মাগো তুমি চোখের আঁড়াল হইও না…

skdমামুনুর রশীদ খোকা: মায়ের মধুর মুখ সব সময়ই সন্তানের বুকের ফ্রেমে গেঁথে থাকে। তারপরও মধুর ওই মুখখানি অনেকেই ছবির বাঁধানো ফ্রেমে বন্দি করে সাঁটায় ঘরে দেয়ালে। “মাগো তুমি কখনো চোখের আঁড়াল হইও না”-এমন চাওয়া সব সন্তানেরই। আর তাই তো সদ্য এলএলবি পাশ করা তরুণ সুমন কুমার দাস মায়ের ওই মধুর মুখের ছবি কাঠের ফ্রেমে বেঁধে রাখতে ছুটে গিয়েছিল পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরের কোন এক ছবি বাঁধানো শিল্পীর দোকানে।

কাজ শেষে মায়ের বাঁধানো ছবির ফ্রেম নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে যাত্রীবোঝাই লঞ্চে করে ফিরছিলেন চিরচেনা শহর মুন্সীগঞ্জে। পথিমধ্যে একদল ডাকাতের কবলে লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে এখন নিজেই সবার চোখের আঁড়াল হয়ে গেছে তরুণ।
শহরের মালপাড়া এলাকায় নিখোঁজ তরুন সুমন কুমার দাসের বাড়িতে চলছে মরা কান্না। স্বজনদের গগনবিদারী আহাজারীতে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার আকাশ-বাতাস। সুমন কুমার মনিন্দ্র কুমার দাসের ছেলে। মা লক্ষী রানী দাস মারা গেছেন অনেক আগে।


নিখোঁজ সুমনের ভাই লিটন কুমার দাস জানান, শুক্রবার সকালে দীর্ঘ ৪ ঘন্টা স্বপ্রণোদিত উদ্যোগে ভাইয়ের খোঁজে ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যা নদীর চারপাশ হন্য হয়ে খোঁজেছেন তারা। তবু শুক্রবার রাত ৮ টায় লঞ্চ ডাকাতির ২৪ ঘন্টা পেরুনোর পরও ভাইয়ের দেখা পাননি। নিনখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতায় নদীতে নামেনি পুলিশ কিংবা সরকারের সংশ্লিষ্ট কোন অধিদপ্তর।

নিখোঁজ সুমনরা ৭ ভাই ও ১ বোন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ৩০ জন যাত্রী বোঝাই করে এমএল রিগ্যান এক্সপ্রেস লঞ্চটি মুন্সীগঞ্জ টার্মিনালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসলে পথিমধ্যে ডাকাত দলের হানার আক্রান্ত হয়। এ সময় ২২ যাত্রী আহত ও নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন সেটসহ ১০-১২ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয় ডাকাতরা।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা