শিল্পী কামরুল হাসান লিপুর ব্যবসায়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ

Monilipuরাহমান মনি
কামরুল হাসান লিপু। জাপান প্রবাসীদের অতি পরিচিত ও প্রিয় একটি নাম। সবার কাছে লিপু নামেই পরিচিত। শুধু প্রবাসীদের মাঝেই নয়। লিপুর পরিচিতি টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসেও। একজন শিল্পী হিসেবে। জাপান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর রেজাউল করিম রেজার ভাগ্নে হওয়ায় লিপুর পরিচিতি চিত্রশিল্পী থেকে ভাইগ্না লিপু হিসেবে সমধিক পরিচিত।

বেশিদিন আগের কথা নয়। ২০০৬ সালে ছাত্র ভিসায় লিপুর জাপান আগমন। ভরসা কেবল চিত্রকলা শিল্পের কাজ জানা আর মামাদের উপস্থিতি। কিন্তু প্রতিভা থাকলে যে উদীয়মানদের মামার পরিচিতি ছাড়াও নিজস্ব পরিচয়ে পরিচিতি পাওয়া যায় জাপানে লিপু তার জীবন্ত উদাহরণ।


বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (UODA)’র প্রাক্তন ছাত্র লিপু জাপান এসে প্রথমে জাপানি ভাষা শিক্ষা কোর্স শেষে টোকিও ইউনিভার্সিটি অব আর্ট অ্যান্ড ডিজাইন থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। অভিবাসন আইনের প্যাঁচে পড়ে পড়াশুনার সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলেও কাজটি চালিয়ে যেতে থাকেন তিনি। এরই মধ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পছন্দের কাজ খুঁজতে থাকেন।


চিত্রকলায় সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ থেকে শিক্ষা গ্রহণ শেষে কর্মজীবনে স্বতন্ত্রভাবে কিছু করার তাগিদ তাড়া করে বেড়াচ্ছিল লিপুকে। এছাড়াও ছাত্রাবস্থায় ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘কাহাল’ (KAHAL, Keep Art History And Life) আর্ট গ্রুপ নামে জাপান-বাংলাদেশি চিত্রশিল্পীদের নিয়ে একটি যৌথ আর্ট গ্রুপ। অনেকে আবার কাহালকে কামরুল হাসান লিপুর সংক্ষিপ্ত রূপ মনে করে ভুল করে থাকেন। ব্যাপারটা অনেকটাই কাকতালীয়। ২০০৯ সালে কাহাল আর্ট গ্রুপ বাংলাদেশে ঢাকার দৃক গ্যালারিতে প্রথমবারের মতো জাপান-বাংলাদেশ উভয় দেশের চিত্রশিল্পীদের নিয়ে চিত্রকলা প্রদর্শনীর আয়োজন করে। এরপর ২০১০-১১ এবং ২০১২তে টোকিওতে এবং ২০১৩তে ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে পঞ্চমবারের মতো কাহাল আর্ট গ্রুপ চিত্রকলা প্রদর্শনীর আয়োজন করে। যেখানে বাংলাদেশের সব নামিদামি চিত্রশিল্পীদের পদধূলি পড়ে। অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে সব প্রদর্শনীই সমাপ্ত হয়। প্রচুর দর্শক সমাগম ঘটে প্রতিটি প্রদর্শনীতে।
Monilipu
জাপানে প্রবাসীদের প্রতিটি আয়োজনে লিপুর অংশ অনিবার্য, ব্যানার লিখা, স্টেজ সাজানো থেকে শুরু করে সার্বিক সহযোগিতায় লিপুর হাতে ছোঁয়া যেন একে অপরের পরিপূরক। টোকিও বৈশাখী মেলার মেইন স্টেজে লিপুর কাজ সকলের দৃষ্টি কাড়া। প্রবাস প্রজন্মের জন্মলগ্ন থেকে লিপুর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

এই রকম প্রতিভার একজন শিল্পীর পক্ষে টোকিওর বাইরে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে থেকে কাজ আর বাসার মধ্যে মন টেকানো কিছুতেই সম্ভব হচ্ছিল না। এদিকে আবার অভিবাসন আইনে রয়েছে বিভিন্ন নিয়মনীতি। তা উপেক্ষা করে জাপানে বসবাস করাও সম্ভব নয়। তাই বেছে নিতে হয় স্বাধীনচেতা ব্যবসাকে।

২৯ ডিসেম্বর ২০১৩ রোববার ব্যবসায়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। জাপান প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের হালাল খাবার প্রাপ্তির সুবিধার্থে হালাল ফুড ব্যবসা শুরু করেন। প্রতিষ্ঠানের নাম দেন ‘ঢাকা হালাল ফুড’, বাংলাদেশি বিভিন্ন স্পাইস, হিমায়িত মাছসহ হালাল মাংস, গ্লোসারি জিনিসপত্রসহ মোবাইল ফোনসেট, কম্পিউটার, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, এয়ার টিকেট এবং স্বল্প খরচে দ্রুততম সময়ে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুবিধা থাকবে লিপুর প্রতিষ্ঠানে। থাকবে অনলাইন শপিং সুবিধাসহ জাপানের যে কোনো প্রান্তেই পৌঁছানোর নিশ্চয়তা।

বিস্তারিত জানার জন্য ফোন : ০৩-৬৯০৮-৪০৪৫, www.dhaka4.com, email: info@dhaka4.com। লিপুর সঙ্গে ঢাকা হালাল ফুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আছেন কবির, সুমন এবং জুয়েল নামের আরও তিন বন্ধু।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক