সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানায়…

fireআরিফ হোসেন: বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটা ছুঁই ছুঁই করছে। শরীরে ঘাতকদের দেওয়া দাউ দাউ আগুন নিয়ে ব্যস্ততম মহাসড়কে দৌড়াচ্ছে মধ্য বয়সী এক পুরুষ। আর চিৎকার করছে বাচাঁও বাচাঁও। সিনেমার মতো এ দৃশ্য দেখে শত শত জনতা হতবাক। এসময় তাকে বাচাঁতে পেছনে ছুটে যায় ঐ স্থানে কর্তব্যরত ৫/৬ জন পুলিশ সহ কতিপয় জনতা।

একসময় আগুন নেভাতে তাকে মহাসড়ক থেকে খালের পানিতে ফেলে দেয় তারা। আগুন নিভে যাওয়ার পর শত শত মানুষের সামনে কারা তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়েছে তাদের নাম বলে নিস্তেজ হয়ে পড়ে আব্বাস আলী (৪৫) নামে ঐ পুরুষ লোকটি। পরে তাকে এম্বোলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের ছনবাড়ী বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা এ প্রতিবেদকের কাছে ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে বার বার বলেন, ভাই যদি স্বচক্ষে দেখতেন তাহলে বুঝতেন। সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানায়!


পুলিশ জানায়, আব্বাস আলীর বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নিলু খামার এলকায়। সে শ্রীনগর উপজেলার ছনবাড়ী বাসষ্ট্যান্ডের কাছে ওয়াছ করুণীর খানকা শরীফের পাশে একটি খাবারের মেস চালাতো। মেসের পাওনা টাকা নিয়ে গত কয়েক দিন আগে ঐ খানকা শরীফের জায়গার মালিক খালেক ঢালী (৩৫) ও তার সহযোগী আবু বক্কর সিদ্দিক (৪০) এর সাথে আব্বাস আলীর ঝগড়া হয়।

এর জের ধরে বৃহস্পতিবার রাত দশটার দিকে তারা কৌশলে আব্বাস আলীকে ছনবাড়ী বাসষ্ট্যান্ডের গাঙ্গচিল কাউন্টারের পেছনে নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার সময় উপস্থিত শ্রীনগর থানার এসআই খালিদ জানান,আব্বাস আলী শত শত লোকের সামনে ঐ দুজনের নাম বলেছে। ঘটনা স্থল থেকে পুলিশ আব্বাস আলীর কেরোসিন মাখা একটি গামছা উদ্ধার করে।


এঘটনায় আব্বাস আলীর মেয়ে ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে আবু বকর সিদ্দিক ও খালেক ঢালীকে আসামী করে শ্রীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ গত রাতেই আসামী আবু বকর সিদ্দিককে আটক করেছে। আবু বকরের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বাউলা গ্রামে।