সংরক্ষিত আসনই তাদের ভরসা!

kobori-smনবম সংসদের সদস্য ছিলেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি লড়তেও চেয়েছেন। কিন্তু বিধি বাম! দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা। সংরক্ষিত নারী আসনই এখন ভরসা!

নির্বাচনে না পেয়ে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের জন্য দলের সিনিয়র নেতাদের কাছে দৌঁড়ঝাপ করতে দেখা গেছে তাদের অনেককেই। কোনোভাবেই এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না তারা। তবে, তাদের কেউই সংরক্ষিত আসনের এই মনোনয়ন ফরম নিজে কিনছেন না। সাংবাদিকদের এড়িয়ে নিজের লোকদের দিয়ে কিনিয়ে নিচ্ছেন।


তাদের তালিকাও বেশ দীর্ঘ নয়। তার মাঝে কেউ ক্ষোভের কারণে সংরক্ষিত আসনেও মনোনয়ন চাইবেন না। তাই নেত্রীর সু-নজর পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অনেকে।

এ তালিকায় আছেন ফরিদপুর-২ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নিলুফার জাফর উল্যাহ, নারায়ণগঞ্জ-৪ থেকে সারাহ বেগম কবরী, ঢাকা-৪ থেকে সানজিদা খানম ও কুষ্টিয়া-৪ থেকে সুলতানা তরুণ।

এদের মধ্যে নিলুফার জাফর উল্যাহ সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন ক্রয় করবেন না।

ঢাকা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সানজিদা খানম। মুন্সিগঞ্জের এ মেয়ে ঢাকায় এসে মহানগরের নেতৃত্বাধীন শ্যামপুর থানা সাধারণ সম্পাদকের পদে অধিষ্ঠিত হন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের টিকিট পেয়ে নির্বাচন করে বিএনপি প্রার্থী আবদুল হাই’কে বিপুল ভোটে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এরপর এলাকা ও নগরের নেতাদের সঙ্গে ভালই সম্পর্ক গড়ে তোলেন। দলের সিনিয়র নেতাদেরও দৃষ্টিতে চলে আসেন খুব সহজেই। দশম সংসদের মনোনয়ন নিশ্চিত জেনে এলাকায় কাজও করেছেন। কিন্তু, জোটের প্রার্থী থাকায় দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে শেষ পর্যন্ত আর নির্বাচন করা হয়নি তাঁর।

হাল ছাড়তে নারাজ ঢাকামহানগরের সংগঠনে সরব এ নেত্রী। নগর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দিয়েই নিজের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন তিনি নিজেই।

সানজিদা বলেন, ফরম কিনেছি, এবার নেত্রীর ইচ্ছা। তিনি চাইলে মনোনয়ন দিতে পারেন। না চাইলে দেবেন না। তার সিদ্ধান্তই সব।


সুলতানা তরুণ। কুষ্টিয়া-৪ আসন থেকে নবম সংসদের সদস্য ছিলেন। পারিবারিক জনপ্রিয়তার কারণে দল থেকে দু’বার মনোনয়ন পেয়ে নিজদলের বিদ্রোহীর কাছে একবার পরাজিত হলেও নবম সংসদে জায়গা করে নেন।

তবে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের থেকে প্রত্যাশিত মনোনয়ন পাননি। তারপরও বসে থাকতে চাননা তিনি। সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের জন্য প্রথমদিনেই কিনেছেন ফরম।

তার দেবর কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার মেয়র বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ থেকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে সংসদে জায়গা করে নেন অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী। অপরিচ্ছন্ন ইমেজের কারণে দশম সংসদে দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন।

তার স্থলে দলের টিকেট পেয়ে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন শামীম ওসমান। এজন্য সংসদে নির্বাচিত না হলেও অন্তত সংরক্ষিত আসনে নিজের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চান কবরী।

আর তাই আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যলয় থেকে বিতরণ ও জমাদানের প্রথম দিনেই প্রতিনিধি দিয়ে কিনিয়েছেন সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন ফরম।kobori-sm

তবে, এদের ভাগ্য নির্ধারিত ১৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টার পর। সেদিন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আগ্রহী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকেই চূড়ান্ত হবে তালিকা।

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন ২০০৪ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচনের জন্য কমিশন দল ও জোটওয়ারি তালিকা তৈরি করবে এবং ভোটার তালিকা ইসিতে টানিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এরপর ৩০০ আসনের বিপরীতে ৫০ সংরক্ষিত আসন দল বা জোটের অনুকূলে আসন বণ্টন করা হবে।

সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে প্রতি আসনের বিপরীতে সংরক্ষিত আসন দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ১৬৭টি। এ পদ্ধতিতে এবার আওয়ামী লীগ ৩৮, জাতীয় পার্টি ৬, স্বতন্ত্র ২ এবং জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টি ১টি করে সংরক্ষিত আসন পাবে।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর