নিখোঁজের সন্ধানে স্বজনদের তল্লাসী : পুলিশের বনভোজনে আনন্দ উল্লাস

skdশেখ মো. রতন: মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের সীমান্তবর্তী ধলেশ্বরী-শীতলক্ষ্যা নদীতে ডাকাতদের হামলায় নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনরা যে সময় শোকে মূহ্যমান হয়ে নদীতে তল্লাসী চালিয়েছে, একই সময়ে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ বার্ষিক বনভোজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আনন্দ উল্লাসে মেতে থাকার ঘটনা শহরবাসী প্রত্যক্ষ করেছে।

এর ফলে মুন্সীগঞ্জের পুলিশের ভুমিকা নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মুন্সীগঞ্জ শহরবাসী পুলিশের দায়িত্ব অবহেলার ঘটনায় বিরূপ মন্তব্য অব্যাহত রেখেছেন।

লঞ্চ যাত্রীদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, মুন্সীগঞ্জ প্রশাসন ও পুলিশ নিখোঁজ লঞ্চ যাত্রীদের উদ্ধারে কোন দায়িত্ব পালন করেননি।

ঘটনার পর থেকে একদিকে নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনরা শোকে মূহ্যমান হয়ে শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদীতে তল্লাসী চালাচ্ছে। অন্যদিকে ধলেশ্বরী নদীর তীরে পুলিশের লাইনের বিশাল আঙিনায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ পুলিশ বার্ষিক বনভোজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়ে আনন্দ উল্লাসে ব্যস্ত থেকেছেন।

তবে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, লঞ্চ ডাকাতির ঘটনাস্থল নারায়নগঞ্জের বন্দর থানাধীন এলাকায় পড়েছে। তাই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব তাদের।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে ডাকাতির ঘটনার পর নিখোঁজ ৪ যাত্রীর মধ্যে একমাত্র সুমন চন্দ্র দাস নামের এক লঞ্চ যাত্রী নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গত দুই দিনের মতো শনিবারও স্বজনরা শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদীতে তল¬াসী অব্যাহত রেখেছেন। এছাড়া নিখোঁজ থাকা অপর ৩ জনের সন্ধান পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে লঞ্চের কেরানী মোবারক হোসেন পুলিশের ঝামেলা এড়াতে ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। অপর দুই জন ডাকাতির ঘটনার সময় সাঁতরিয়ে তীরে উঠে নিজ গন্তব্যে ফিরে গেছেন।

উলেল্লখ্য, নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ নৌরুটের মদরগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীতে বৃহস্পতিবার রাত ৭টার দিকে মুন্সীগঞ্জগামী যাত্রীবাহি লঞ্চে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। এ সময় ডাকাতদলের হামলায় ২০ যাত্রী আহত ও ৪ যাত্রী নিখোঁজ হয়েছে ।

এটিএনবিডি