ লঞ্চ যাত্রীর স্বজনরা হতাশ হয়ে মুন্সীগঞ্জে ফিরেছেন।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. জামাল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ডাকাতির ঘটনা দুই জেলার সীমান্তবর্তী হলেও ঘটনাস্থল মুন্সীগঞ্জ সদর থানা এলাকায় পড়েছে। তাই এ ঘটনায় বন্দর থানায় কোনো মামলা রুজু করা হবে না। এ মামলা করতে হবে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায়।

এক প্রশ্নে উত্তরে তিনি বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জ পুলিশ ঘটনাস্থল বন্দর থানা এলাকায় পড়েছে’ তা বললেই তো হবে না।’

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, লঞ্চ ডাকাতির ঘটনাস্থল নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকায় পড়েছে। তাই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব তাদের। নদীর উত্তর প্রান্ত বন্দর থানায় পড়লেও তারা কেন মামলা নেয়নি তার খোঁজ নিয়ে দেখছি।

নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ নৌরুটের মদরগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীতে বৃহস্পতিবার রাত ৭টার দিকে মুন্সীগঞ্জগামী যাত্রীবাহী লঞ্চে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। এ সময় ডাকাতদলের হামলায় ২০ যাত্রী আহত ও ৪ যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর